ছাদে চড়ে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন ট্রেন যাত্রীরা

শামীম কাদির, জয়পুরহাট
 | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৯

জয়পুরহাটসহ আক্কেলপুর ও পাঁচবিবি স্টেশনে গত তিন দিন ধরে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বেশিরভাগ যাত্রিই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিনা টিকেটে মই দিয়ে ছাদে উঠে ঢাকায় ফিরছেন।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি স্টেশন থেকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা, আক্কেলপুর স্টেশন থেকে নওগাঁর বদলগাছি, জয়পুরহাটের রেলস্টেশন থেকে পাঁচটি উপজেলার যাত্রীরা ছাড়াও ধামইরহাট উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক যাত্রী ট্রেনে ঢাকায় চলাচল করে থাকেন।

ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত নিলসাগর এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের জয়পুরহাটসহ আক্কেলপুর, পাঁচবিবিতে স্টপেজ রয়েছে। এই তিন ট্রেনের মধ্যে নিলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার জন্য ৮০টি, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮৫ এবং দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ৭৭টি সিট বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট স্টেশনে  টিকেটের যা বরাদ্দ তার অর্ধেক টিকেট মোবাইল অ্যাপসে দেয়া হয়।

ঢাকাগামী যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনেগুলোতে আসন সংখ্যা কম থাকা এবং ট্রেনে টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে টাকা ছাড়া দাঁড়িয়ে যাওয়া অনেক ভাল।

সরেজমিনে রবিবার ও সোমবার আক্কেলপুর স্টেশনে দেখা গেছে,  সকাল ৯টা থেকেই অনেকেই স্টেশনে আসেন ঢাকায় যাওয়ার জন্য। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে যাত্রী ছাউনি পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এর দুপুর হতে পুরো স্টেশন যাত্রীতে ভরে যায়। তবে ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যেই বেশি। স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০টি মই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয় লোকজন। তারা ঢাকাগামী যাত্রীদের ১০ থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে ছাদে উঠিয়ে দিচ্ছেন। একই চিত্র জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি স্টেশনে। যারা ছাদে উঠছেন তাদের বেশির ভাগই টিকেটবিহীন যাত্রী। ছাদে নারী-পুরুষ উভয়েই উঠছেন নিজ কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার জন্য।

আক্কেলপুর উপজেলা ভদ্রকালী গ্রামের ঢাকাগামী যাত্রী আলমগীর হোসেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের আহসান হাবীব জানান, তারা দুইজন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এবার গ্রামে ঈদ করতে এসেছিলেন। অনেক কষ্টে টিকিট কেটেছে তারা। ঢাকা থেকে বাড়ি আসার সময় দেখেছি, ট্রেনে ভিড় থাকায় টিকেটও কেউ চেক করেন না। তারপরেও দেশকে ভালবেসে টিকেট কেটে ঢাকায় যাচ্ছেন তারা।

পাঁচবিবি উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের মরিয়ম আক্তার বলেন, ট্রেনে যে ভিড় তাতে টিকেট কেটে কোন লাভ নেই। তাই বিনা টিকিটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০ টাকা দিয়ে মই দিয়ে ছাদে উঠে নিজ কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছি।

জয়পুরহাট স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, টিকিট বিক্রি আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। যেসব যাত্রী ঢাকায় গিয়েছেন তারা সকলেই টিকেট কেটেই গেছেন। ট্রেনের ছাদে মই দিয়ে উঠা বা ছাদে ভ্রমণ আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। যেহেতু ঈদের মৌসুম সব স্টেশন থেকেই মই দিয়ে ট্রেনের ছাদে লোকজন উঠে ঢাকায় যাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :