বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৪.৮ শতাংশ নির্ধারণ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩২

চলতি (২০১৯-২০২০) অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগের (গত অর্থবছরের) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস. কে. সুর চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, বিআইএফইউ-এর প্রধান আবু হেনা মো. রাজি হাসান, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে চলতি অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি (মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্ট) কর্মসংস্থানমুখি প্রবৃদ্ধি সহায়ক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ পরিমিত রেখে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রশাসনের লক্ষ্যে ঘোষিত মুদ্রানীতি আগের মত সতর্কভাবে সংকুলানমুখি রয়েছে।

গভর্নর বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অর্জন হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ১ শতাংশ।

মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেন, শতকরা হিসাবে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি দেখালেও বাস্তবে বেসরকারি খাতের ঋণের মোট প্রবৃদ্ধি সরকারি অংশের ৭ দশমিক ৩ গুণ বেশি।

নতুন মুদ্রানীতিতে গড় সুদের হার কমিয়ে আনা হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের গড় হার ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের গড় হার কমে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে আসে।

নতুন মুদ্রানীতিতে সুদহার, নগদ জমা ও তরল সম্পদের বিধিবদ্ধমাত্রাগুলো আগের মুদ্রানীতি থেকে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেন, ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট নেই। বর্তমানে ব্যাংক খাতে তারল্য রয়েছে ৮৫ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। তবে সব ব্যাংকের তারল্য প্রবাহ এক না। কোনো ব্যাংকের হয়তো অনেক বেশি আছে, আবার কোনো ব্যাংকের হয়তো কিছুটা কম আছে। এছাড়া, আন্তঃব্যাংকগুলোর কলমানি রেটও স্বাভাবিক রয়েছে। এর হার এখন চার শতাংশ বলেও জানান গভর্নর ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণার কোনো তাৎপর্য নেই।

প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী কর্মসংস্থান না হওয়া প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, এটা নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নাই। কর্মসংস্থান বাড়বে। রেমিট্যান্স প্রণোদনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেমিট্যান্সে প্রণোদনার বিষয়ে কোনো অপব্যবহারের সুযোগ নেই। বরং প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যংক একটি গাইডলাইন করছে। সেই গাইডলাইনটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এই গাইডলাইন অনুযায়ী প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা দেওয়া হবে।

টাকার মান কমানো প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেশ যুক্তিসঙ্গত আছে। ফলে টাকার মান অবনমনের কোনো প্রয়োজন নেই।

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি খারাপের দিকে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক চেষ্টা করেছিল এটিকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা এটি অবসায়ন করতে বাধ্য হয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেন, ২০১৮ সালে আমরা কেন ফারমার্স ব্যাংক অবসায়ন করলাম না, এটা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আবার ২০১৯ সালে পিপলস লিজিং কেন অবসায়ন করলাম এটা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে কেনো বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিং বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সমালোচনা হবেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ফজলে কবির বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিবেচনা করে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছর মেয়াদে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। আসলে এগুলো মূলত রিপেমেন্টের স্বার্থেই করা হয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে পূর্বের সার্কুলার সংশোধন করার দরকার নেই। মূলত এটা করার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে চালু থাকবে। এতে করে কর্মসংস্থান ঠিক থাকবে।

(ঢাকাটাইমস/৩১জুলাই/আরএ/জেবি)

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :