আলোচনায় জিপি-রবির সঙ্গে দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৯ | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৫০

আলোচনার মাধ্যমে গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের রাজস্ব ও বিটিআরসির পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বলেছেন, পাওনার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই পাওনা আদায়ের বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা হবে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই একটি সুন্দর সমাধান হবে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ও রবি গত ২২ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিটিআরসির পাওনা পরিশোধ করে আসছিল। এরমধ্যে, বিভিন্নভাবে গ্রামীণের কাছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার ও রবির কাছে আটশ’ থেকে সাড়ে আটশ’ কোটি টাকা বাকি আছে। একটি অপারেটরের কাছে আবার বিটিআরসির পাওনা সুদসহ আট হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, রাজস্ব বাবদ গ্রামীণের কাছে যে চার হাজার কোটি টাকা পাওনা, তা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষা আছে। আর বিটিআরসির যে পাওনা, তা আলোচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। আমরা মনে করেছি, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা উচিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই অপারেটরের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে যাচ্ছিল। এ অবস্থা চলমান থাকলে আমারে ক্ষতি হতো, আমরা রাজস্ব হারাতাম। তারা ব্যবসা করবে, আমরা নিজেদের পাওনা বুঝে নেবো। তারা যে মামলা করেছে, সে মামলা তারা প্রত্যাহার করে নেবে। অপরদিকে সরকারের তরফ থেকে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে।

আলাপ-আলোচনা ব্যর্থ হয়ে বিটিআরসি হার্ডলাইনে চলে গিয়েছিল, তারা শোকজও করেছে- এ বিষয়ে তাহলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেটা এখনও আছে। আমরা মনে করি অন্য কোনোভাবে গেলে অনেক সময় লাগবে। এতে কে লাভবান হবে, কে লুজার হবে, সেটা জানি না। তবে আমাদের লসের আশঙ্কা বেশি।

পাওনার ক্ষেত্রে সরকার ছাড় দেবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমার বলা ঠিক হবে না। আমরা একটা সমাধানের দিকে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বেশি দিন লাগবে না। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হবে। এটা আমার ধারণা।

আদালতে যে মামলা রয়েছে, সে বিষয় কী হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আর আদালতে যাবো না। মামলা তারা প্রত্যাহার করবে। এটা না হলে তো আলোচনায় যেতে পারবো না। তাই বসে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করার চেষ্টা করবো। এ মুহূর্তে কতদিনের মধ্যে এটা হবে, সেটা বলা মুশকিল। সমাধান অবশ্যই হবে। সেটা অবশ্যই দেশের বিরুদ্ধে যাবে না। তারাও জিতবে, আমরাও জিতবো। আমাদের যে ভুল বোঝাবুঝি আছে, সেটার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সুষ্ঠু সমাধানে যাবো।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, (গতকাল) মঙ্গলবার থেকে দৃশ্যপট বদলে গেছে, বিটিআরসির সঙ্গে দেনা-পাওনার বিরোধ আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে মিটিয়ে নেবো।

এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, গ্রামীণফোন চেয়েছিল আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করতে। তবে বিটিআরসির আইনে আরবিট্রেশনের কোনো সুযোগ না থাকায়, তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অতিদ্রুত টেলিনরের সঙ্গে কথা বলতে। তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছে। গ্রামীলণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে, আমাদেরকে একত্রিত করে এটির সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি. এখন আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/আরএ/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :