প্লিজ, আইন হাতে তুলে নেবেন না

রেজাউল করিম
 | প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫০

সেতুতে মাথা লাগে এমন গুজব আজকের না। পুরনো গল্প। ছোটবেলাতেও শুনতাম। তবে এবারের গুজব ভয়ঙ্কর রুপ নিয়েছে।

আসলে কোনো দিনই সেতুতে মাথা লাগেনি। পদ্মা সেতুতেও লাগবে না। বিজ্ঞান ও ধর্ম কোনটিই মাথার বিষয় বিশ্বাস করবে না। মাথা দিলে সেতুর কি হবে? ভালো মানের রড সিমেন্ট সেতু মজবুতের শর্ত।
সম্প্রতি মাথা কাটা সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পরে দেখা যাচ্ছে কেউ ভিক্ষুক, কেউ কারও স্বজন। সবই হজুগে হচ্ছে। প্লিজ, আইন হাতে তুলে নেবেন না।

এমন বর্বরতায় আমি-আপনি কেউ নিরাপদ না। ঘটনাচক্রে আপনিও হতে পারেন সন্দেহপ্রবণদের শিকার। রাজধানীর বাড্ডায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা গেলেন রেনু নামের এক মা। রাজশাহীতে শিশুদের মাঝে এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির চিপসের প্রচারণায় এসে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারকে গণপিটুনি খেতে হলো। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সিরাজ নামে বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। আহত হলো রেশমা নামে আরেক মানসিক প্রতিবন্ধী।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গণপিটুনির শিকার হলো ভ্যানচালক। এ রকম অসংখ্য উদাহরণ চোখের সামনে। অন্যায় করলে বিচার হবে। অপরাধীকে আটকে পুলিশে দিন। মূল ঘটনার জন্য অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। তার পরিচিত বা পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করা যেতে পারে। আপনি বলবেন, এত সময় কোথায়? পুলিশে দিলে যে বিচার হবে নিশ্চয়তা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর যা-ই হোক, কেবল সন্দেহের বশে মানুষ হত্যা অযৌক্তিক?

সবশেষে বলব সন্তানকে সতর্কতা শিক্ষা দিন। এই গুজবটাকে কাজে লাগিয়ে কোনো পাচারকারী বা শত্রুতাবশত কেউ আমাদের ক্ষতি করে যেন সেতুর ওপর দোষ চাপাতে না পারে। তবে নিশ্চিত থাকুন সেতুতে মাথা, অবিশ্বাস্য কথা। আপনার সন্তানের সুরক্ষা কামনা করছি।

লেখক: সংবাদকর্মী ও পরিচালক, ইমপ্রুভ শিক্ষা পরিবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :