ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে তৃপ্ত বিএনপির নেতারা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৬
ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন

দলের ভেতর-বাইরের নানা প্রতিকূলতা সামলে অনেকটা বিতর্কমুক্তভাবে ছাত্রদলের কাউন্সিল সম্পন্ন এবং ২৮ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে পেরে স্বস্তি ও তৃপ্তি বোধ করছেন বিএনপির নেতারা। এ থেকে অন্য সংগঠনগুলো শিক্ষা নিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ছাত্রদলের কাউন্সিল করার দায়িত্বে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা বলছেন, শেষ সময় পর্যন্ত তাদের মনে শঙ্কা ছিল সফলভাবে কাউন্সিল শেষ করতে সরকার বাধার সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুরো কার্যক্রমে নজর রাখায় সবাই সতর্ক ছিলেন কাউন্সিল নিয়ে।

নেতাদের দাবি, বিএনপি পুনর্গঠনে ছাত্রদলের কাউন্সিলকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জে তারা জয়ী হয়েছেন।

আর ছাত্রদলের নেতারাও সিন্ডিকেটের বাইরে ভোট দিয়ে নতুন নেতা নির্বাচন করতে পেরে খুশি।

সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এর আগে সব সময় অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের লোককে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেয়া হয়। এবার অত্যন্ত সুন্দর ও স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। আমরা খুশি।’

গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। গত ১৫ জুলাই কাউন্সিলের তারিখ ঠিক হলেও সংগঠনের একটি গ্রুপের বিক্ষোভের মুখে তা বাতিল করে ১৪ সেপ্টেম্বর পিছিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এক সাবেক ছাত্রদল নেতার মামলায় আটকে যায় ভোট।

পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবীদের পরামর্শে ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেন। পুলিশি হয়রানির ভয়ে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের বাসায় রাতভর ভোটে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ছাত্রদলের কাউন্সিলে নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলন। তার মধ্যে স্বস্তির ছাপ। ঢাকা টাইমসকে মিলন বলেন, ‘আলহামদুল্লিাহ। অনেক স্বস্তি ফিল করছি। চার মাসের বেশি সময় ধরে কাউন্সিল নিয়ে কাজ করেছি।  সরকারের অনেক বাধা ছিল। সবকিছু পেছনে ফেলে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটি করতে পেরেছি। আশা করি এ থেকে অনেক সংগঠন শিক্ষা নেবে।’

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের কাছে তাদের অনেক প্রত্যাশা মিলনের। এই সাবেক ছাত্রনেতা আশা করেন, ছাত্রসমাজের দাবি আদায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদল অতীতে যে ভূমিকা রেখেছে, নির্বাচিত এই প্রতিনিধিরা তার চেয়ে বেশি অবদান রাখবে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে তারা সর্বাগ্রে থাকবে- এটাই আশা মিলনের।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রদলের সাবেক দুই সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও আজিজুল বারী হেলাল। সাবেক ছাত্রদল নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন নির্বাচনে।

নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা এই নেতারাও বলছেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে খুব চাপে ছিলেন তারা। নিজেদের পছন্দের প্রার্থী থাকলেও সবাই সতর্ক ছিলেন যাতে কাউন্সিলে কোনো ধরনের বিতর্ক বা কালিমা না লাগে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা এক নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তারেক রহমান সরাসরি হ্যান্ডেল করেছেন পুরো কার্যক্রম। তাই কারও পক্ষ হয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব হয়নি। বিতর্কিত হওয়ার ভয়ে কেউ সেদিকে হাঁটেনি।’

সুষ্ঠুভাবে ছাত্রদলের কাউন্সিল শেষ করতে পারায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শনিবারের বৈঠকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তার নেতৃত্বে ও প্রচেষ্টায় এটা সফল হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার বাসায় ছাত্রদলের কাউন্সিল করতে দেওয়ায় তাকেও ধন্যবাদ জানানো হয়।

সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিল। সেবার রুহুল কবির রিজভী সভাপতি ও ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল ছাত্রদল। তাদের পছন্দের প্রার্থীদের বাছাই করে ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হয়। ফলে প্রায় প্রতিবারই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে ছাত্রদলের বিভিন্ন পক্ষে।

শিগগরি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শিগগিরই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন। অতীতের মতো ঢাউস কমিটি নাও হতে পারে এবার। কমিটিতে যোগ্য, ত্যাগী এবং রাজপথে সক্রিয় কর্মীরাই প্রাধান্য পাবেন বলে জানা গেছে।

সভাপতি পদে পরাজিত নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত জাকিরুল ইসলাম জাকিরকে এক নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। এ ছাড়া পরাজিত অন্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হবে। আগেই এমন সিদ্ধান্ত ছিল।

ছাত্রদলের কাউন্সিলে ৯ জন সভাপতি এবং ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুই পদে দুজনকে বেছে নিতে ভোট দেন ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন। নবনির্বাচিত সভাপতি খোকন ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তিনি গত কমিটিতে গণশিক্ষাবিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঢাবির তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র। তিনি ঢাবির ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি নরসিংদী।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :