ট্যানারিতেই চামড়া বিক্রি করছেন আড়তদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২২:৫১

ট্যানারি মালিকরা পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করবে না বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, তা থেকে সরে এসেছে তারা।

রবিবার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে চামড়া খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আজ (রবিবার) থেকেই চামড়া বিক্রি শুরু করা হবে।’

ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা এফবিসিসিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ২২ আগস্ট এফবিসিসিআইয়ের উদ্যেগে এ নিয়ে আলোচনা হবে দুই পক্ষের মধ্যে। সেখান থেকেই ফয়সালা করে দেবে।

এবার কোরবানির ঈদের দিন বিক্রি করতে না পেরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লাখ খানেকের বেশি কাঁচা চামড়া ফেলে দেন। ওই দিনই কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর সরকারের অনুরোধে ট্যানারি মালিকরাও শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার কথা বলেন।

কিন্তু শনিবার আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ‘শত শত কোটি টাকা’র সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা চামড়া বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সঙ্কট নতুন মাত্রা পায়। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল চামড়া সংকট সমাধানে বৈঠকে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারসহ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়।

বৈঠকের শুরুতে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘২০ তারিখ থেকে চামড়া কেনার কথা বলেছিলেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশেন। ফড়িয়া ও আড়তদারদের মধ্যে একটি গ্যাপ রয়েছে বলে ধারণা ছিল। মাঠ পর্যায়ে বলা হলো চামড়া সংরক্ষণের জন্য। এ পরিস্থিতিতে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রয়ের কথা বলে, তারা কিছু কিছু ক্রয় করেছে তবে তারা সেরকমভাবে কেনেনি।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে দায়দায়িত্ব এড়াতে পারি না। চামড়া শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চামড়া শিল্প নীতি হচ্ছে। বর্তমানে যে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বৈঠক করা হবে। একটি স্থায়ী সমাধানে নিতে চাই। সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনাও চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, খোলামেলা আলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান পাব। আমি মনে করি, যে কথাটা শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, চামড়াশিল্প গার্মেন্টের পর গুরুত্বপূর্ণ খাত। ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পটা মেইন সেক্টর হিসেবে ডেভেলপ করার চেষ্টা করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :