এবার আইভীর সঙ্গে খেলার ঘোষণা শামীম ওসমানের

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২০ | প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৭

মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামায়াতের লোক আর তার বাবা আহমদ চুনকার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশন ছিল দাবি করে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রাজনীতিক শামীম ওসমান এবার মেয়র আইভীর সঙ্গে খেলার ঘোষণা দিয়েছেন।

শামীম ওসমান বলেছেন, এ খেলায় নারায়ণগঞ্জে মাটি থাকবে না শুধু মাথা আর মাথা দেখা যাবে।

আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাংসদ শামীম।

মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের সাপে নেউলে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাদের বিরোধ মেটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ সহয়নি। তাদের সম্পর্ক আগের মতোই রয়ে গেছে। এখন একটি মামলা নিয়ে দুজনে আবার মুখোমুখি। খেলার হুমকি দিলেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমানের ঘোষিত  ‘খেলা’ দেশে বেশ আলোচিত শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সঙ্গে তার বিরোধ আলোচিত হয়েছিল। এই পুলিশ সুপারকেও শামীম বলেছিলেন, এবার খেলা হবে।

এসপি হারুন এক শিল্পপতির কাছে চাঁদা দাবি ও তার পরিবারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আটকে রাখার অভিযোগে এখন পুলিশ সদরে সংযুক্ত। এসপি হারুনের সঙ্গে ঝামেলা মিটতে না মিটতে মেয়রের সঙ্গে বিরোধ আবার মাঠে এল।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর হামলার অভিযোগে করপোরেশনের আইন কর্মকর্তার মামলার প্রতিক্রিয়ায়  শামীম ওসমান বলেন, ওই দিন মেয়র আইভী বিএনপি-জামাতের চিহ্নিত ক্যাডারদের নিয়ে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলামের ওপর হামলা করে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল।

একই সঙ্গে শামীম দাবি করেন- ওই দিন বিএনপি-জামাতের চিহ্নিত ক্যাডাররা আইভীকে ঘিরে রেখেছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় নিয়াজুল ইসলামের ওপর হামলা এবং তাকে  হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। মামলায় আওয়ামী লীগের নয়জন নেতাকর্মীকে আসামি করায় তিনি ওই ৯ নেতাকর্মী বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে হুঁশিয়ার করেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনার ২২ মাস পর গত ৪ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করা হয়। মেয়র আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তারের করা মামলায় শামীম ওসমানকে ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানা পুুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

মামলায় ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ জনকে আসামি করা হয়।

শামীম ওসমান দাবি করেন, ওই দিন বিএনপি-জামাতের চিহ্নিত ক্যাডারদের নিয়ে নিরীহ হকারদের মারধর করা হচ্ছিল। তখন নিয়াজুল নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় হকারদের মারধর করতে দেখে কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তখন তার ওপর তিন দফা হামলা করা হয়। যখন তাকে হত্যাচেষ্টা করা হলো তখন নিয়াজুল তার লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেছিল আত্মরক্ষার্থে। কিন্তু নিয়াজুল গুলিবর্ষণ করেনি। তার অস্ত্রটি ছিনতাই করে নেয়া হলো।

জামাতের সঙ্গে মেয়র আইভীর কানেকশন রয়েছে দাবি করে শামীম ওসমান বলেন, ‘জামায়াতের আমির  মাওলানা মাইনুদ্দীন আহমেদ রিমান্ডে পুলিশের কাছে বলেছিল মেয়র আইভী জামাতের লোক। তাকে কৌশলে আওয়ামী লীগে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।’ এমন স্বীকারোক্তির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে জানান শামীম।

মেয়র আইভীর প্রয়াত বাবা আওয়াম লীগ নেতা আলী আহম্মদ চুনকার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশন ছিল দাবি করে সম্মেলনে শামীম ওসমান একটি দলিল উঁচু করে তুলে ধরেন। বলেন, ‘১৯৭৬ সালের ২১ অক্টোবর এই দলিল করা হয়। এটা আমার চাচা চুনকা আদমজী এলাকায় বিশাল জমি লিখে জামাতের কাছে তুলে দিয়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার রক্তের দাগও তখন শুকায়নি।’

এর আগে শামীম ওসমান মেয়র আইভীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার নাম আমি মুখে আনতে চাই না। সামনে সময় আসছে, দেখা হবে।’

মেয়র আইভীকে মোস্তাকের বংশধর হিসেবে আখ্যায়িত করেন শামীম ওসমান। আইভীর উদ্দেশ্য বুঝে গেছেন দাবি করে মেয়রের উদ্দেশে শামীম বলেন, ‘আপনি বিদেশকে বোঝাতে চান আওয়ামী লীগের মেয়রকে হত্যাচেষ্টা করা হলো, অথচ তার মামলা পুলিশ নিলো না, তার মামলার জন্য হাইকোর্টে যেতে হলো। তাহলে বেগম খালেদা জিয়া তো বিচার পাচ্ছে না, এটা বিদেশকে এটা বোঝাতে চান।’

শামীম হুঁশিয়ার করে দেন, ‘খেলা যদি দ্রুতগতিতে চলে তাহলে আমরাও খেলায় নামব। তখন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে আর মাটি দেখা যাবে না, শুধু মাথা আর মাথা দেখা যাবে। চুপ করেই ছিলাম। এখন আর চুপ থাকব না।’

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সেক্রেটারি আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খোকন সাহা প্রমুখ।

মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বলেন, ‘হামলার ঘটনার পাঁচ দিন পর ২২ জানুয়ারি আমি বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দেয়া হলেও তা পুলিশ মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন করা হয়।

তাতেও কোনো ফল না হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। উচ্চ আদালতের বিচারক এম এনায়েতুর রহিম ও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এর গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ১ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করলে শুনানী শেষে বিকেলে আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিষয়ে জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনা ঘটে। আগের দিন বিকেলে চাষাঢ়ায় সমাবেশ করে হকারদের বসতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শামীম ওসমান। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়র, ডিসি ও এসপি বসে বিষয়টির সমাধান করুন। নতুবা ২৪ ঘণ্টা পর আমি নিজে হকার বসাব। একই দিন রাতে মেয়র মিডিয়াতে বলেছিলেন, ‘আমিও হকার উচ্ছেদে মাঠে নামব।’

 (ঢাকাটাইমস/৭ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :