হলি আর্টিজান ট্রাজেডি: রায়ে নিহত এসি রবিউলের পরিবারের সন্তোষ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৮

হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার নিহত রবিউল করিমের মা করিমুন নেছা। বলেন, ‘একটি দৃষ্টান্তমূলক ও যুগান্তকারী রায় হয়েছে। এই রায়ের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হলো দেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের ঠাঁয় হবে না।’

বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রায় ঘোষণার পর এসি রবিউলের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় আবেগজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘হয়তো আর কোন দিন আমি আর আমার সন্তানকে ফিরে পাব না। তবে এধরনের রায় শোনার জন্য দীর্ঘ তিনটি বছর এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে যে রায় হলো, এতে আমি সন্তুষ্ট। আমি এই রায়ের দ্রুত কার্যকর চাই।  কারণ এই সন্তানই ছিল আমার একমাত্র মাথার ছায়া। তাকে  হত্যা করার পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকে আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। কারণ আমাদের বিপদের সময় তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

প্রয়াত রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘যে চলে গেছে তাকে তো কখনো পাওয়া যাবে না। তবে তার তৃপ্তির বিষয় রবিউল সব সময় দেশ ও দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করত।  দেশের জন্য রবিউলের এ আত্মত্যাগ কেউ কখনো ভুলতে পারবে না। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, রবিউলকে দেশ ও দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।  এই রায়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।’

এদিকে এসি রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস  জানান,  ঘোষিত রায়টি হয়েছে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়।  তিনি আরও বলেন, সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠা আমাদের এদেশে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ কখনোই কাম্য নয়। হলি আর্টিজানের ঘটনা আমাদের  স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ভাইকে হারানোর যন্ত্রণা লাঘবের সুযোগ তৈরি হয়েছে, মূলত হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে বতর্মান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক সন্ত্রাস নির্মূলের সফল অভিযানের পর থেকেই। আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে- যার মধ্য দিয়ে ন্যায়, সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যে প্রত্যাশায় আমরা ছিলাম- সেটি পূর্ণ হলো। আশা করি, এটি দ্রুত কার্যকর করার মধ্যদিয়ে আমাদের সকলের প্রত্যাশা পরিপূর্ণতা পাবে। যাকে খালাস দেয়া হয়েছে তার বিষয়ে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

প্রসঙ্গত, ৩০তম বিসিএস পাস করে ২০১২ সালের ৩ জুন রবিউল যোগ দেন পুলিশ বিভাগে। সৎ ও নিষ্ঠাবান অফিসার হিসাবে সুনাম ছিল তার।  পারিবারিক জীবনে নিহত রবিউল করিম স্ত্রী আট বছরের এক পুত্র সন্তান সাজিদুল করিম ও সাড়ে তিন বছরের মেয়ে রায়নকে রেখে গেছেন। নিহত হবার পর সরকার থেকে স্ত্রী ওম্মে সালমাকে জাহাঙ্গীরনগর  বিশ^বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৭নভেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :