অশীতিপর ফজল মুন্সি

‘বাবাজি, ওজন মেপে যান’

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৫

ফজল মুন্সি। বয়স ৮০-৮৫ হবে। টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায়ই দেখা যায় একটি ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে বসে আছেন। পথচারীদের ডেকে বলছেন- ‘বাবাজি, ওজন মেপে যান।’ ফজল মুন্সির চেয়ে অনেক কম বয়সী অনেকে আশপাশে বসে আছেন ভিক্ষার থলে নিয়ে। অশীতিপর ফজল মুন্সি এমন পেশা বেছে নিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া চরের বাসিন্দা ফজল মুন্সির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এই বৃদ্ধ বয়সে এমন পেশা বেছে নেওয়ার গল্প। ৪০ বছর আগে একমাত্র ছেলে মনিরুলকে জন্ম দেওয়ার সময় মারা যান ফজলের স্ত্রী। সময় পেরিয়ে মনিরুলের ঘরে এখন দুই সন্তান। ছেলের দিকে তাকিয়ে ফজল মুন্সি আর বিয়ে করেননি। ছেলে ওয়ালটন কোম্পানিতে কাজ করেন। বাবার সঙ্গে তেমন সম্পর্ক নেই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় আলাদা বাড়িতে থাকেন।

ফজল মুন্সির আশ্রয় দিনের বেলা শহরের এখানে-সেখানে, রাতের আশ্রয় পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া সংলগ্ন কাগমারা এলাকার একটি মসজিদে। কারণ বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও তা মেলেনি তার ভাগ্যে। এ জন্য জীবনসায়াহ্নে বেছে নিয়েছেন ওজন মাপার পেশা।

পরশু বেলা ১১টার দিকে যখন ফজল মুন্সির দেখা মিলল, তখন তিনি শহরের নিরালা মোড়ে। প্রতিদিনের মতো ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে বসে আছেন।

ফজল মুন্সি বলেন, ‘আমার এই বয়সে অন্য কোনো কাজ করার শক্তি নেই। ১৫০০ টাকা দিয়ে ওজন মাপার যন্ত্রটি কিনেছি। পথচারীদের ওজন মেপে যা আয় হয়, তা দিয়ে তিন বেলা খাবার খাই হোটেলে। অল্প কিছু টাকা হাতে থাকে। রাত হলে আশ্রয় নিই মসজিদে।’

স্ত্রীহারা, বৃদ্ধ বয়সে ছেলে থেকে বিচ্ছিন্ন ফজল মুন্সির গল্প ব্যথিত করে মানুষকে। সারা দিন রোদে পোড়ে তার শরীর আর চলে না। বয়স্ক ভাতার জন্য সরকারের প্রতি আকুতি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘ফজল মুন্সির বয়স্ক ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তিনি কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত তার বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেব।’ ফজল মুন্সিকে কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেন চেয়ারম্যান।

(ঢাকাটাইমস/৯ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :