তাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ডেঙ্গু

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৫৩ | প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৫০

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ফিরোজ। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে। রবিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঈদকে রাঙিয়ে তুলতে অনেক ভাবনা ছিল ফিরোজের। কিন্তু সে ভাবনা কেবল ভাবনাই রয়ে গেল। এখন তার ঈদ কাটছে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় শুধু ফিরোজই ভুগছে না, ভুগছে তার পুরো পরিবার। তাদের সবার ঈদ কাটছে হাসপাতালে।

ফিরোজ বলে, ‘আমি ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। বন্ধুরা সবাই ঘুরতে যাবে। আমার যাওয়া হইল না।’

ফিরোজের বাবা ইদ্রিস খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের না হয় বয়স হইছে, আমাদের ঈদের আনন্দ আর কী! কিন্তু খারাপ লাগে ছেলে আর মেয়েটার জন্য। ওরা ছোট মানুষ। কতো জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যাওয়া হইল না।’

ফিরোজের বাবা-মায়ের মতো তার বিছানার পাশে মুখ ভার করে বসে আছে তার সাত বছর বয়সী ছোট বোন। হাসপাতালে ঈদ কতটা কষ্টের সেটা ভেসে উঠছে তার চোখে-মুখে।

ফিরোজের মতো হাসপাতালটির ডেঙ্গু বিভাগে দেখা মিলেছে এমন আরও অনেকের। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে পুরো পরিবারের।

মাদ্রাসা ছাত্র হাসান জামিল তিন দিন ধরে ভর্তি আছেন হাসপাতালে। মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসান গত কয়েক বছর ঈদের দিন মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পশু জবাই করেছেন। এ বছরও তেমনটাই কথা ছিল, কিন্তু তা আর হয়ে উঠল না। মশারির ভেতর অনেকটা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছেন তিনি। এভাবেই কাটছে তার ঈদ।

হাসানের বাবা মোজাম্মেল হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রোজার ঈদের পর থেকেই ওর জ্বর আসত, আর ছাড়ত। চার-পাঁচ দিন আগে ডেঙ্গু ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

শুধু ফিরোজ আর হাসানই নয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই ভর্তি আছেন কয়েকশ রোগী। তাদের সঙ্গে আছেন পরিবারের একাধিক সদস্য। রোগীর পাশাপাশি স্বজনদের ঈদ আনন্দও কেড়ে নিয়েছে ডেঙ্গু।

রাজধানীসহ সারাদেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দুই হাজারের বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই ৪০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। আর বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি দ্বিগুণেরও বেশি।

ঈদের দিন হীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ডটি পরিদর্শন করেছেন পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া। এসময় তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৮২৮ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে এক হাজার ৪৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৮৩ জন। গতকাল সেই সংখ্যা ছিল ৩৩৭ জন। আর হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি আছে ১৬০ জন।

পরিচালক জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ছুটি বাতিল করা না হলেও চিকিৎসক এবং নার্সরা রোগীদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতেন।

ঈদের  পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা দেখেন এই চিকিৎসক। বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম এবং বেশির মাঝামাঝি অবস্থানে আছে। অনেকে নাড়ির টানে ঈদুল আজহায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, যতই আপনি এই রোগের কথা বলুন অসুখের কথা বলুন। বৃষ্টি কিন্তু থামছে না। আমরা মনে করি, ঈদের পরে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগীর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছি।’

(ঢাকাটাইমস/১২আগস্ট/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :