প্রিয়ার ‘মশার’ ইস্যুতে কামান নয়: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইম
 | প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৭
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করা প্রিয়া সাহার বিষয়ে তড়িঘড়ি কিছু করতে চান না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, ‘আমরা রয়ে সয়ে অগ্রসর হচ্ছি, মশা মারতে আমরা কামান দাগাতে চাই না।’

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উনি (প্রিয়া) এনজিও সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, আবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অ্যাপেক্স বডির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি। কাজেই এটাকে তো তুচ্ছ জ্ঞান আমরা করতে পারি না। বিষয়টার গভীরে আমরা যাচ্ছি, সব কিছু জেনেশুনে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’

প্রিয়ার বক্তব্য কাল্পনিক বক্তব্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর এতে দেশকে ছোট করা হয়েছে- এমন কথাও বলেন কাদের।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনায় ভিডিও প্রকাশের পর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে দেশে। প্রিয়া দাবি করেছেন, বাংলাদেশে থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেছে। এখন যে এক কোটি ৮০ লাখ হিন্দু আছে, তারা নির্যাতনের শিকার। তারা দেশ ছাড়তে চান না, ট্রাম্প যেন হস্তক্ষেপ করেন।

বৃহস্পতিবার কাদের এেই বক্তব্যকে দেশদ্রোহ বলেছিলেন। তবে শুক্রবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে বলেন, প্রিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নয়।

এরই মধ্যে প্রিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন খারিজ হয়েছে আদালতে। আর প্রিয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বিবিসিকে বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা নিয়ে এই সংখ্যার কথা তুলেছেন তিনি।

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, প্রিয়া দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কাদেরের কাছে এ বিষয়েই ছিল সাংবাদিকদের প্রশ্ন।

প্রিয়া সাহা দেশে না ফিরলে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না- এমন প্রশ্নে সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘উনি নিজেই বলেছেন দেশে ফিরে আসবেন। আর এটা এমন একটা বিষয় নয় যে জোর করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে, এরকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা খতিয়ে দেখছি, সেরকম কিছু হলে পরে দেখা যাবে।’

প্রিয়া সাহার বিষয়ে সরকার পিছু হটছে কিনা- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এটা ব্যাকফুটের কোনো বিষয় না। বিষয়টা হলো কমিউনাল কলিশন সৃষ্টির বিষয়। কারণ, সে সামান্য ব্যক্তি হলেও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনিও গিয়েছিলেন হোয়াইট হাউজে।

প্রিয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বিবিসিকে আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে অভিযোগ করেছেন, তাতেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তবে ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্যে তিন কোটি ৭০ লাখ লোক মিসিং- এ কথা তো কোথাও নাই।’

‘বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ মাইনরিটি মানুষ- এ ধরনের উদ্ভট-কাল্পনিক বক্তব্য উনি কেন দিলেন, কেমন করে দিলেন? আর শেখ হাসিনা মাইনরিটি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বক্তব্যের সাথে সংখ্যাতত্ত্বের ওই বিষয়টার তো কোনো মিল নেই।’

‘তিনি বলেছেন দেশে ফিরবেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যে তিনি কী উদ্দেশ্যে বলেছেন, কেন বলেছেন, কী ইনফরমেশনের ভিত্তিতে বলেছেন- সেটা তাকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে।’

প্রিয়া সাহার স্বামীর বিষয়ে এক প্রশ্নেরও জবাব দেন কাদের। ওই গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্ন ছিল তার স্বামীর দুদকে চাকরি করার বিষযে।

জবাবে কাদের বলেন, ‘উনার স্ত্রী অন্যায় করল, সেটার জন্য স্বামীকে কেন অভিযুক্ত করতে হবে? এটা তো কোনো আইনে নেই। আমরা অহেতুক এ ধরনের বিষয়কে কেন ইনভাইট করতে যাব?’

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পেছনে কাদের প্ররোচনা থাকতে পারে- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘শেখানো কথা কিনা- সেটা আমাদের জানা নেই। কারো প্ররোচণা করেছে কিনা, পেছনে কোনো রাজনৈতিক মতলব আছে কিনা, উসকানি আছে কিনা, বিষয়টা আমাদের জানতে হবে এবং আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি।’

ঢাকাটাইমস/২২জুলাই/এনআই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :