হৃদরোগ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা বাড়ায় বিপদ

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪২ | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা নেহাত কম নয়। হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে এ বিষয়ে কিছু ভুল ধারণা। তার মধ্যে একটি হলো কমবয়সিদের সাধারণত হৃদরোগ হয় না। এই ভুল ধারণার কবলে পড়ে কত যে প্রাণ যায় তার হিসাব নেই৷

কারণ অধিকাংশ মানুষ ভাবেন, হৃদরোগ হয় মেদবহুলদের আর নয়ত একটু বয়স বাড়লে হার্টের কার্যকারিতা নষ্ট হতে শুরু করলে৷ কিন্তু শারীরীক চর্চা করে ছিপছিপে থাকার পরও হৃদরোগ হানা দিতে পারে যেকোন বয়সে, তা ভাবতে পারেন না অনেকেই৷

নিয়ম মানলে ও ফিট থাকলে রোগের আশঙ্কা কমে যায়। তবে তা একেবারে শূন্যের কোটায় নামে না। তার ওপর একটু স্বাস্থ্যবানরা সচরাচর চেক আপ করান না। এছাড়া হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ ও করণীয় অনেকেই জানেন না। যে কারণে বিপদ আরও বেড়ে যায়।

অনেকে ভাবেন, বুকে ব্যথা নেই মানে হৃদরোগ হয়নি৷ তা কিন্তু নয়৷ বয়স্ক ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ব্যথা নাও হতে পারে৷ অনেক সময় হয়ও না৷ হৃদ রোগ হলে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা বা অস্বস্তি যেমন থাকতে পারে, থাকতে পারে ঘাম, গা–বমি, অসম্ভব ক্লান্তি–দুর্বলতা, হাতে বা পিঠে ব্যথা, বদহজম, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি৷ কাজেই মধ্যবয়সে বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে এসব হলে কষ্ট কমার অপেক্ষায় বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত৷

কম বয়সেও যদি খুব কষ্ট হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। কারণ হৃদরোগ কেবল বেশি বয়সিদের হয়, এ ধারণাও ঠিক নয়৷ হৃদরোগ নিয়ে এরকম আরও কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। সেগুলো হলো-

সুগার বশে থাকলে বিপদ নেই: সুগারের মাত্রা ঠিক থাকলে হৃদরোগ হবে না এমন নয়৷ কারণ ডায়াবেটিস এমন একটি অসুখ যার প্রভাবে রক্তনালিতে প্রদাহ দেখা দেয়৷ হৃদ রোগের আশঙ্কা বাড়ে৷ রক্তে সুগার লেভেল ঠিক রাখার পাশাপাশি ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল–ট্রাইগ্লিসারাইডের লেভেলও ঠিক না রাখতে পারলে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়৷

হৃদরোগ  মানে সব শেষ: বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে, ওষুধপত্র খেলে ও নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগের পরেও ভাল থাকা যায়৷ অনেকে আবার ভাবেন, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা বাইপাশ সার্জারি করে নিলে দুর্ভাবনার দিন শেষ হয়৷ এও ভুল ধারণা৷ কারণ সঠিক খাওয়াদাওয়া ও গ্রেডেড এক্সারসাইজ না করলে, নিয়ম না মানলে, ঠিক করে ওষুধ না খেলে সমস্যা আবার নতুন করে দেখা দিতে পারে৷ কাজেই হৃদ রোগ মানে যেমন সব শেষ নয়, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা বাইপাশ অপারেশন করিয়ে নিলেই যাবতীয় নিয়মের হাত থেকে মুক্তি, তেমনও নয় ব্যাপারটা৷

মেয়েদের হৃদ রোগের আশঙ্কা কম: ইস্ট্রোজেন হরমোনের সুরক্ষা থাকায় মেনোপজের আগে আশঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও, অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান, ভুলভাল খাওয়া, স্ট্রেস, গর্ভনিরোধক পিল ইত্যাদি কারণে ও কম বয়সে হাইপ্রেশার–ডায়াবিটিস জাতীয় অসুখ দেখা দেওয়ার ফলে মেয়েদেরও কম বয়সে হৃদ রোগ হয়৷ মেনোপজের পর আশঙ্কা বাড়ে বলাই বাহুল্য৷ তখন আর নারী–পুরুষে প্রভেদ থাকে না৷

কাজেই ভুল ধারণা লালন না করে নিয়মিত শরীরচর্চা, উদ্বেগে লাগাম, নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া, প্রয়োজনীয় চেক আপে অবহেলা না করা চালু রাখলে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকা যাবে।

ঢাকা টাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :