অনিয়মে ডোবা বিআইএফসিরও অবসায়নের চিন্তা

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৪:০০

অবসায়ন হতে যাওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-পিএলএফএসএলের মতোই চরম দুর্দশায় একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তারাও ধার দেনায় জর্জরিত, ফেরত দিতে পারছে না আমানতে টাকা। পরিশোধ করতে পারছে না সুদও। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি- বিআইএফসি এর বর্তমান অবস্থা এমনি ঘটেছে। এসব অনিয়মের কারণে এই প্রতিষ্ঠানটিকেও অবসায়ন করতে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইতিমধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর পর পর দুটি প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন এই খাত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে কি না, এ নিয়ে আছে প্রশ্ন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পিএলএফএসএলের অবসায়নের ঘোষণার আসার পর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এক দফা। বিআইএফসির ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত এলে কী হয়, সেটা নিয়েও আছে নানা আলোচনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিআইএফসির পরিচালনা পর্ষদের অযাচিত হস্তক্ষেপে দেয়া হয়েছে ঋণ। এখন তা ফেরত আসছে না। ফলে বিআইএফসির মোট ঋণের ৯৬ শতাংশই খেলাপি। কোনো পরিচালন আয় না থাকায় প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ছয় কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির।

ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার মূলধন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিআইএফসিতে রয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকা। এ কারণে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পর্ষদ ভেঙে দিয়েও কোনো ফল আসেনি। রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়ম করেও পার পাচ্ছেন সাবেক-বর্তমান পরিচালকরা।

 

পিপলস লিজিংয়ের মতো অন্যান্য যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংকটে রয়েছে তাদের অবসায়ন করা হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম বলেন, ‘আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের। এজন্য যা যা করা দরকার আইন অনুযায়ী তা-ই করা হচ্ছে। আমরা আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, তারা যেন কোনো বিপদে না পড়ে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সজাগ রয়েছে।’

অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশের আর্থিক খাত নানা সমস্যায় ভুগছে। এর মূল কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্ষদই ঋণ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। উচ্চপর্যায়ের লোকেরা যখন অনিয়ম করে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ।’

‘গ্রাহককে প্রলোভন দেখিয়ে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে, আবার ঋণ বিতরণে কোনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে না। এতে ঋণ ফেরতও আসছে না। খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নগদ অর্থ সংকট তো রয়েছে। এমন চলতে থাকলে গ্রাহক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখবে না। যা আগামীতে ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন বলছে লাইসেন্স নেয়া ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল চারটি আছে নিরাপদ সবুজ তালিকায়। চরম ঝুঁকিতে বা লাল তালিকায় আছে ১২টি। আর ১৮টি চলছে টেনেটুনে যেগুলোকে রাখা হয়েছে কম ঝুঁকির হলুদ তালিকায়।

অনিয়ম-দুর্নীতি, নামে-বেনামে ঋণ নেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দশা হয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকে যেভাবে নজরদারি করা হয়, এনএফবিআইএর প্রতি সে রকম নজরদারি ছিল না বলে এই দশা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদের চেয়ে দেনা বেশি, তারল্য সংকটে চলছে ধারদেনা করে চলছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা জানার জন্য কয়েকটি সূচকের ওপর বিশেষ পদ্ধতিতে নিরীক্ষা চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি, ঋণঝুঁকি, সম্পত্তির (ইকুইটি) মূল্যজনিত ঝুঁকি ও তারল্য অভিঘাত- এ চার ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ তালিকাভুক্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, লাল তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বিআইএফসি, পিপলস লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, রাষ্ট্রায়ত্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), প্রাইম ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্সিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স।

এর মধ্যে বিআইএফসি, ফার্স্ট ফাইন্যান্স এবং প্রিমিয়ার লিজিং তার আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যত্র চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৮জুলাই/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :