আমাদের যা আছে অনেক দেশেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩০

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্যের ‘ব্র্যান্ড’ করতে হলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি একটি রোডম্যাপ তৈরি করলে পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যেসব ঐতিহ্য এবং কালচার আছে সেগুলোকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। আমাদের যা আছে তা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই।’

বৃহস্পতিবার ঢাকার ‘ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম’ হিসেবে মর্যাদা পাওয়া উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঢাকা অ্যাজ দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ শিরোনামের অনুষ্ঠানটি আজ শেষ হবে।

গত বছর আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পর্যটন মন্ত্রীদের দশম সম্মেলনে ২০১৯ সালের জন্য ঢাকাকে ‘ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  ওই সম্মেলনে মুসলিম ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজমকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং হিসেবে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সব দেশ সম্মত হয়।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ওআইসিভুক্ত দেশগুলো ব্যবসা বাণিজ্য, ট্যুরিজম সব ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারি, সেই সুযোগটা আমাদের রয়েছে। আমরা সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ওআইসির ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে মুসলিম পর্যটকের  সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।

থমসন-রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদন বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালে ইসলামি পর্যটনের বাজার ছিল ১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যার মধ্যে ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের বাজার ছিল প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ইসলামি পর্যটনের বাজার বার্ষিক ৮.৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। সুতরাং ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারবে।’

ওআইসি দেশগুলোতে পর্যটনের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন পূরণে পর্যটন খাতের বিকাশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে ইসলামী পর্যটন আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত, যেখানে আমাদের সবার একত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ওআইসি রাষ্ট্রসমূহের পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য আমার প্রচেষ্টা, সমর্থন ও সহযোগিতা সব সময় থাকবে।’

বাংলাদেশে পর্যটনের বিকাশে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মুসলিমদের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন খেলতে না পারে, সে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

‘আমাদের যা আছে পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই’

বাংলাদেশের যেসব ঐতিহ্য এবং কালচার আছে সেগুলোকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘সারা বিশ্বে পর্যটন একটি বর্ধনশীল খাত। এ ব্যাপারে আমাদের পিছিয়ে থাকা চলবে না। এ খাতকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। আমাদের যা আছে তা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রয়েছে ৮০ মাইল লম্বা সমুদ্র সৈকত যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবন ছাড়াও আমাদের রয়েছে অনেক প্রাচীন ও প্রত্নতত্ত্ব এবং ইসলামিক স্থাপনা। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রাচীন শহর ঢাকা অবস্থিত।’

‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ফুটবল স্টেডিয়াম করা হয়েছে। প্রয়োজনে পর্যটকদের জন্য সেখানে আরও ভালো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যে স্থাপনায় থাকবে আন্তর্জাতিকমানের হল রুম। কক্সবাজারের মতো এত সুন্দর সি বিচ পুথিবীর কোথাও নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় আছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হোসনি দালান, আমাদের মসলিন, জামদানি, ঢাকার বাকরখানি, পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ইকোপার্ক, সাফারি পার্ক, ইত্যাদি। পর্যটকরা বাংলাদেশে এসে এগুলো উপভোগ করতে পারেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল কাবা শরিফের আদলে। পরবর্তীতে আমরা প্রয়োজনে এটাকে আরো বর্ধিত করি। সে সময় সৌদি বাদশা বায়তুল মোকাররমের উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করেছিলেন।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওআইসি রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে থেকে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করব। সবার সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজ করব। কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে নিজেরাই সমাধান করব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন ওআইসির সহকারী মহাসচিব মুসা ইলিকায়া। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

ঢাকাটাইমস/১১জুলাই/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :