‘দোষ করিনি তবু অভিশংসন করা হচ্ছে, এটা অন্যায়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:০৪ | প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৩৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় অভিশংসনের প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্টের অভিযোগ গঠন করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদে তদন্ত কমিটির বৈঠকে ক্ষমতার অপব্যবহারের দু’টি অভিযোগে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি কোনও দোষ করিনি। আমাকে অযথা ইমপিচ (অভিশংসন) করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত অন্যায়।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে ২৩টি ভোট পড়ে। আর বিপক্ষে ভোট দেন ১৭ জন। কঠোর পার্টি লাইন অনুসারে এদিন তদন্ত কমিটির রিপাবলিক্যান এবং ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তাদের ভোট দেন। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদ বা মার্কিন কংগ্রেসে ইমপিচমেন্টের বিষয়ে ভোট হবে।

বিরোধী দল ডেমোক্রেট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই কারণে ডেমোক্রেটদেরকে লক্ষ্য করে তিনি টুইটে লিখেন, ‘র‌্যাডিকাল লেফট আর নিষ্কর্মা ডেমোক্রেটরা সকলেরই ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠছেন। আমাদের দেশের পক্ষে ওঁদের মতো খারাপ আর কিছু হয় না।’’

তিনি আরো লিখেন, ‘র‌্যাডিকাল লেফট আর নিষ্কর্মা ডেমোক্রেটরা সকলেরই ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠছেন। আমাদের দেশের পক্ষে ওদের মতো খারাপ আর কিছু হয় না।’’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, অভিশংসন হচ্ছে বিরোধীদের একটা ‘ধাপ্পাবাজি’ আর ‘রাজনৈতিক চাল’। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘এটা একটা ধাপ্পাবাজি। একটা রাজনৈতিক চাল। অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) কথা ওঠে খুব জরুরি কিছু ঘটলে। ডেমোক্রেটদের জন্য ওবামা (সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট) যা করেছিলেন, আমি তাদের জন্য তার (ওবামা) বেশি করেছি। তার পরেও আমার বিরুদ্ধে ওরা এই প্রস্তাব এনেছেন।’’

কংগ্রেসে বর্তমানে ট্রাম্পের বিরোধীরা সংখ্যাগুরু। ফলে অধিকাংশ কংগ্রেস সদস্য ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে পরের পর্যায়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে সিনেটে। প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের সম্মতি প্রয়োজন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। বিল ক্লিনটন সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট যাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা। অ্যান্ড্রু জনসন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ। সেটা ১৮৬৮ সালের ঘটনা। তবে তাদের কাউকেই সেনেট দোষী সাব্যস্ত করেনি।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ওই ফোনালাপ ফাঁস হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠে। ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

তবে শুরু থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে ডেমোক্র্যাটদের তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের দাবি, তাকে অভিশংসনের ক্ষমতা বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেই।

(ঢাকাটাইমস/১৪ডিসেম্বর/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :