অধ্যাপক ফারুকের পাশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৩

দুধ নিয়ে গবেষণা করার পর হুমকির শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে মানবন্ধন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিরাপদ খাদ্য চাই, ফারুক স্যারের পাশে দাঁড়াইব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। এসময় অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের  অপসারণ দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান সহকর্মী অধ্যাপক ফারুককে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ মনে করেই জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য গবেষণার ফল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। সেই বিষয় নিয়ে আমাদের একজন অতিরিক্ত সচিব যে মন্তব্য করেছেন, আমরা কোনোভাবেই এই মন্তব্যকে সাধারণ মনে করি না।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই অতিরিক্ত সচিবকে অপসারণ করা দরকার, তার শাস্তি হওয়া দরকার। জনস্বার্থে এই বিষয়টি নিয়ে যেখানে আরও অধিকতর গবেষণা করা কিংবা এটি খতিয়ে দেখার দরকার ছিল, সেই বিষয়টিতে উনি গুরুত্ব না দিয়ে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে, যিনি গবেষণা করেছেন, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে তাকে অপমান করা হয়েছে।

এসময় বক্তারা বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। আর যারা অনিরাপদ দুধ বাজারজাত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। অধ্যাপক ফারুকের গবেষণাকে ভূল প্রমাণ করতে হলে নতুন করে গবেষণা করতেও আহ্বান জানান।

গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ফারুক।

এরপর এ নিয়ে চারিদিকে হইচই শুরু হয়।  পরে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর তাদের ওই গবেষণা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। 

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও বাজার থেকে ১০টি নমুনা নিয়ে ১০টিতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান ঢাবির এই অধ্যাপক । এরপর দিন তার পক্ষে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এস এম আব্দুর রহমান  বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে বিএসটিআইর অ্যান্টিবায়োটিক টেস্ট করার কোনো পদ্ধতি নেই। অনতিবিলম্বে বিএসটিআইর সক্ষমতা বাড়ানো হোক এবং সেখানে সৎ লোকের নিয়োগ দিয়ে বিএসটিআইর মাধ্যমে এটা উদঘাটন করা হোক।

মানববন্ধনে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মো. আবদুজ জাহের বলেন, ‘যদি কোনো গবেষণা আপনি ভুল প্রমাণ করতে চান, তাহলে আরেকটা গবেষণা দিয়েই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব  তিনি ফারুক স্যারকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শ্রদ্ধেয় বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক, তার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে আমরা জানি, তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।   যেখানে আপনার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, সেটা আপনার জার্নালে প্রকাশ করার দরকারটা কী? সেটা আপনি তাৎক্ষণিক প্রকাশ করবেন। আগে তো মানুষ, মানুষের স্বাস্থ্য।

তিনি বলেন, ‘এখানে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এমন একটি চক্র করে রাখছে, যেটার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে, তার সত্যটাও যদি প্রকাশ করেন, তাহলে ফারুক স্যারের মতো হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

ওয়াসার পানি নিয়ে আন্দোলনকারী মিজানুর রহমান এই মানবন্ধনে সংহতি জানিয়ে বলেন,  ‘যেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তার, ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার , ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, ডাকসুর সদস্য মুহা. মাহমুদুল হাসান, রাইসা নাসের, নজরুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য চাই আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাচ্চু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুলাই/বিইউ/ডিএম)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :