দিলীপের বক্তব্য গরুর ঋণ চাইলেন কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪১ | প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ গত সোমবার বর্ধমানে ‘ঘোষ এবং গাভীকল্যাণ সমিতি’র সভায় মন্তব্য করেছিলেন যে গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। তাই দুধের রং হলুদ হয়। দেশি গরুর কুঁজের মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সূর্যের আলো পড়লে, সেখান থেকে সোনা তৈরি হয়।

এই বক্তব্যের পর রাজ্যের হুগলির চীতলার গরলগাছা এলাকার এক সুশান্ত মণ্ডল নামের এক কৃষক নিজের খামার থেকে একটি গরু আর বাছুর নিয়ে স্থানীয় ঋণ সংস্থার নিকট হাজির হয়ে দাবি করেন, ‘সোনা নিন, ঋণ দিন’। তিনি দাবি করেন, গরু আর বাছুর জমা রেখে তাকে ঋণ দেয়া হোক। তিনি ব্যবসা বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু ঋণ সংস্থাগুলো গরুর পরিবর্তে তাকে ঋণ দিতে অসম্মতি জানায়।

সুশান্ত মণ্ডল রাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোর নিকট বলেছেন, ‘কয়েক দিন ধরেই মিডিয়াতে দিলীপ ঘোষের কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি আছে। তাতে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বেরোবে। তাই আমি গিয়েছিলাম। ঋণ পেলে ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তারা নিতেই চাইল না।’

সুশান্ত মণ্ডল এ ঘটনায় ক্ষান্ত দেননি। ঋণ সংস্থা থেকে ঋণ না পেয়ে তিনি স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে গিয়ে গরুর পরিবর্তে ঋণের ব্যবস্থার দাবিতে উপস্থিত হন। পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিং বলেন, দিলীপবাবুর ওই কথার পর তাকেও এ রকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগেও নাকি বেশ কয়েকজন তাকে গরু বন্ধক রেখে লোন পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন।

গরু নিয়ে বিভিন্ন তাত্ত্বিক আলোচনা করতে পছন্দ করেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা। সোমবারের ওই সভায় রাজ্যের বিজেপি প্রধান দিলীপ বাবু আরো বলেছিলেন, ‘‘বিদেশ থেকে যে গরু আনা হয়, তা ‘হাম্বা’ আওয়াজ করে না। যে ‘হাম্বা’ ডাকে না, সে গরুই নয়। গোমাতা নয়, ওটা আন্টি। আন্টির পুজো করে দেশের কল্যাণ হবে না।’’

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এমন তত্ত্ব শুনে অবাক হয়েছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, এমন ‘বৈজ্ঞানিক’ গবেষণা পৃথিবীর কোথাও হয়েছে বলে তাদের জানা নেই।

এর আগে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি মন্ত্রী রেখা আর্য দাবি করেছিলেন, ‘গরুই একমাত্র পশু, যে শ্বাস গ্রহণের সময় শুধু অক্সিজেন গ্রহণ করে না, প্রশ্বাসের সঙ্গে তা পরিবেশে ফিরিয়েও দেয়’।

বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞাও দাবি করেছিলেন, তিনি স্তনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গোমূত্র পান করে আর পঞ্চগব্য গ্রহণ করে নিজেকে সারিয়ে তুলেছেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী বলেন, ‘গরুর দুধে যদি সোনা থাকত, তা নিয়ে তো কাড়াকাড়ি পড়ে যেত’।

রাজ্যের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজির শিক্ষক স্বপন জানার মন্তব্য, ‘বিজেপি আর বিজ্ঞান- মেলানো কঠিন। ওরা বিলক্ষণ জানেন, গোদুগ্ধে কী আছে। অযথা এসব বলে জনতাকে বিভ্রান্ত করছেন, অনেক বড় সমস্যা থেকে তাদের নজর ঘুরিয়ে দিতে।’

পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, ‘গরুর দুধে সোনার তত্ত্ব শুনে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়।’

ঢাকাটাইমস/০৭নভেম্বর/আরআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :