যেভাবে চাঁদাবাজি করতেন এসপি হারুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩২ | প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪০
ফাইল ছবি

বিতর্কিত পুলিশ সুপার (এসপি)হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে সেখানকার নানা পেশার মানুষ। বিশেষ করে নানা কায়দায় চাঁদাবাজির অভিযোগই বেশি তার বিরুদ্ধে। আর রাজনৈতিক নেতাদের নানাভাবে হেনস্তা করার প্রবণতা ছিল তার মধ্যে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনীতিক সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল প্রকাশ্য।

প্রচলিত আছে নারায়ণগঞ্জে নিজের চাঁদাবাজির পথ সুগম করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখতেন এসপি হারুন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মীকে এলাকায় থাকতে হয়েছে এসপি হারুনকে চাঁদা দিয়ে।

এসপি হারুনের এই প্রভাবের পেছনে ছিল মাঠ পর্যায় থেকে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে রাখা। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ তেমন কুলিয়ে উঠতে পারেননি। এমনকি শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী নেতাকে তার কাছে অসহায় হতে দেখা গেছে। তবে শামীম ওসমান বিভিন্ন সময় বড় বড় সমাবেশ করে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সর্বশেষ হারুনের উদ্দেশে শামীমের হুমকি ছিল ‘খেলা শুরু হয়েছে । আমরাও খেলতে জানি।’

এসপি হারুনের বেপরোয়া নানা অপকর্মের কথা পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল জানত না তা নয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু রহস্যজনক এক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারেননি। এমনটাই জানান কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। তারা আরও জানান, এসপি হারুনের প্রধান অস্ত্র ছিল তার ওপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থা। এরই অপব্যবহার করে তিনি চাঁদাবাজির মচ্ছব করেন। যখন-তখন ব্যবসায়ী-শিল্পতিদের চা খাওয়ার কথা বলে ঢেকে নিয়ে অর্থ দাবি করতেন।

কেন্দ্রে ভুল তথ্য দিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা এসপি হারুন সরকারি কোনো প্রটোকলের ধার ধারতেন না- এটা ছিল ওপেন সিক্রেট। একই কাজ তিনি করেছেন শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত গাজীপুরের এসপি থাকাকালেও। তবে সেখানে শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালিী কেউ না থাকায় নির্বিবাদে নিজের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড করে গেছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বদলি হন আরেক শিল্প-কারখানার জেলা নারায়ণগঞ্জে। প্রচলিত আছে, তার আগমনে যেন এখানে ‘বাঘের ঘরে ঘোঘের হানা’ ঘটে।

দেশে মাদক, চাঁদাবাজি, দখল, হত্যা-সন্ত্রাসের জনপদ হিসিবে পরিচিতি আছে নারায়ণগঞ্জের। স্বভাবগত বেপরোয়া এসপি হারুনের জন্য এই বদলি শাপে বর হয়। এখানে এসেই এসপি হারুন মাদক, চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাসের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এই জগতের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে এসপি হারুনের এসব হুমকি ছিল ওই সব অপরাধকাজে জড়িতদের কাছে এক ধরনের ইঙ্গিত। যারা ইঙ্গিত বুঝে এসপি হারুনকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছে তারা নির্বিবাদে অপকর্ম করে গেছে। আর অন্যরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এটা ছিল তার মাঠ পর্যায়ের খুচরা চাঁদাবাজি।

এসপি হারুনের বড় চাঁদাবাজির টার্গেট ছিলেন বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। তার সর্বশেষ শিকার দেশের প্রখ্যাত শিল্পগ্রুপ পারটেক্সের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল। তবে এবার আর রক্ষা পাননি এসপি হারুন। চাঁদার দাবিতে তার পরিবারকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে ভুয়া মামলার ঘটনায় এসপি হারুনকে ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে (ট্রেনিং রিজার্ভ) সংযুক্ত করা হয়।

এসপি হারুনের চাঁদাবাজির ধরনও ছিল বেপরোয়া। সাজাতেন নাটক। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা- সব জায়গায় তিনি নাটকের পাণ্ডুলিপি রচনা করেছেন। কখনো কখনো নিজে সরাসরি চাঁদা দাবি করতেন। কখনো অধস্তন বিশেষ করে গোয়েন্দা কর্মর্কাতাদের ব্যবহার করতেন চাঁদার বাণিজ্যে। চাঁদার জন্য তালিকা করে টার্গেট ব্যক্তিকে নিজের দপ্তরে ডেকে নিয়ে আটকে রাখার নামে জিম্মি করারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এভাবে নারায়ণগঞ্জে হারুনের শিকার হয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রভাবশালী শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও।

বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসপি হারুন অনেক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন চাঁদা দাবির ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য। তাতে অনেকে চাঁদা তো দিয়েছেনই, তার আগে নাজেহালও হয়েছেন হারুনের কাছে। আবার অনেকে বিশেষ করে বড় শিল্পপতিরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করে নাজেহাল হয়েছেন। এসপি হারুনের প্রভাবের কারণে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস পাননি।

অভিযোগ আছে, এসপি হারুনের নির্দেশে প্রতি রাতে ডিবির একাধিক দল নেমে পড়তো টার্গেট ব্যক্তির উদ্দেশে। গাড়িতে মজুত রাখা হতো ইয়াবা, অস্ত্র ও বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। সুযোগ বুঝে ওই সব জিনিস দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হতো নিরপরাধ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও ধনী পরিবারের সন্তানদের।

শওকত আজিজ রাসেলের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে এ রকমই এক নাটক বানান এসপি হারুন। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাসেলের গাড়ি থেকে ২৮টি গুলি, ১ হাজার ২০০টি ইয়াবা, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। রাসেল ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়েছে। গাড়িতে তার স্ত্রী ও ছেলে ছিলেন।

অথচ শওকত আজিজ রাসেলের গুলশানের বাসায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের শুক্রবার রাতের অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের সদস্যরা শওকত আজিজের স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ক্লাব থেকে রাসেলের গাড়িটি নিয়ে যান হারুন অর রশীদের লোকজন।

চাঁদা নিয়ে হারুন অর রশীদের সঙ্গে তার পুরনো বিরোধ ছিল জানিয়ে শওকত আজিজ রাসেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি তিনি রূপগঞ্জে নতুন একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। সেখানেও বাগড়া দিচ্ছিলেন এসপি হারুন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্লাব থেকে তার গাড়িটি নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরদিন শুক্রবার রাতে তার গুলশানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান হারুন। পরদিন ওই খোয়া যাওয়া গাড়িতে ইয়াবা, মদ ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে তার ও তার গাড়িচালকের নামে মামলা করা হয়।

হারুনের চাঁদাবাজি নিয়ে ২০১৬ সালের ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন রাসেল। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গাজীপুর থেকে বদলির পর এসপি হারুন অর রশীদ তার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার পক্ষে উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম আম্বার ডেনিমের স্টোর ম্যানেজার ইয়াহিয়া বাবুকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। এর আগেও গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় হারুন তাকে ডেকে নিয়ে ৫ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিমের ৪৫ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর রাতে হারুনের লোকেরা আরও একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে গুলশান থেকে তুলে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আটকে রাখেন। সেদিন রাতে ওই শিল্পপতি নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তার গাড়িটি গুলশানের ১১৩ নম্বর সড়কের মুখে এলে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে চালককে জোর করে নামিয়ে দেয়। এরপর শিল্পপতি ও তার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান। হারুন ওই শিল্পপতির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন।

এসপি হারুন তার চাঁদাবাজি নিষ্কণ্টক রাখতে কখনো কখনো তার অপকর্মের সহযোগী অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর দায় দিয়ে তাদের শাস্তিমূলক বদলি করাতেন। গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ ডিবির ওসি এনামুল হককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের এক আদেশে। এসপি হারুন প্রচার করেন, এনামুল হককে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বদলি করা হয়েছে।

এসপি হারুন ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে আসার পর থেকেই আতঙ্ক ছিল বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে। যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারির অপকর্মে জড়িত ছিলেন, তারা তটস্থ ছিলেন এসপি হারুনকে কতটা ‘ভাগ’ দিতে হবে আশঙ্কা করে। কেননা নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সাধারণত এসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য কখনো হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি আগে। কিন্তু এসপি হারুনের গাজীপুরে কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন তারা।

বর্তমানে চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত এসপি হারুন আগে থেকেই দেশজুড়ে আলোচিত নাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকালে ২০১১ সালে সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুককে মারধর করে প্রথম আরেঅচনায় আসেন এসপি হারুন।

রাজনীতিকদের প্রতি তার আক্রোশ বর্তমান সরকারের আমলেও প্রকাশ পায় উল্টোভাবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এসপি হারুন সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনেককে রাতের বেলা তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসপি হারুনের হয়রানির শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, নাসিক প্যানেল মেয়র-২ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক, জাপা নেতা জয়নাল আবেদীনসহ ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

আরও যত অভিযোগ

গত ২ এপ্রিল ফতুল্লার পাগলায় ভাসমান রেস্তোরাঁ ও বার মেরি এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ২৫ জন স্টাফ ও ৪৩ জন মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ টিটুকে জড়ানোর চেষ্টা করেন এসপি হারুন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন।

গত ৪ অক্টোবর পুলিশ ফতুল্লার পঞ্চবটিতে ইউনাইটেড ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্লাবটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তাপুসহ বিভিন্ন পেশার সাত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের জুয়া আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে ২০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান তারা।

এর আগে ৩ অক্টোবর ডিবি পুলিশের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জে ম্যাক্স ইলেক্ট্রা ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৮ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ দাবি করে, ওই প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ও নকল পণ্য সামগ্রী মজুত রয়েছে। ম্যাক্স ইলেক্ট্রার মালিক বেলায়েত হোসেন বলেন,  পুলিশ তার প্রতিষ্ঠানে অভিযানের সময় নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা ও এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেয়নি। অথচ তার প্রতিষ্ঠানের পাশেই শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় অবস্থিত। ঘটনার সময় পুলিশ সুপারকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানে থাকা মালামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও তিনি তা দেখেননি। টেলিফোনে এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করেন বলে েঅভিযোগ বেলায়েতের।

তার আগের দিন ২ অক্টোবর রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার রসূলপুর এলাকায় পুলিশের একটি দল মাস্টার কয়েল ফ্যাক্টরির মালিক জামাল হোসেন মৃধার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের দাবি তার বাড়ি থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় জামাল হোসেন মৃধাসহ তিনজনকে। জামাল মৃধার ৩টি ফ্যাক্টরি ও একটি গরুর খামার রয়েছে।

জামাল মৃধার বড় ভাই লাভলু মৃধা বলেন, কোরবানির ঈদে খামারের গরু বিক্রি এবং কারখানার মালামাল ক্রয়ের জন্য বাসায় সোয়া ৩ কোটি টাকা ছিল। অথচ পুলিশ উদ্ধার দেখিয়েছে সোয়া ১ কোটি টাকা। আর ইয়াবার বিষয়টি পুলিশের সাজানো।

(ঢাকাটাইমস/৫নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :