প্রতিবাদ করছেন নাকি মন্ত্রিত্ব চাচ্ছেন?

রেজাউল করিম
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৯ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৭
বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন রাশেদ খান মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের বর্তমান সাংসদ রাশেদ খান মেনন। আপনি প্রতিবাদ করছেন নাকি মন্ত্রিত্ব চাচ্ছেন? জাতি স্পষ্টভাবে জানতে চায়। একটু পরিষ্কার করে বলুন এমপি মহোদয়। শনিবার দুপুরে বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আপনি বলেছেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।’

এসময় সরকারের বিরুদ্ধে অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে বলেছেন, ‘উন্নয়ন মানে গণতন্ত্র হরণ নয়। উন্নয়ন মানে ভিন্ন মতের সংকোচন নয়। উন্নয়ন মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ নয়। উন্নয়ন মানে গণতন্ত্রের স্পেস কমিয়ে দেওয়া নয়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপনি বলেছেন, ‘আপনি-আমি মিলে যে ভোটের জন্য লড়াই করেছি, আজিজ কমিশনকে ঘেরাও করেছি, আমরা এক কোটি ১০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা ছিঁড়ে ফেলে নির্বাচন বর্জন করেছি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও। আজকে কেন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারছে না?’

আপনার কথা শুনে দেশের সাধারণ মানুষ বাহবা দিচ্ছে। তবে সবার মনে বাড়তি একটি প্রশ্ন উঠেছে- আপনিওতো নির্বাচিত এমপি। নির্বাচনের পরের দিন এমন বক্তব্য কেন দিলেন না? আপনার সাংসদ পদ থেকে কেন স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিলেন না? নির্বাচনের পর এমন বক্তব্য দিলে আপনি কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে আইকন হয়ে থাকতেন।সাংসদ পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে এমন বক্তব্য দিলেও আপনি স্মরণীয় হয়ে থাকতেন। আপনি কোনোটিই করেননি। ফলে কিছু প্রশ্নের জন্ম নিচ্ছে। আপনি কি নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন নাকি মন্ত্রিত্ব চাচ্ছেন? প্রশ্ন উঠতে পারে এতদিন মন্ত্রিত্বের অপেক্ষার পর ব্যর্থ হয়ে এমন ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়ে ফেললেন!

আপনিও কিন্তু ডাক ও তার মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময়টা দুর্নীতিমুক্ত থাকলে অন্তত এ বিভাগে উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ দিতেন।মানুষকে কথা বিশ্বাস করাতে হলে অন্যেকে দোষারোপ না করে নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করতে হয়।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থেকে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে কিন্তু আলোচিত হয়েছিলেন।আপনিও আলোচিত হতে পারতেন। তা না করে সরকার গঠনে শরিক হয়ে এখন সরকারিবিরোধী দল হচ্ছেন?

সাংসদ মহোদয়, আগে পদত্যাগ করুন। তারপর সরকারের সমালোচনা করুন। আপনিও মন্ত্রী ছিলেন।দুর্নীতির দায় আপনিও এড়াতে পারেন না। এখন মন্ত্রিসভায় নেই তাই আপনি সরকারের সমালোচনা করছেন। আপনি বিমানে উঠে বিমান ভূপাতিত করে ছাড়ছেন। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী হয়ে ক্যাসিনোর ফিতা কেটেছেন আর এখন বলছেন সরকারের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতি করছে।সরকারি তহবিলের টাকায় হজ করলেন, প্লট নিলেন। গণমাধ্যমে উঠে আসছে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাচ্ছে, ভিআইপি তালিকায় এবার নাম এসেছে সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের।

যিনি প্রতি মাসে সম্রাটের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন। এমনকি প্রতি মাসে নিয়মিত মাসোহারা না পেলে তিনি অকথ্য ভাষায় যুবলীগের নেতাদের গালিগালাজ করতেন। জুয়ার টাকায় ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণসহ বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন বর্ষীয়ান এই বামপন্থী নেতা। ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে।

বাকি রইলো কী? সরকারকে দোষী মনে করলে আপনাদের আমলও বাদ যাবে না। সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আর যদি মন্ত্রিত্বের জন্য বলে থাকেন তাহলে চিল্লাইয়া লাভ নাই। চিল্লাইয়া কি মন্ত্রিত্ব পাওয়া যায় ? বিশেষ প্রয়োজন হলে আলোচনা করে দেখতে পারেন। অন্যথায় অপেক্ষা করুন।

লেখক: সংবাদকর্মী, টাঙ্গাইল

সংবাদটি শেয়ার করুন

নির্বাচিত খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :