উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে বিজেপি এমপি দোষী সাব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:২০

২০১৭ সালে উন্নাওয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি সংসদ সদস্য কুলদীপ সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দিল্লির তিসহাজারি আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার দিল্লির তিসহাজারি আদালত ধর্ষণ, ভয় দেখানো-সহ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বিরোধী পকসো আইনের একাধিক ধারায় বহিষ্কৃত বিজেপি নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আগামী ১৯ তারিখ তার সাজার মেয়াদের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই মামলায় অন্য অভিযুক্ত শশী সিংহকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের শিকার নাবালিকাকে গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ অন্য কয়েকটি মামলা চলছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘পকসো আইন’ সংশোধন করা হয়েছে।

জানা যায়,২০১৭ সালে উন্নাওয়ের নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সেই সময় উত্তরপ্রদেশের বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের চার বারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ও শশীর বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ১৩ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে। কিছু দিনের মধ্যেই অভিযোগের সতত্য প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিজেপি।

পুলিশের চার্জশিটের ভিত্তিতে পকসো আইনে ১২০বি (ষড়যন্ত্র), ৩৬৩ (অপহরণ) ৩৬৬ (অপহরণ ও বিবাহের জন্য বাধ্য করা) ৩৭৬ (ধর্ষণ)-সহ একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করে আদালত।

উন্নাওয়ের সেই নাবালিকা তৎকালীন সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে উদ্দেশ্যে করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠির ভিত্তিতেই চলতি বছল আগস্ট মাসে এই সম্পর্কিত পাঁচটি মামলাই উত্তরপ্রদেশের আদালত থেকে দিল্লির তিসহাজারি আদালতে মামলা পরিচালনার নির্দেন দেন। পাশাপাশি ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করারও নির্দেশ দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।

বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতা নাবালিকা (বর্তমানে তরুণী) ও তার পরিবারের ওপর শুরু থেকেই নানা ভাবে অত্যাচার চলেছে। পরিবারের সদস্যসহ নির্যাতিতাকেও হত্যার চেষ্টাও চলে।

প্রথমত, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে ‘অস্ত্র আইনে’ নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় মাত্র ৬ দিনের মাথায় তিনি মারা যান। অভিযোগ রয়েছে যে কুলদীপ সেঙ্গারের নির্দেশেই পুলিশ এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

তারপর চলতি বছরের ২৮ জুলাই পরিবারের সঙ্গে রায়বরেলীতে যাওয়ার পথে মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন নির্যাতিতা। গাড়িতে সঙ্গে থাকা তার দুই কাকী মারা যায়। তবে সে যাত্রা প্রাণে বেচে যান নির্যাতিতা। এই ঘটনাতেও অভিযোগ রয়েছে, কুলদীপ সেঙ্গার ও তার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে নির্যাতিতাকে খুনের চেষ্টা করেছে। সেঙ্গারের বিরুদ্ধে এই দু’টি মামলাই চলছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :