‘বঙ্গবন্ধু শোষিত মানুষের মুক্তির ঠিকানা’

চট্টগ্রাম ব্যুরো
 | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫০

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ণ অবয়বে উদ্ভাসিত হচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথ তার ‘ভারতবর্ষের ইতিহাস’ প্রবন্ধে লিখেছেন যে, সেই জাতিই ভাগ্যবান যার নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণার রস খুঁজে পায়। আমাদের বড়ই দুর্ভাগ্য যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহত্তম অর্জন এবং সেই অর্জনের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এক সময় একদল জ্ঞানপাপী অযথা কুতর্ক করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছিল। এমনকি স্বাধীনতার ডাক কে দিয়েছেন এমন সর্বজন বিধিত বিষয়কেও খুবই নোংরাভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। আর দুঃখের কথা এই যে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই অপকর্ম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইতিহাস তার আপণ গতিতে এইসব আর্বজনা দূর করে সঠিক পথেই এগিয়ে চলছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থ বিতরণ অনুষ্ঠান ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। 

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তার মূল প্রেরণার উৎস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধীরে ধীরে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত হতে দেখে আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন অনেকটায় আশ্বস্ত।

দলমত নির্বিশেষে তিনি বাঙালি জাতির সবচেয়ে উজ্জ্বল আইকন হিসেবে দিন দিন আরো বিরাট হচ্ছেন, আরও প্রবল হচ্ছেন। আর সেই কারণেই তাদের বিভ্রান্তি কেটে যাচ্ছে। অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে নিয়ে তাই তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে শামিল হওয়ার কথা ভাবছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু লেখাপড়ায় প্রথম হওয়া সন্তানরা যোগ্য নাগরিক হবে তা সঠিক নয়। একজন মাশরাফি, একজন সাকিব, একজন সালমা, এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার পরীক্ষায় কখনো ফার্স্ট হননি। কিন্তু তারা বাঙালির অহংকার, বিশ্ববাসী তাদের চেনে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। 

সভাপতির ভাষণে আয়োজক পরিষদের সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রনেতা এম এ মান্নান শিমুল বলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যখন শৈশবকাল তখনই তার নেতৃত্বের গুনাবলী প্রকাশিত হয়। তিনি তখন স্কুল পড়–য়া ফুটবল পাগল এক দূরন্ত খোকা। টুঙ্গিপাড়ায় খোকা যে স্কুলে পড়তেন একদিন সেই স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে.এম ফজলুল হক। ওই দূরন্ত খোকাটি তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন স্কুল ঘরের দূরাবস্থার কথা এবং এর সমাধান না করলে শেরে বাংলাকে ঘেরাও করে রাখা হবে। এই প্রথম শেরে বাংলা খোকার মাথায় হাত দিয়ে বললেন বাহ ছেলেটি তো বেশ সাহসী। তোমার কথায় আমি দাবি মেনে নিলাম। এই খোকাটিই হলেন ইতিহাসের রাখাল রাজা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের প্রতিটি শিশু কিশোর ও শিক্ষার্থীদের সেদিনের খোকাটির মতই সাহসে ও সততায় বলীয়ান হতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবেই।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস মাসব্যাপী পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, আয়োজক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও নগর যুবলীগ নেতা জাবেদুল আলম সুমন, শিক্ষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী সজল দাশ, অচিন্ত্য কুমার দাশ, মো. হারুন, মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় কলেজ শিক্ষার্থীদেরকে বঙ্গবন্ধুর ও মহান স্বাধীনতা, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তারা প্রশ্নের উত্তর দেন।

(ঢাকাটাইমস/১আগস্ট/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বন্দর নগরী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :