পিপলস লিজিং অবসায়নের ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ২০:১৬ | প্রকাশিত : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৬

পিপলস লিজিং অবসায়নের ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের। তবে যারা এখানে আমানত রেখেছেন তাদের অর্থ দ্রুত আইন অনুযায়ী ফেরত দেয়া হবে। এক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হবে।

বুধবার পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের পরিমাণ দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ আছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়টা এখন হাইকোর্টের উপর নির্ভরশীল। যদি পাওনার তুলনায় দেনার পরিমান কম হয় তাহলে দিতেতো কোন অসুবিধা নেই। আর দেনা বেশি হয় সেটা আইন অনুযায়ী পাবে। আমরা হিসাব শুরু করেছি দেনা পাওনার।   

কোন পদ্ধতিতে গ্রাহকের টাকা দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হাইকোর্টের যে রায় আসবে সে রায়ের পরেই জানাতে পারবো। এই বিষয়ে আমরা একজন আইজীবী নিযুক্ত করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কাজ করা উচিত সে কাজ আমরা শুরু করেছি।

এক প্রশ্নের জাবাবে শাহ আলম বলেন, এটা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেনা পাওনা হিসেব করে যাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে দ্রুত সময়ে আদায় করবো। আর যাদের টাকা আছে সেই তালিকা আমরা সংগ্রহ করছি। যারা টাকা রেখেছে আনুপাতিক হারে আইন অনুযায়ী আমানত কারীরা টাকা পাবে সেটার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ বাংকের । সে নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেয়া হবে।

আইনে বলা নেই অবসায়নের জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে তবে কেন সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হলো। তাহলে কি টাকা কম হলে সেটা সরকার দিবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে অনুমোদন চেয়েছি বিষটা সেরকম নয়। আমরা সরকারের কাছে মতামত চেয়েছি। পরামর্শ চেয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে  মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, এখন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’র টাকা পয়সা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখনও কিন্তু আমাদের অবজারভার নিয়োগ আছে। এ ধরনের আসঙ্কার কারন নেই।  

তিনি আরও বলেন, অন্যন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা যেন ফেরত পায় সে ব্যপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই মিলে ম্যাসেস দিতে চাই যত ভাল প্রতিষ্ঠাই হোক না কেন যদি আমানকারীরা এক বারে টাকা উঠাতে চায় তাহলে ভালো প্রতিষ্ঠানও হিমশিম খাবে। আমরা আমানকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে যথানিয়মে হাইকোটের নিদেশনা মোতাবেক যা যা করোনিয় সেটা করবো।

প্রসঙ্গত, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’র (পিএলএফএসএল) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে দুরবস্থায় রয়েছে। তারা আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পরছে না। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

পিপলস লিজিংয়ের আর্থিক অবস্থা:-
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে দুই হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো নগদ অর্থ সংকটে রয়েছে। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
তাদের মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

আইনে যা বলা আছে:-
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২ (৩) ধারা অনুযায়ী, আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোম্পানি আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে কোনো আর্থিকপ্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য আদেশ দিতে পারবে।
একই আইনের ৮ ধারায় যেকোনো আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন কারণে যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে আমাতকারীদের স্বার্থহানি হয় এমনভাবে ব্যবসা করা, দায় পরিশোধে অপর্যাপ্ত সম্পদ, অবসায়ন বা কার্যক্রম বন্ধ, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ ইত্যাদি।

অর্থ ফেরতের বিষয়ে আইনে যা আছে:-
সংশ্নিষ্টরা জানান, অবসায়ন হওয়া প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীর অর্থ কোন উপায়ে ফেরত দেয়া হবে, সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনে কিছু বলা নেই। এক্ষেত্রে আদালত যে উপায়ে অর্থ পরিশোধ করতে বলবেন, তা কার্যকর হবে। তবে সাধারণভাবে সম্পদ বিক্রি এবং সরকারের সহায়তার আলোকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হয়।

এজন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠানের দায় ও সম্পদ নিরূপণ করা হয়। এরপর একটি স্কিম ঘোষণা করা হয়। যেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করে কোন পরিমাণ আমানত কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে তার উল্লেখ থাকে।

ঢাকা টাইমস/ জেআর/আরএ/ ১০ জুলাই

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :