অভিজিৎ হত্যায় আরও দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫২
ফাইল ছবি

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় আরও দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ টিএসসির পানি ব্যবসায়ী মো. সেলিম ও পুলিশ কনস্টেবল মো. নুরুল ইসলাম।

সোমবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে পানি ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসি মোড়ে দুইজন লোককে পড়ে থাকতে দেখি। আরও কাছে গিয়ে দুইজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে পুলিশ অফিসার তাকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অপর সাক্ষী কনস্টেবল নুরুল হামলার ঘটনার পর অভিজিতের আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে নিহত ব্যক্তিকে অভিজিৎ হিসেবে চিহ্নিত করেন বলে সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে আসামি আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ, মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ও মো. আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে সাহাবকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আব্দুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

মামলায় গত ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর নিহত অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় বাদী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছর গত ১৩ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ধারায় এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

চার্জশিটে বলা হয়, ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে অপপ্রচার ও মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করায় মেজর জিয়ার নির্দেশ ও পরিকল্পনা এবং শারীরিক প্রশিক্ষক সেলিমের উপস্থিতিতে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার দুদিন আগে থেকে জঙ্গি সায়মন, সোহেল, আকরাম ও হাসান অভিজিৎ রায়ের গতিবিধি অনুসরণ করেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আরাফাত, খলিল ওরফে আলী, অন্তু ও অনিক হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর জিয়া, শরীরচর্চা প্রশিক্ষক সেলিমসহ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন, যাতে তাদের সহযোগীদের কেউ আটক করতে না পারে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা ঘটনাস্থলে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ফেলে পালিয়ে যান।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ ওরফে বন্যাকে গুরুতর আহত করেন। উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং তার স্ত্রী বন্যা চিকিৎসক ছিলেন।

পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/আরজে/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :