চাকরি নয় শাস্তি দাবি সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

শাহ্ আলম শাহী, নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
 | প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৫৮

ছেলের চাকরি হারানোর প্রতিবাদে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করা দিনাজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ছেলের চাকরি ও বাড়ি ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু চাকরি বা বাড়ি কোনোটাই এখন আর নিতে চায় না এ প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। তারা এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী বক্তিদের শাস্তি দাবি করছেন।

‘এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি ছেলেকে চাকুরীচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে। তাই মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা হিসেবে তাদের সালাম/ স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে নিতে চাই না আমি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন তার মৃত্যুর দুই দিন আগে এমন চিঠি লিখে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধ ইসমাইল হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফনের ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ও স্থানীয়ভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্য্য় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল আলম প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তার ছেলে নুর ইসলামের হারানো চাকরি ও বাড়ি ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন তিনি।

তবে ডিসি সাংবাদিকদের জানান, নুর ইসলাম নেশাগ্রস্ত এবং তাকে দিয়ে কোনো ভালো কাজ করা সম্ভব নয়।

এদিকে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকির হোসেন আজ শনিবার বিকেলে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদস্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের বরাবরে লেখা চিঠি সূত্রে জানা যায়, হুইপ ইকবালুর রহিমের সুপারিশে ছেলে নুর ইসলামের নো ওয়ার্ক নো পে ভিক্তিতে এসিল্যান্ডের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি হয় ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। কিছুদিন আগে এসিল্যান্ড তাকে বিভিন্ন অজুহাতে চাকরিচ্যুত করেন। পরে বিষয়টি হুইপ ইকবালুর রহিমকে জানালে তিনি বিষয়টি এডিসিকে দেখতে বলেন। এরপরও চাকরি ফেরত না পাওয়ায় জেলা প্রশাসককে জানাতে গেলে তিনি তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।

চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আরও লেখেন, ‘জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে নিয়ে করা স্বাধীন দেশে আমার ছেলের রুজি-রোজগারটুকুও অন্যায়ভাবে কেড়ে নেয়া হলো। গত ২১ অক্টোবর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুরের কার্ডিওলজি বিভাগে, ওয়ার্ড নং-২, বেড নং-৪৪ এ ভর্তি অবস্থায় আছি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকুরীচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম/স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে আমি চাই না।‘

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন ২২ অক্টোবর চিঠিতে স্বাক্ষর করে তা ডাকযোগে ঢাকায় হুইপ বরাবরে পাঠান। পরদিন সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় মারা যান ইসমাইল হোসেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের শেষ বিদায়ের সময় সেখানে বাজেনি বিগউলের সুর।

জানা যায়, দাফনের আগমুহূর্তে ম্যাজিস্ট্রেট মহসীন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের একটি দল গার্ড অব অনার জানাতে গেলে বাধা দেয় পরিবার ও এলাকাবাসী। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের মরদেহ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করা হয়নি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরো অনেকের দেখা মিলেছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের দাফনের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের হেঁয়ালিপনা ও স্বেচ্ছাচারিতা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আলীসহ স্থানীয় অনেকে।

//////দুখ, কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। প্রতিবাদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নেননি তিনি। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ভাতিজা সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।

(ঢাকাটাইমস/২৬অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :