শশীকাহন: পৌরাণিক উপাখ্যান: ফ্যান্টাসি থ্রিলার সিরিজ, পর্ব- পাঁচ

ড. রাজুব ভৌমিক
 | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৪৫

দেবী আজ্রিয়া সর্দার অউনাকের প্রাণ ভিক্ষা দেয়। আর সাথে সাথে সর্দার অউনাক এবং তার দলের সবাই রাক্ষসে রূপান্তরিত হয়। পূর্বে রাক্ষসদের নিয়ে শশীদের মধ্যে কল্পকাহিনি ছিল কিন্তু আজ তা বাস্তবে পরিনত হয়। শশীরা রাক্ষসের ভয় পাবে তাই রাক্ষসরাজ অউনাক যুবরাজ নিম্বকে বলল, ‘যুবরাজ, পূর্বে শশীদের মধ্যে রাক্ষসদের নিয়ে অনেক কল্পকাহিনী ছিল কিন্তু এখন তা বাস্তবে পরিণত হল। আপনি কথা দিয়েছেন যে আমি দেবীর তপস্যা ভঙ্গ করতে পারলে আমাকে উপযুক্ত বখশীশ দিবেন। তাই আজ রাক্ষসদের ও শশীদের কল্যাণে আপনার কাছে কিছু চাইছি।’ যুবরাজ বুঝতে পারে সর্দার গোষ্ঠীর আজ রাক্ষস হবার পিছনে সে বেশী দায়ী। তাই যুবরাজ বলে, ‘ঠিক আছে, তুমি যা চাইবে তা পাবে কথা দিলাম।’ রাক্ষস-রাজ অউনাক বলল, ‘যুবরাজ আমাদের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের জন্য সুমেরু বনের শেষ অর্ধেক অংশটুকু দিন। আমি কথা দিচ্ছি আমি জীবিত থাকা অবস্থায় কোন রাক্ষস সুমেরু বনের প্রথম অংশে বা শশীদের বাসস্থানের আশেপাশে যাবে না। আর যদি কোন রাক্ষস এ নিয়ম অমান্য করে তাহলে তাকে আমি নিজহাতে কঠিন শাস্তি দিব।’ রাক্ষসরাজ অউনাকের বিচক্ষণতা যুবরাজ নিম্বকে মুগ্ধ করে। যুবরাজ নিম্ব রাক্ষস রাজ অউনাকের কথায় রাজী হয়ে যায়। 

যুবরাজ নিম্ব সবার সামনে ঘোষণা করে, ‘আজ থেকে সুমেরু বনে শেষ অংশে হবে রাক্ষসদের স্থান এবং সেখানে আজ থেকে কোন শশীদের যেতে নিষেধ। কোন শশী যদি সুমেরু বনের শেষ অংশে যায় তাহলে রাক্ষসের অধিকার অনুযায়ী তারা তাকে হত্যা করতে পারবে। এতে রাক্ষসদের কোন দোষ থাকবে না। রাক্ষসরা স্বভাবত মাংস-প্রিয়। কিন্তু তাদের সুমেরু বনের শেষ অংশ থেকে বাহিরে যাওয়া নিষেধ।’ এই বলে যুবরাজ নিম্ব দেবী আজ্রিয়াকে নিয়ে আকাশ পথে লাগগিন্তা রাজ্যের উদ্দেশে উড়তে থাকে। 

কিছুক্ষণ আকাশে ভ্রমণ করার পর যুবরাজ নিম্ব আকাশ থেকে নিচে কিছু একটা দেখে থেমে যায়। যুবরাজ নিম্ব দেখতে পায় নিচে শশীদের কেন জানি কোলাহল চলছে। ‘দেবী, বুঝতে পারছি না কেন এত শশী একসাথে একজায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় কোন এক বিপদ হয়েছে।’ চিন্তার সুরে যুবরাজ নিম্ব দেবী আজ্রিয়াকে বলল। দেবী আজ্রিয়া চারিদিকে ভাল করে দেখে কিছু বুঝতে পারে না। ‘আগে কখনো এই জায়গা দিয়ে আসিনি। এই জায়গাকে বড় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। এলাকার চারিদিকে কেমন জানি এক অদৃশ্য যাদুর বেড়ায় বেষ্টিত। এই এলাকার আশে পাশে কোন আর শশীদের বাসস্থান দেখছি না। এ যেন একটি দ্বীপ। চলো একটু কাছে গিয়ে দেখার চেষ্টা করি।’ দেবী আজ্রিয়া বলল। নিম্ব ও আজ্রিয়া আকাশপথে একটু নিচে নামে। তারপর দেখতে পায় এটি আসলে একটি দ্বীপ। দ্বীপটি লাগগিন্তা রাজ্যের একটি অংশ কিন্তু দূর থেকে এই দ্বীপকে একেবারেই দেখা যায় না। নিম্বের মনে প্রশ্ন জাগে কেন এই দ্বীপের চারিদিকে জাদুর বেড়া দেয়া আছে। নিম্বের মনে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। দেবী আজ্রিয়া নিম্বের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আর মুছকি হাসছে। ‘‘আসলে লাগগিন্তা রাজ্য এত বিশাল যে কেউ এ পর্যন্ত পুরো রাজ্যের অর্ধেকও দর্শন করতে পারে নি। চলো আমরা এ দ্বীপটি একটু দেখে আসি।’ নিম্ব বলল। 

দেবী আজ্রিয়া বলল, ‘আমাদের এই বেশে ঐ অজানা দ্বীপে যাওয়া উচিত হবে না।’ এই বলে দিব্যশক্তিতে আজ্রিয়া তার ও নিম্বের বেশ পরিবর্তন করে। তারা সাধারণ একজন শশীর মত পোশাক পরিধান করে। ধীরে ধীরে নিম্ব ও আজ্রিয়া আকাশপথ থেকে নিচে দ্বীপের উপর নামে। সাথে সাথে প্রকন্ড এক আওয়াজ হয় এবং চারিদিকে জাদুর যে বেড়া ছিল সেটা ধ্বংস হয়ে যায়। নিম্ব ও আজ্রিয়া বিস্মিত হয়ে দ্বীপের উপর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। কি করবে তারা কিছু বুঝতে পারছে না। কি হয়েছে তাও বুঝতে পারছে না। নিম্ব সামনে তাকিয়ে দেখে দ্বীপের সব শশীরা মাথা নত এবং হাত দুটি জোড় করে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে অনেক শশীদের সমাগম হয়। যুবরাজ নিম্ব অবাক হয়ে সব দেখছে। কিন্তু কেন এসব সবকিছু হচ্ছে কিছু সে বুঝতে পারছে না। তখন যুবরাজ শশীদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘তোমাদের এ দ্বীপের প্রধান কে? আমি তার সাথে একটু দেখা করতে চাই।’ শশীদের কেউ তাদের নিজ নিজ স্থান থেকে নড়ছে না। সবাই হাত জোড় করে মাথা নত করে যুবরাজ নিম্ব ও দেবী আজ্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। 

যুবরাজ আবার বলল, ‘দয়া করে আমায় সাহায্য করুন। আমি আপনাদের প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’ তখন কেউ একজন বলল, ‘প্রভু, আপনি আমাদের প্রধান।’ নিম্ব তাকে ভয় না পাবার জন্য অনুরোধ করে এবং তাকে সব খুলিয়ে বলার জন্য অনুরোধ করে। নিম্ব ও আজ্রিয়া সাধারণ বেশে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু নিম্বের মনে প্রশ্ন শশীরা কিভাবে বুঝতে পারে যে তাদের আসল পরিচয়। নিম্ব আজ্রিয়া কেউ এই দ্বীপে কখনো আসে নি। ‘প্রভু, আমার নাম হিকদা। আমি জাদু শশীদের প্রধান। আমার প্রণাম নিবেন।’ হিকদা ভয়ে ভয়ে নিম্বকে বলল। 

‘তোমরা সবাই আমাদের ভয় পাচ্ছো কেন? তোমরা কি আমাদের পূর্বে কখনো দেখেছিলে?’ নিম্ব হিকদাকে বলল। ‘প্রভু আমরা আপনাদের কোন দিন দেখিনি তবে এটা জানি যে আপনাদের মধ্যে একজন দেবরাজ কৃতনুর সন্তান আর আরেকজন মহারাজ শশাঙ্কের সন্তান।’ হিকদা বলল। ‘দয়া করে আপনি সব খুলে নির্ভয়ে বলুন।’ নিম্ব হিকদাকে সব-কিছু খুলে বলার জন্য অনুরোধ করে। 

হিকদা থেকে জানা যায়, বহু কাল আগে চন্দ্রগ্রহে জাদুর ব্যবহার অহরহ প্রচলিত ছিল। তখন জাদুর ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজ্যের রাজারা যুদ্ধ জয় করত। প্রথমে সবাই জাদুর সদ্ব্যবহার করত। কিন্তু অনেক জাদুকর তাদের নিজের স্বার্থে জাদু ব্যবহার করতে শুরু করে। কিছু জাদুকর জাদুর ক্ষমতা বলে অর্থের বিনিময়ে শশীদের হত্যা করতে ও কুণ্ঠাবোধ করত না। জাদু শক্তির অপব্যবহার করে অনেক জাদুকর সাধারণ শশীদের সম্পদ লুট করত। শুধু এতেই তারা সীমাবদ্ধ ছিলনা। অনেক যাদুকর যাদু শক্তিবলে সাধারণ অপরাধ ও করত। যাদুকরের অত্যাচারে সাধারণ শশীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। 

এভাবে অনেকদিন চলে যায়। কয়েক বছর পর প্রায় একশ যাদুকর একত্রিত হয়। এই একশ জাদুকরের নেতা ছিল হিকদার প্রপিতামহ পিকদা। পিকদা অনেক লোভী ছিল। সে বহু দুষ্কর্মের সাথে জড়িত ছিল। তার জাদুর শক্তি ছিল সবার চেয়ে বহুগুণ বেশি। পিকদার একাই একশ যাদুকরের ক্ষমতা ছিল। যাদু শক্তি বলে পিকদা অদৃশ্য হতে পারত এবং দ্রুত আকাশ পথে উড়তে পারত। একবার পিকদা ভাবল যে সে তার যাদু শক্তি ব্যবহার করে সূর্য গ্রহে যাবে। পিকদা মনে মনে নিজেকে দেবতার চেয়েও শক্তিশালী ভাবত। পিকদা দেবতাদের শত্রু মনে করত। পিকদার জাদু শক্তির এত ক্ষমতা ছিল সে একদিনেই তার জাদুশক্তিবলে সারা চন্দ্রগ্রহ প্রদক্ষিণ করেছে। পিকদা তার জাদু শক্তি ব্যবহার করে জাদুর অস্ত্র নির্মাণ করত। আর সে অস্ত্রগুলো বিভিন্ন দেশের রাজার কাছে মোটা দাম নিয়ে বিক্রি করত। 

একদিন পিকদা সূর্যগ্রহের উদ্দশ্যে যাত্রা শুরু করে। চন্দ্র-গ্রহ সে সহজেই পার হয়ে যায়। কিন্তু চন্দ্র গ্রহ থেকে সূর্যগ্রহের দূরত্ব সম্পর্কে তার কোন ধারণা ছিল না। মহাকাশে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা পিকদার পূর্বে ছিল না। চন্দ্র-গ্রহ পেরিয়ে মহাকাশে প্রবেশ করার পর থেকেই মহাকাশে ভ্রমণরত বিভিন্ন কঠিন পদার্থের আঘাতে পিকদা বহুবার আহত হয়। মহাশূন্যে ভাসমান বস্তুর আঘাতে পিকদার যায় যায় অবস্থা। কিন্তু পিকদা সূর্যগ্রহে যে কোন মূল্যে পৌঁছতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। সে কোন কিছুতে হারতে রাজী নয়। প্রায় সব আঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে পিকদা প্রায় সূর্যের নিকটে পৌঁছে যায়। তখন দেবরাজ কৃতনু আকাশবানীর মাধ্যমে পিকদাকে সতর্ক করে দেয় এবং পিকদাকে চন্দ্রগ্রহে চলে যেতে আদেশ করে। পিকদা এতে ক্রোধিত হয় এবং চন্দ্রগ্রহে চলে যেতে বাধ্য হয়। কৃতনু তার আকাশবানীতে পিকদাকে আরো বলে যে ভবিষ্যতে তার যাদুশক্তির অপব্যবহার করলে তাকে চরম শাস্তি ভোগ করতে হবে। 

ক্রোধিত ও অপমানিত পিকদা চন্দ্রগ্রহে অবশেষে ফিরে যায়। সে মনে মনে দেবরাজ কৃতনুর উপর প্রতিশোধ নিবে বলে স্থির করে। তাই পিকদা চন্দ্রগ্রহে ফেরার পর তার যাদু শক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে। কয়েক বছরের মধ্যে পিকদা তার জাদু শক্তি বহু গুন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। এরপর পিকদা দেবরাজ কৃতনুর উপরে প্রতিশোধ নিতে তার প্রিয় শিষ্য জয়তা অঙ্গরাজ্যের রাজা মগাদির বিপক্ষে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। রাজা মগাদি দেবরাজ কৃতনুর পরম-ভক্ত। সারাজীবন সে দেবরাজ কৃতনুর সেবা ও তপস্যা করে গেছে। একদিন মগাদির তপস্যায় খুশি হয়ে দেবরাজ কৃতনু রাজা মগাদির সামনে হাজির হয়। দেবরাজ কৃতনু রাজা মগাদিকে বর চাওয়ার জন্য বলে কিন্তু মগাদি কোন বর চায়নি। মগাদি দেবরাজ কৃতনুর কাছে শুধু চেয়েছে সে যেন এভাবে সারাজীবন দেবরাজ কৃতনু সেবা করতে পারে। দেবরাজ কৃতনু রাজা মগাদির উপর অনেক খুশি হয় এবং রাজা মগাদিকে তার সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য বলে ঘোষণা করে। 

যাদুকর পিকদা রাজা মগাদির সাথে দেবরাজ কৃতনুর সম্পর্কের কথা ভাল করতে জানত। তাই তার যাদুর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেবতা কৃতনুর উপর প্রতিশোধ নিতে মগাদির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রচনা করতে থাকে। তার সাথে আছে একশ জাদুকর সেনা। পিকদা জয়তা রাজ্য দখল করে রাজা মগাদিকে তার রাজ্য থেকে বিতাড়িত করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। একদিন গভীর রাতে পিকদা তার একশ জাদুরসেনা সহ জয়তা রাজপ্রাসাদে আক্রমণ করে। পিকদার যাদুর সেনারা তাদের যাদুর ক্ষমতাবলে একে একে রাজপ্রাসাদের সব সেনাকে হত্যা করে। রাজা মগাদি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও পালিয়ে না গিয়ে সাহসের সাথে পিকদার সাথে লড়ে যায়। অনেকক্ষণ রাজা মগাদি পিকদার সাথে সাথে লড়াই চালিয়ে যায়। পিকদা ও রাজা মগাদির লড়াইের অন্ত না দেখে তার যাদুসেনারা সবাই একত্রে রাজা মগাদিকে আক্রমণ করে। একশ একজন যাদুকর সেনার সাথে রাজা মগাদি একা অনেকক্ষণ যুদ্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজা মগাদি যাদুকর পিকদার হাতে মৃত্যুবরণ করে।

রাজা মগাদির এমন করুণ ও নিষ্ঠুর মৃত্যুর খবর পেয়ে দেবরাজ কৃতনু সাথে সাথে জয়তা রাজ্যে আসে। দেবরাজ কৃতনু দেখতে পায় যাদুকর পিকদা রাজা মগাদির সিংহাসনে বসে আছে। আর রাজা মগাদির লাশ সিংহাসনের সামনে পড়ে আছে। এ দেখে দেবরাজ কৃতনু ক্ষিপ্ত হয়। সাথে সাথে দেবরাজ কৃতনু যাদুকর পিকদাকে হত্যা করে। এরপর দেবরাজ কৃতনু অন্য একশ যাদুর সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের যাদুর শক্তি দেয়া হয়েছে সংসারের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তা তোমরা না করে নিজ নিজ স্বার্থে তোমরা যাদু শক্তি অপব্যবহার করেছ। তোমাদের এ পাপের শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।’ 

দেবরাজ কৃতনু আরো বলল, ‘আজ থেকে সকল শশী যাদের যাদু শক্তি আছে তাদের সবার কন্ঠী দ্বীপে স্থান হবে। সাধারণ শশীদের সাথে বসবাস করার যোগ্যতা তোমাদের নেই। তোমাদের সবার যাদুকরী ক্ষমতা আমি কেড়ে নিলাম। 

আর সব যাদুকরী শশীদের ক্ষমতা দিয়ে আমি কন্ঠী দ্বীপের সীমানা তৈরি করলাম। যাতে তোমরা এবং তোমাদের বংশধররা ও কোন দিন সাধারণ শশীদের সাথে মিশতে না পারে। এটাই তোমাদের জন্য উপযুক্ত শাস্তি।’ একশত যাদুকর সেনারা তাদের ভুল বুঝতে পারে। তারা সবাই হাতজোড় করে দেবরাজ কৃতনু কে বলে, ‘প্রভু, দোষ আমরা করেছি আমাদের যত শাস্তি দিন কিন্তু অন্য যাদুকরী শশীদেরকে দয়া করে আমাদের ভুলের জন্য শাস্তি দিবেন না। আমাদের অনেক ভুল হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষমা করুন।’ দেবরাজ কৃতনু বলল, ‘এ শাস্তি সব যাদুকরী শশীদের প্রাপ্য কারণ আমি গত কয়েক কাল ধরে লক্ষ্য করছি কিভাবে যাদুকরী শশীরা তাদের যাদুশক্তির অপব্যবহার করছে। কিভাবে সাধারণ শশীদের জীবন অতিষ্ঠ করছে।’ 

তখন একজন যাদুকরী শশী দেবরাজকে বলল, ‘প্রভু, আপনার শাস্তি আমাদের প্রাপ্য। দয়া করে এ শাস্তি সমাপ্তির একটি উপায় বলুন। আমাদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দিন।’ দেবরাজ কৃতনু বলল, ‘তোদের জন্য আজ আমি সন্তানতুল্য শিষ্যকে হারিয়েছে। জয়তু রাজ্যের প্রজারা একজন পিতৃতুল্য রাজা হারিয়েছে। যা কোন দিন যদি আমার কোন সন্তান এবং তোমাদের রাজার সন্তান এই দ্বীপে নিজের ইচ্ছায় আসে আর তারা যদি তোমাদের দোষ ক্ষমা করে তাহলে তোমরা তোমাদের জাদু শক্তি ফিরে পাবে এবং সাধারণ শশীদের সাথে মিশতে পারবে। আর সে দিন যতদিন পর্যন্ত না আসে ততদিন পর্যন্ত সব যাদুকরী শশীদের কন্ঠী দ্বীপে ক্ষমতাহীন ভাবে কারাবাসীদের মত জীবন যাপন করতে হবে।’ এই বলে দেবরাজ কৃতনু চলে যায়। 

হিকদা যুবরাজ নিম্ব ও দেবী আজ্রিয়াকে সব ঘটনা খুলে বলল। ‘প্রভু, সে দিন থেকে আমরা সবাই যাদুশক্তি হারিয়ে সভ্যতার বাহিরে কষ্টকর জীবন যাপন করছি। আমাদের পূর্বপুরুষের কৃত পাপ কর্মের ফল আজ ও আমরা ভোগ করছি। আজ সর্বপ্রথম আপনারা দুজন যখন আমাদের এই কন্ঠী দ্বীপে প্রবেশ করেন তখন হঠাৎ আমরা আমাদের জাদু শক্তি অনুভব করেছি। তখনি আমরা বুঝতে পারি যে আপনাদের মধ্যে একজন দেবরাজ কৃতনুর সন্তার আর আরেকজন মহারাজ শশাঙ্কের সন্তান। দয়া করে আপনাদের পরিচয় দিলে কৃতার্থ হব।’ যুবরাজ নিম্ব ও দেবী আজ্রিয়া তাদের সরূপে ফিরে তাদের পরিচয় দেয়। যুবরাজ নিম্ব হিকদার কথা শুনে মনে বড় দু:খ পায়। যুবরাজ নিম্ব ও দেবী আজ্রিয়া তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে তাদের পূর্বপুরুষের কৃত পাপকর্মের শাস্তি যথেষ্ট হয়েছে। তাছাড়া পূর্বপুরুষের কৃত পাপকর্মের শাস্তি তারাই বা পাবে কেন? তাই যুবরাজ নিম্ব ঘোষণা করে, ‘আজ থেকে আমরা তোমাদের পূর্বপুরুষের কৃত পাপকর্মে থেকে মুক্তি দিলাম।’ দেবী আজ্রিয়া তার ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে কন্ঠী দ্বীপের সাথে লাগগিন্তা রাজ্যের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সেতু তৈরি করে। 

দেবী আজ্রিয়া বলে, ‘আজ থেকে তোমাদের দায়-ভার আমি নিলাম। মনে রেখ, তোমাদের যাদু শক্তির কখনো অপব্যবহার করবে না। শুধু সংসারের হিতে যাদু শক্তি ব্যবহার করিবে।’

চলবে...

লেখক: কবি ও লেখক, অধ্যাপক: অপরাধবিদ্যা, আইন ও বিচার বিভাগ, জন জে কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইর্য়ক, মনস্তাত্তিক বিভাগ, হসটস কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি, নিউইর্য়ক। কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকর্তা, নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :