প্রবেশে কড়াকড়ি

আপিল শুনানিতে থাকবেন উভয়পক্ষের ৬০ আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৮ | প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪২

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ৩০ জন এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন আইনজীবী এজলাসে থাকতে পারবেন বলে সংখ্যা বেঁধে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার পর প্রধান আইনজীবীদের প্রবেশে এই সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

জিয়া এতিমখানা ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিভিন্ন মামলায় জামিন হওয়ার পর জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটিতে জামিন হলেই খালেদার মুক্তির পথ খুলবে বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।

গত ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এই আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রতিবেদন দিতে না পারায় এজলাসে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে তাদের আরও ছয় দিন সময় দিয়ে ১২ ডিসেম্বর আদেশ দেওয়ার দিন ঠিক করে আদালত।

আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএমএমইউ উপাচার্যের প্রতিনিধিদের সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন নিয়ে যান।

বুধবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি ১২ নম্বর ক্রমি রাখা হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

শুনানি শুরুর আগে হট্টগোলের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য উভয়পক্ষের ৩০ জন করে মোট ৬০ আইনজীবীকে এজলাস কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ।

সকালে আপিল বিভাগের এজলাসকক্ষে আপিল আদালতের আইনজীবী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় আদালতের কাছে আপত্তি তোলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের শেষ ভরসাস্থল। এখানে অনেক আইনজীবী ঢুকতে পারেনি।

খন্দকার মাহবুব প্রধান বিচারপতিকে অভিযোগ করে বলেন, মাই লর্ড এই বৃদ্ধ বয়সে বই কাঁধে নিয়ে আমাকে আদালতে ঢুকতে হয়েছে। আমার জুনিয়রকে পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন জুনিয়রকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি?

খন্দকার মাহবুব বলেন, আমাদের কোনো আইনজীবীকে এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইন কর্মকর্তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। শত শত আইনজীবী বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিএনপির আইনজীবী মাহবুব হোসেনের পাল্টা বক্তব্য দেন। পরে আদালত এজলাস কক্ষে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের চারপাশে ও সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে নিরাপত্তা ব্য্বস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশ পথে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে আপিল বিভাগের বাইরে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অবস্থান করছেন।

ঢাকাটাইমস/১২ডিসেম্বর/এআইএম/এমআর 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত