স্বপ্নের দেশে যাওয়া হলো না ভৈরবের ১৯ যুবকের

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:০৫

স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়া হলো না কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের ১৯ যুবকের। সংসারের সুখের আশায় তারা সোনালি স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া হয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লিবিয়ার কোস্ট গার্ড তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ করে আটকের পর দেশে পাঠিয়ে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার ১৫২ জন বাংলাদেশি বিদেশ থেকে ফেরত আসে। এদের মধ্য ১৯ জন যুবক ভৈরবের। এরা বৃহস্পতিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর শুক্রবার ভৈরবে যার যার বাড়িতে চলে আসেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বাত্মক চেষ্টায় লিবিয়া-বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ( আইওএম)  সক্রিয় সহযোগিতায় একটি চার্টার্ড বিমানে করে তাদের দেশে পাঠানো হয়।

শনিবার ও গতকাল ভৈরবে ফেরত আসা কয়েকজন যুবক বিদেশে যাওয়া এবং ফেরত আসার কষ্টের কাহিনি ঢাকা টাইমসকে জানান।

দেশে ফেরত আসা যুবকরা হলেন- ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের সম্ভুপুর গ্রামের রনি মিয়া ও মঈন উদ্দিন, লক্ষীপুর গ্রামের অন্তর, ইমরান, আমিনুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, মাহাম্মদ আলী, জোনায়েত, জগনাথপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান, মারুফ মিয়া, শান্ত মিয়া, মেহেদী হাসান, ছনছাড়া গ্রামের সুজন মিয়া, রঘনাথপুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া, রাজাকাটা গ্রামের রিমন মিয়া, জীবন মিয়া, ভাটি কৃষ্ণনগর গ্রামের সাগর মিয়া, পৌর এলাকার ভৈরবপুর গ্রামের সাব্বির মিয়া ও ওলি উল্লাহ।

ফেরত আসা যুবকরা জানান, দেশে কোন কাজ না পেয়ে স্বপ্নের দেশ ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশে তারা দালালদের মাধ্যমে লিবিয়াই যায়। দালালরা বলেছিল, লিবিয়া থেকে তাদের সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পাঠাবে। গত ৩০ অক্টোবর তাদের দালালরা রাবারের বোর্ডে তুলে সাগর দিয়ে রওনা হয় ইতালির উদ্দেশে। এদিনই লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়ে তারা। পরে তাদের লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশ তাদের জেলে পাঠায়। ফেরত আসা যুবকরা প্রত্যেককেই ৫-৭ লাখ টাকা করে দালালদের দিয়েছে বলে জানায় তারা। জেলে তাদের অমানসিক নির্যাতন করে কারারক্ষীরা। তারপর বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আইওএম’র সহযোগিতায় ২৬ দিন জেলে খাটার পরে যুবকরা দেশে ফেরত আসে।

ফেরত আসা যুবকদের অনেক অভিভাবক জানান, আমাদের ছেলেকে ফেরত পেয়েছি এতে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া। অনেকেই ধার দেনা করে লাখ লাখ টাকা দালালদের দিয়ে ইতালি স্বপ্নের দেশে যেতে চেয়েছিল। বিদেশ গিয়ে রোজগার করে সংসারের অভাব-অনটন দূর করে সংসারে সুখ ফিরে আনতে চেয়েছিল। কিন্ত সেই স্বপ্ন এখন চুরমার হয়ে গেছে। তাদের চোখে মুখে এখন অন্ধকার।

(ঢাকাটাইমস/১ডিসেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :