যশোরে সিজারের সময় ব্লেডে মাথা কাটল নবজাতকের

যশোর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:২৮ | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ২০:৪২

যশোর শহরের কিংস হসপিটালে এবার এক প্রসূতির সিজারের সময় ব্লেডের আঘাতে গর্ভের সন্তানের মাথা কেটে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য নবজাতককে কোন চিকিৎসাও করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার সকালে নবজাতককে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর বিষয়টি ফাঁস হয়।

ভুক্তভোগী নবজাতকটি সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতিঘাটা পান্থাপাড়া গ্রামের ইকরাম হোসেন ও নাজনীন নাহার পলি দম্পতির।

শিশুর বাবা ইকরাম জানান, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর যশোর সদর হাসপাতালে থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন। ১০ জুলাই প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে কিংস হসপিটালে নেয়া হয়। সেখানে ডা. আতিকুর রহমান রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দ্রুত সিজার করার পরামর্শ দেন।

ইকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, ভর্তির পরপরই কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ডা. আতিকুর রহমান তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। নবজাতককে বাইরে আনার পর দেখা যায় মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। তখন বিষয়টি জানানো হলে ডা. আতিকুর রহমান খান তাদের বলেন, ‘মাথায় হালকা নখের চোট লেগেছে। সমস্যা নেই, ঠিক হয়ে যাবে।’ এরপর বাচ্চাকে কোন ডাক্তার দেখাতে দেয়া হয়নি। বারবার বলা হয়েছে, ‘বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়ান। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমার শিশু সন্তান দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শুধু কান্নাকাটি করতে থাকে। গতকাল সকালে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে কিংস হাসপাতাল থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করার কারণে ডা. আতিকুর রহমান গর্ভের সন্তানের মাথায় ব্লেড দিয়ে আঘাত করেছেন।’

এ ব্যাপারে যশোর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজল মল্লিক বলেন, ‘শিশুটিকে মাথাকাটা অবস্থায় এখানে আনা হয়েছে। কীভাবে তার মাথা কেটেছে ভর্তির সময় তা শোনা হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. আতিকুর রহমান খানের কোনো বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ডিগ্রি নেই। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। পরে যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। এই পদ থেকেই তিনি অবসরে যান। বর্তমানে কিংস হসপিটালে গাইনি ও সার্জারি বিভাগের রোগীদের অস্ত্রোপচার করেন। আবার অস্ত্রোপচারের আগে তিনি নিজেই নিয়ম না মেনে রোগীকে অজ্ঞান করেন।

এ বিষয়ে ডা. আতিকুর রহমান খান বলেন, ‘রোগীর পানির পরিমাণ একেবারেই কম ছিল। তাই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ সময় ব্লেডের আঘাতে আনুমানিক তিন মিলিমিটার লম্বায় ও আধা মিলিমিটার গভীরে ক্ষত হয়েছে। সামান্য বিষয়টিকে বড় করা হচ্ছে।’

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :