টিসিবির পেঁয়াজে দেশজুড়ে কাড়াকাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৭ | প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৫১

চল্লিশ টাকার ঘর ছাড়িয়ে দুই মাসে আড়াইশ টপকেছে পেঁয়াজের দাম। বাজারের দামের চেয়ে কয়েকগুণ কমে নিত্যপণ্যটি বিক্রি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। আগে সীমিত পরিসরে হলেও এখন জেলায় জেলায় ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে তারা। প্রতি কেজি ৪৫ টাকা করে সেই পেঁয়াজ কিনতে বিভিন্ন জেলাতে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে নিত্যপণ্যটির দাম নাগালে রাখতে একাধিক উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি শিল্পগ্রুপের মাধ্যমে কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আনার ঘোষণা আসে। সেসব পেঁয়াজের চালান আসতেও শুরু করেছে। তার সঙ্গে জাহাজে করে আনা পেঁয়াজও বাজার ভর্তি। এরপরও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলমান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরাও একই পেঁয়াজ হরেক দামে বিক্রি করছেন।

পেঁয়াজের মূল্যে অনেকটা দিশেহারা ক্রেতা কম মূল্যে বিক্রির খবর শুনলেই সেখানে ছুটছেন। বিশেষ করে টিসিবির ৪৫ টাকার পেঁয়াজ বিক্রির ট্রাক ঘিরে লেগে থাকে লম্বা লাইন। কারণ রাজধানীসহ দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে টিসিবির পেঁয়াজ ভাগ্যক্রমে কিনতে পারলে দেড়শ টাকারও বেশি পকেটে রাখতে পারছেন ক্রেতারা।

তবে পেঁয়াজের চড়ামূল্য শুরু হওয়ার পর থেকে ঢাকায় টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করায় প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও নগরবাসী ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে পেরেছেন। কিন্তু ঢাকার বাইরে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সম্প্রতি। যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ এমন উদ্যোগ নিয়ে টিসিবির কোনো প্রচারণা নেই।

যদিও প্রচারণার দায়িত্ব তাদের নয় বলে দাবি টিসিবির। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাহিদা পাওয়ার পর বিভাগ বা জেলার নির্ধারিত এলাকায় ট্রাক সেলের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়।

টিসিবির হিসাব মতে, দেশে প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টন। এই হিসাবে মাসে প্রয়োজন ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন।  ভারত পেঁয়াজ  দেয়া  বন্ধ করার পর বিপদ সামাল দিতে বিমানযোগে ও নদী পথে মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরও দাম কমেনি।

এদিকে ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা শুরু করে। বর্তমানে ঢাকায় ৫০টি ট্রাকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। প্রতি ট্রাকে ১ হাজার কেজি পেঁয়াজ থাকে। সেখান থেকে জন প্রতি ১ কেজি করে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে প্রায় ৩০০টি ট্রাকে একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

গত ২১ নভেম্বর পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করার কথা জানায় টিসিবি।

ঢাকা টাইমসের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। তবে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় কাড়াকাড়ি অবস্থা। অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, বন্দরনগরীর পাঁচটি জায়গায় ট্রাকে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রেতাদের। এমন অবস্থায় একজনকে দেয়া হচ্ছে এক কেজি পেঁয়াজ।

বাগেরহাটেও ৪৫টাকা করে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। তবে প্রচারণা কম থাকায় ক্রেতাদের অনেকে বিষয়টি জানতে পারেননি বলে জানা গেছে। তারপরও সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেঁয়াজ বিক্রির খবর শুনে বক্রি শুরু করে টিসিবি। পেঁয়াজ বিক্রির খবর পেয়ে পাশের আদালতপাড়ায় বিভিন্ন কাজে আসা শতশত নারী, পুরুষ পেঁয়াজ কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টিসিবির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, ‘তুরস্ক থেকে আমদানি করা ৩ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। টিসিবির যেহেতু জেলা শহরে কোন কার্যালয় নেই তাই স্থানীয় প্রশাসনই ঠিক করবে এই পেঁয়াজ কোথায় কতটুকু বিক্রি হবে।’

প্রচারণার ঘাটতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচার প্রচারণার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। তারা যেভাবে বলবেন সেখানে বিক্রি করা হবে।’

এদিকে ঝিনাইদহেও ৪৫ টাকার পেঁয়াজ কিনতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। সোমবার শহরের পায়রাচত্বরে টিসিবি খোলাবাজারে বিক্রি শুরু করে। অনেক কষ্টে এক কেজি মিশরীয় পেঁয়াজ নিয়েও আনন্দে ঘরে ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে দীর্ঘসময় যুদ্ধ করে টিসিবির ট্রাক থেকে ৪৫টাকায় পেঁয়াজ কিনেছেন মাগুরার ক্রেতারা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ পিঁয়াজ বিক্রির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম।

পিঁয়াজ কিনতে আসা রিজিয়া খাতুন বলেন, ‘বাজারে পিঁয়াজের দাম বেশি। সরকারিভাবে ৪৫ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ কিনতে পারায় আমি অনেক খুশি।’

টিসিবির মাগুরার ডিলার মইনুল হোসেন বলেন, ‘টিসিবি থেকে মাগুরায় ৩ মেট্রিক টন পিঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন এক হাজার কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করা হবে।’

ফেনীরও খোলাবাজারে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। সোমবার প্রথম দিনেই পেঁয়াজ কেনার জন্য দীর্ঘ লাইন ছিল ক্রেতাদের। তবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও পেঁয়াজ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন অধিকাংশ ক্রেতা।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন, টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে যশোরে টিসিবির একটন পেঁয়াজ বিক্রি শুরুর দুই ঘন্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে গেছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে শহরের দড়াটানা মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পেয়াজ বিক্রি করা হয়। এসময় প্রচুর মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ ক্রয় করেন। দুই ঘণ্টার মধ্যেই সব পেঁয়াজ শেষ হয়ে যায়।

টিসিবির ডিলার মাহফুজুর রহমান জানান, তিন টন পেঁয়াজ বরাদ্ধ পেয়েছেন। তিনদিনে বিক্রি করতে হবে। প্রথমদিন একটন পেঁয়াজ দুই ঘন্টায় শেষ। বাকিগুলো মঙ্গলবার ও বুধবার বিক্রি করা হবে। এরপর যদি আবার টিসিবি পেঁয়াজ দেয় তাহলে তিনি বিক্রি করবেন।

(ঢাকাটাইমস/০২ডিসেম্বর/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :