ভারত- শ্রীলঙ্কা ম্যাচে কাশ্মীর-স্লোগান নিয়ে বিমানের চক্কর

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪৬ | প্রকাশিত : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪১

শনিবার বিশ্বকাপে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মধ্যেই হঠাৎ কাশ্মীর নিয়ে অভিনব উপায়ে ভারতের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর তা দেওয়া হয়েছে কি না আকাশপথে উড়তে থাকা বিমানের গায়ে লাগানো ব্যানারের মাধ্যমে!  

এক বার নয়, একাধিক বার বিরাট কোহালি, রোহিত শর্মাদের মাথার উপরে চক্কর কাটতে থাকল সেই বিমান। এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ক্ষুব্ধ ভারত। ভারতীয় বোর্ড থেকে ফোন করে খুব জোরের সঙ্গে আইসিসিকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হতেই হবে।

শনিবার হেডিংলেতে ম্যাচ চলাকালীন দেখা যায়, মাঠের উপরে আকাশে চক্কর কাটছে একটি বিমান। আর তার লেজের দিক থেকে উড়ছে একটি ব্যানার। তাতে লেখা ‘জাস্টিস ফর কাশ্মীর’। অর্থাৎ, কাশ্মীর নিয়ে সুবিচার চাই। গোল করে মাঠের উপরে বেশ কয়েক বার চক্কর কেটে সেই বিমান অদৃশ্য হয়ে যায়। ততক্ষণে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং প্রায় ভর্তি গ্যালারিতে আশি শতাংশ দর্শক ভারতীয়।

সঙ্গে সঙ্গে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মাঠের কাছেই লিডস ব্র্যাডফোর্ড বিমানবন্দর। খেলা চলাকালীন অনেক বিমানই উড়ে যায় মাঠের উপরের আকাশ দিয়ে। সাধারণত, বিমানবন্দরের আশেপাশে কঠোরতম নিরাপত্তা থাকে। তার উপরে বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট বলে বাড়তি নিরাপত্তার বলয় থাকার কথা। সেই নিরাপত্তার বলয়কে ফাঁকি দিয়ে একটি বিমান বারবার কী ভাবে ভারতের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আকাশে ঘুরতে থাকল, সেটা নিয়েই এখন চর্চা চলছে ভারতে।

কী করে হেডিংলের আকাশে ঢুকে পড়ল বিমান? ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসির জবাব, ‘আমরা অত্যন্ত হতাশ। এর আগে পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের সময়েও এ রকম বার্তা নিয়ে একটি বিমান উড়েছিল। তখনই পুলিশের কাছে আমরা অভিযোগ জানিয়েছিলাম। পশ্চিম ইয়র্কশায়ার পুলিশ তখন আমাদের বলেছিল, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। তার পরে এ দিনও ঘটল। আমরা হতাশ। খেলার মধ্যে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বার্তা বহন করাকে আমরা সমর্থন করছি না।’

কয়েক দিন আগে এ মাঠেই রক্তারক্তি হয়ে যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ম্যাচে। গ্যালারিতে দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ হয়। সেই ম্যাচেও আকাশে এ রকমই বার্তা নিয়ে উড়েছিল বিমান। সে দিন দেখা গিয়েছিল ‘জাস্টিস ফর বালোচিস্তান’ ব্যানার। তার পরেই গ্যালারিতে ঝামেলা শুরু হয়। এ দিন অবশ্য এক বার নয়, ভারতীয় সময় রাত ন’টার মধ্যে (ইংল্যান্ডের সময় সাড়ে চারটে) তিন বার আকাশে চক্কর মারে ওই বিমান। এবং, তিন বারই নতুন নতুন বার্তা লেখা উড়তে দেখা যায় বিমানের লেজ থেকে।

প্রথমে লেখা ছিল ‘জাস্টিস ফর কাশ্মীর’। তখন ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা বেকায়দায়। যশপ্রীত বুমরারা যখন স্লগ ওভার বোলিং করছেন, বিমানটিকে দ্বিতীয় বার দেখা যায় হেডিংলের আকাশে। এ বার আরও সরাসরি, আরও কড়া বার্তা লেখা— ‘ভারত, খুনোখুনি বন্ধ করো। কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে হবে।’ এর পর রোহিত শর্মা এবং কে এল রাহুল যখন ভারতকে অনায়াস জয়ের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন, মোটামুটি ২৩ ওভার নাগাদ বিতর্কিত বিমান ফিরে আসে। এ বার ব্যানারে লেখা— ‘হেল্প এন্ড মব লিঞ্চিং ইন ইন্ডিয়া’। অর্থাৎ, ‘ভারতে গণহত্য বন্ধ করতে সাহায্য করুন’।

আইসিসির দাবি, তারা পশ্চিম ইয়র্কশায়ার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানিয়েছে, দ্রুতই যেন বিমানচালকদের খোঁজ করা হয়। তবে নালিশ করেও সুরাহা কিছু হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। স্থানীয় কয়েক জনের কথায়, হেডিংলের আশেপাশের অঞ্চল এবং ইয়র্কশায়ারে পাকিস্তান বংশোদ্ভূতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রাথমিক খোঁজখবরে অনুমান, এখানকার কেউ এমন কাণ্ড বাধিয়েছে।

রোহিতের সেঞ্চুরির ঠিক আগে চতুর্থ বারের জন্য ফিরে আসে বিমানটি। এ বার তার বার্তা— ‘লাভ ক্রিকেট, লাভ মুমতাজ-লিডস’। কেউ কেউ তা দেখে বলতে শুরু করলেন, মুমতাজ নামে এখানে একটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁ রয়েছে।

এদিকে  এ ঘটনায়র জেরে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়ে ম্যাঞ্চেস্টার এবং বার্মিংহামে সেমিফাইনাল চলার সময় মাঠের উপরের আকাশে বিমান চলাচলই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা হয়েছে। আইসিসি সূত্রের খবর, এই দুই শহরেরই পুলিশ রাজি হয়েছে খেলা চলাকালীন মাঠের উপরের আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য। ক্রিকেট খেলার জন্য আকাশপথ বন্ধ থাকার ঘটনা বিরল।

(ঢাকাটাইমস/৭ জুলাই/ডিএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :