ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ‘লুকোচুরি’

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৩৬ | প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৩৫
ফাইল ছবি

বাবা-মা হজে গেছেন। এখনো ফেরা হয়নি। দুই ভাইকে রেখে গেছেন আত্মীয়ের বাসায়। এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বড় ভাই মারা গেছেন। ছোট ভাইও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। কী মর্মান্তিক ঘটনা!

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসিন্দাদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে এই কথা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি দুই ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী বড় ভাই মারা গেছে। তাকে নিয়ে যান স্বজনরা।

একসঙ্গে খেলাধুলা করা তিন বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের মৃত্যু বোঝার বয়স হয়নি। সেও বায়না ধরে ভাইয়ের সঙ্গে যাবে। তাকে কোনোভাবেই হাসপাতালে থাকার বিষয়টি মানানো যাচ্ছিল না। পরে নানা ধরনের খেলনা আর বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাগে আনা হয়।

আবেগ ছুঁয়ে যাওয়া ঘটনাটি হাসপাতালের একাধিক কর্মীর মারফত নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াও আরও অনেকেই জানতে পারেন।

হাসপাতালের পাশের একটি ফার্মেসিতে চাকরি করেন আব্দুল মতিন। বলেন, ‘আমার দোকানে ওষুধ নিতে এসে হাসপাতালের একজন বিষয়টি জানিয়ে খুব আফসোস করেন। ঘটনাটা শুনে আমারও খুব খারাপ লাগে। কি হৃদয়বিদারক ঘটনা।’

হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মীও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে হাসপাতালের বড় কর্তারা কিছুই স্বীকার করতে চান না। যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী এখন পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে মারা যায়নি।

হাসপাতালের উপপরিচালক এ কে এম মোজাহার হোসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একজনও মারা যায়নি, নট এ সিঙ্গেল ওয়ান।’

আরেক উপপরিচালক আবু ইউসুফও একই কথা বলেন।

ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই বিভ্রান্তি রয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যে যত মানুষ মারা গেছে, সরকারি হিসাবে আসে না ততজন। গণমাধ্যমের হিসাবে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে ঈদের আগেই। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ হিসাব বলছে, গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৪৭ জন।

এই সংখ্যার তারতম্য হওয়ার একটি ব্যাখ্যা অবশ্য আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে মৃত্যুটা প্রকৃতপক্ষে কেন হয়েছে, সেটা যাচাই-বাছাই হয়ে নিশ্চিত হতে সময় নেয়। আর এ কারণে দ্রুত সংখ্যাটি আপডেট হয় না।

তবে বেসরকারি একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, সেখানে ডেঙ্গুতে মারা গেলে তথ্য চেপে রাখা বা অস্বীকার করার প্রবণতা রয়েছে। ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে যারা মারা যাচ্ছে তাদের তথ্য হাসপাতালের নথিতে তোলা হচ্ছে না বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালের একাধিক কর্মীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, হাসপাতালগুলো তাদের ভাবমূর্তি রক্ষায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি করছে।

এ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য কমফোর্ট হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক সরকার আহসানুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আপনাদের তথ্যের জন্য আমাদের কাছে আসতে হবে কেন? আমরা তো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সব তথ্য পাঠিয়ে দিই। আপনারা সেখানে গিয়ে কথা বলুন।’

গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬২ হাজার ২১৭ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি আছে ছয় হাজার ২৮৯ জন। ৫৫ হাজারেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এই রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের চিকিৎসা হয়েছে সরকারি হাসপাতালে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে তথ্য মিলিছে। আবার সরকারি হাসপাতলে যতজন রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের ডেঙ্গু ধরা পড়লেও একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে রক্ত এই হার ৩০ শতাংশেরও বেশি।

রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে সুস্থ শিশুকে ডেঙ্গু রোগী বানানোর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে ঢাকাটাইমসেই। এ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো নিয়ে নানা কথাও প্রচলিত আছে।

ঢাকাটাইমস/২৫আগস্ট/এনআই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :