তিস্তা-ধরলায় বাড়ছে পানি, কুড়িগ্রামে দেড় শ গ্রাম প্লাবিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২১:২০ | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪৮

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ছয় সে.মি ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার দুই সে. মিটার ওপর দিয়ে বইছিল শুক্রবার দুপুর থেকে। পানি বাড়ছে তিস্তা ও দুধকুমার নদীতেও।

এতে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

এদিকে কুড়িগ্রামের নদ-নদী অববাহিকার চর-দ্বীপচরগুলোতে সম্ভাব্য বন্যাবস্থায় নৌ ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১১টি থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান। এ নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ টহল জোড়দার করেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলার সেতু পয়েন্টে ও ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদরের চর যাত্রাপুরে গারুহারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।  

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সবকটি চরের আমন বীজতলা, পাট, ভুট্রা ও সবজি  ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। নিচু এলাকার ঘর বাড়ি ডুবে যাওয়ায় গবাদীপশু নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। এদিকে পানি বাড়ার সাথে সাথে নদ-নদীর ভাঙন তীব্ররুপ ধারণ করছে। ধরলার ভাঙনে সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। চিলমারীর নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে নদী ভাঙনে গত ২৪ ঘন্টায় ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, তার ইউনিয়নের বেশীরভাগ চরে পানি ঢুকেছে। এক হাজার পরিবারের পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর হাট সড়কের শুলকুর বাজার এলাকায় ধরলা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে নির্মাণাধীণ ব্রিজের পাশের বাঁশের সাঁকো তলিয়ে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই ব্রিজ এলাকার মানুষজন নৌকায় পাড়াপাড় করলেও হাটে পণ্য আনা নেয়া করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৫০ মে. চন টাল, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট উপজেলা পর্যায়ে বণ্টন করা হয়েছে। মজুদ আছে ১৫০ মেট্রিক টন চাল ও তিন লাখ টাকা।

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :