নবজাতককে ফেলে যাওয়া মা ফিরে এলেন ঢামেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩০

অভাব-অনটনের কারণে জন্মের দুই দিন পর নবজাতককে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ফেলে চলে গিয়েছিলেন মা নাহার। তবে মাতৃত্বের টানে আট দিন পরে নিজেই ফিরে আসেন সন্তানের খোঁজে। তবে শিশুটির বাবা গর্ভে রেখে চলে যাওয়ায় তিনি এখন অনেকটা বিপাকে পড়েছেন। তিনি এখন শিশুটিকে দত্তক দিতে চান। শিশুটি ঢাকা মেডিকেলেই রয়েছে।

রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন শিশুটির মা নাহার। পরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়ে দেয়।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে জন্ম নেয় শিশুটি। এর দুই দিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় শিশুটির বাবা-মা। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে লালন-পালন করেন। শিশুটির নাম রাখেন সারা।

রবিবার  সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের রুমের সামনে আসেন নাহার। তিনি নিজেকে শিশুটির মা পরিচয় দিয়ে তাকে নেওয়ার কথা বলেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম নাসির উদ্দিনের কাছে। পরে নাহারকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি শিশুটিকে কেউ দত্তক নিতে চাইলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিত দেন শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে। পরে তার আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাহার ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, তিনি সাভারের হেমায়েতপুরের  মন্ডলপাড়া এলাকায় থাকেন। এই সন্তানটি তার দ্বিতীয় স্বামী রাসেলের। তাকে তিন মাসের অন্তঃস্বত্তা রেখে পালিয়ে যান রাসেল। পরে তার প্রথম স্বামী এম আজাদের সঙ্গে তিনি মিলে যান। আগের সংসারে ঝিনু নামের তার আট বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

নাহার বলেন, আমার স্বামী কাপড়ের ব্যবসা করেন।  সংসারে অভাব অনটনের কারণে শিশুটি ফেলে গিয়েছিলাম। কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে চাইলে আমার কোনো আপত্তি নেই।  

এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ওই নারী খুব অসুস্থ। তিনি লিখিত দিয়েছেন অভাব অনাটনের কারণে শিশুটিকে ফেলে গিয়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে দত্তক দিতে আগ্রহী।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :