বন্যার খোঁজ রাখছি, শৈথিল্য নাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:১৫ | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ২০:২৪

এখন বৃষ্টি, বন্যা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে তা প্রতিনিয়ত খবর নিচ্ছেন তারা। যার যার দায়িত্ব সবাই পালন করছে। এখানে শৈথিল্য নাই।

শুক্রবার গণভবনে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগে দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কথা বলেন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদেরকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। এখন বলার প্রয়োজন হয় না। এমনভাবে সিস্টেম করা আছে যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসলে কার কী করণীয় সঙ্গে সঙ্গে তারা সেই কাজগুলো করে। ...আমাদের রাজনৈতিক দলকেও সক্রিয় থাকতে হবে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়ায়।’

‘আমরা মানুষকে অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াব। মানুষের কল্যাণে কাজ করার নীতি নিয়ে কাজ করি বলেই আজকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হয়।’ 

‘২১ বছর (১৯৯৬) পরে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন  আমাদের লক্ষ্যই ছিল অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে মর্যদাশীল জাতি হিসাবে গড়ে তোলা। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের বুকে তাদের হারানো সš§ান যেন ফিরে পায় সেটা আমাদের প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু তখন আমরা পাঁচবছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলাম। ওই পাঁচবছরে আমরা যথেষ্ট উন্নয়ন কাজ করেছিলাম। কিন্তু সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের এখন ২০১৯ পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় আছি। এই এক দশকের মধ্যে আজকে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সারাবিশ্বে বাঙালি জাতির একটা সš§ান রয়েছে।’

‘আমাদের এই চলার পথ সহজ ছিলো তা না, কঠিন ছিলো। পদে পদে বাধা, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’

‘আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি তা ধরে রাখা। যার জন্য রাজনৈতিক শক্তি খুব প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন। জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। আজকে বাংলাদেশকে আমরা এখানে নিয়ে আসতে পেরেছি জনগণের শক্তির কারণে।’

উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ রাজনৈতিক দল হিসাবে নিজেদের একটা চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ছিল যে আমরা সরকারে আসলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলো তৈরি করা ছিলো বলেই আমরা সরকারে আসার পরেই কাজগুলো করতে পেরেছি।’

‘আগামীদিনে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, সেই পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। সেই প্রস্তুতিও আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলো আমাদের ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। বাধাগুলো আমাদের অতিক্রম করতে হবে।’

এই লক্ষ্য পূরণে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাও তাগিদ দেন দলের সভাপতি। বলেন, ‘আমাদের চিন্তাচেতনার নিরিখে সমন্বিত করে প্রতি পদক্ষেপে যেন পরিকল্পনা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সকল বাধাকে অতিক্রম করে এগোতে পারি ।’

‘উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা আমাদের থিংকট্যাঙ্কের মতো। আপনাদের সকলকে আরেকটু সক্রিয় হতে হবে। আমাদের অফিসসহ সব ব্যবস্থাই করা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি বিষয়ের উপ-কমিটিও রয়েছে সেখানে আপনারা অনেকেই বসেন। সেখানে আপনারা মিটিং করেন সেটা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

দেশের কিছু লোক রয়েছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক ভাবে যতদূরই আগাই, কিন্তু কিছু লোকের এটাকে সবসময় ভিন্ন চোখে দেখা অভ্যাস। এরা আসলে কখনও গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের দম বন্ধ হয়ে যায়, তারা বোধহয় নিঃশ্বাস নিতে পারেন না। অস্বাভাবিক কিছু থাকলে তাদের মনে হয় তাদের দাম বাড়ে।’

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :