আজিজ মোহাম্মদের বাসায় বিপুল মদ-সিসা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:২৮ | প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৯

দেশে ‘রহস্যময় পুরুষ’ ও ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, সিসা ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম।

আজ রবিবার বিকাল পাঁচটা থেকে রাত সাতটা পর্যন্ত আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গুলশান-২ নম্বর এলাকার ৫৭ নম্বর রোডের ১১/এ বাসায় অভিযান চালানো হয়।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে গুলশান-২ নম্বরে আজিজ মোহাম্মদের মালিকানাধীন ৫৭ নম্বর রোডের ১১/এ বিল্ডিংয়ে ছোট ভাই রাজা মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এর আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযানে পারভেজ আহমেদ ও নবীন নামে দুজনকে আটক করা হয়। তারা মদের কারখানা পরিচালনা করতেন বলে জানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় ক্যাসিনো সামগ্রীর মধ্যে যেসব কয়েন পাওয়া গেছে, সেগুলো ডলার ও সেন্টসের। ১ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত কয়েন আছে। তাতে ধারণা করা হচ্ছে এখানে ক্যাসিনো খেলতে আসতেন উচ্চ পর্যায়ের লোকজন।

এর আগে ২০০৭ সালে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির অভিযোগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পারস্যের বাহাইয়ান (বাহাইন থেকে ভাই) সম্প্রদায়ের মানুষ আজিজ মোহাম্মদ ভাই আশির দশক থেকে দেশে আলোচিত নাম। নারী, মাদক ও বিনোদন জগতে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে বিপুল আলোচিত-সমালোচিত নাম আজিজ মোহাম্মদ ভাই।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন ও গডফাদার হিসেবেও তার পরিচিতি আছে বিভিন্ন মহলে। সব সময় থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এরশাদের আমলে নারীঘটিত ঘটনায় একবার গ্রেপ্তার হলেও প্রিন্স আব্দুল করিম আগা খানের সুপারিশে মুক্তি পান তিনি। নব্বইয়ের দশক এবং একবিংশ শতকের প্রথম দশক জুড়ে প্রায় সব সময় আলোচনায় থাকা আজিজ মোহাম্মদ ভাই গত কয়েক বছর ধরে একটু আড়ালে আছেন। ২০১২ সালে মাদক ব্যবসার অপরাধে আজিজ মোহাম্মদের ভাতিজা ইয়াবা সম্রাট বলে খ্যাত আমিন হুদার ৭৯ বছরের জেল হয়।

গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজ মোহাম্মদের বাসায় অভিযান চালানো হয় বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, তবে তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বাসাটি দেখভাল করেন তার ভাই ও বোন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাই বর্তমানে সপরিবারে থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন।

মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় মদের কারখানায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও সিসার সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, দুটি জুয়ার বোর্ড, পাঁচ কেজি সিসা ও ২০০ গ্রাম গাঁজা রয়েছে। কারখানা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই অলিম্পিক ব্যাটারি, অলিম্পিক বলপেন, অলিম্পিক ব্রেড ও বিস্কুট, এমবি ফার্মাসিটিউক্যাল, এমবি ফিল্ম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মালিক। সার্ক চেম্বার অব কমার্সের আজীবন সদস্য আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুরে রয়েছে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যাবসা।

একসময় দেশের চলচ্চিত্রজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। নব্বইয়ের দশকে তিনি এমবি ফিল্মসের ব্যানারে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসেন। ৫০টির মতো চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে সমীহ করে চলতেন পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রী এমনকি মিডিয়া মালিক ও সাংবাদিকরা।

তার বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। ১৯৯৭ সালে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা ও ১৯৯৯ সালে ঢাকা ক্লাবে আরেক চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী খুনের সঙ্গে তার হাত রয়েছে বলে প্রচার আছে। একজন পত্রিকা সম্পাদককে হত্যার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তিনি থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পারস্য বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ভাই পরিবার ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসে। ঢাকার আরমানিটোলায় ১৯৬২ সালে আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের জন্ম।

(ঢাকাটাইমস/২৭অক্টোবর/এসএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :