মুড়াপাড়া ফেরিঘাটে ডুবেছে গ্যাংওয়ে, যাত্রীদের দুর্ভোগ

আতাউর রহমান সানী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৮:৫৪

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকায় শীতলক্ষ্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি দিয়েই পারাপার হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন। শুধু তাই নয়, পল্টুনের অবস্থা জরাজীর্ণ। প্রতিদিন দেশের প্রায় ১৭টি জেলা থেকে আগত যাত্রীরা শীতলক্ষ্যা নদীর এ ফেরিঘাট চলাচল করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্রগ্রাম সড়ক যোগে আসা প্রায় ১৭টি জেলার সাধারণ যাত্রীরা মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে পারাপার হয়ে এয়ারপোর্টসহ রাজধানীতে প্রবেশ করছেন। বিশেষ করে কুমিল্লা, দাউদকান্দি, চাঁদপুর, মতলব, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগাম, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের যাত্রীরা এ পথ ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া ভুলতা ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে এই ফেরি ব্যবহার করছে অনেক যানবাহন। বর্তমানে ফেরির দায়িত্বে রয়েছেন সুমন এন্টার প্রাইজের মালিক সমর আলী সরদার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পারের রাস্তাটি কম প্রশস্ত। এ সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সবসময়ই এসব ভাঙা গর্তে পানি জমে থাকে। গর্তে পড়ে প্রায় সময়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ফেরি দুটি দিয়ে এসব যানবাহন সময় মতো পারাপার করতে না পারায় বেশির ভাগ সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ফেরিঘাটের দুই পাড়ই অতিরিক্ত ঢালও হওয়ায় অনেক সময় গাড়ি উঠতে বা নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা বা বিকল হয়ে পড়ে।  দুটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি প্রায় ২৮ বছর আগের, অপরটিও একই সময়ের। ইঞ্জিন ও ফেরির বডি মেরামত করে এখন পর্যন্ত চালানো হচ্ছে ওই দুটি ফেরি। এসব সমস্যা নিয়ে ইজারাদাররা কর্তৃপক্ষকে জানালে তেমন কোন কাজ হয় না। যানবাহন নিয়ে ফেরি ছাড়লে সময় মতো ওই পার না পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল স্রোতে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পরে অপর ফেরির সহযোগিতা নিয়ে টেনে আনতে হয়। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে গ্যাংওয়ে ডুবে গেছে। পানি ঢুকে পল্টুনও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় এ ফেরিঘাটে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে।

সুমন এন্টার প্রাইজের মালিক সমর আলী সরদার বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যার ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানালে তারা এসে কাজ করে দিয়ে যায়, কিন্তু ফের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে ফেরির ইঞ্জিন সচল থাকলেও গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। গ্যাংওয়ে উপরে উঠিয়ে দিলে ভোগান্তিটা কমে যাবে। এছাড়া ফেরির অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজন।’

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদের বিভাগের এসডি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ফেরির সমস্যা হলে সমাধানও করা হয়। এখন যে সমস্যা রয়েছে, তা সমাধান করা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :