রোহিতের সেঞ্চুরিতে ভারতের সিরিজ জয়

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৩

সাত উইকেটে এল জয়। সেটাও ১৫ বল বাকি থাকতে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতল ভারত। এই জয় সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। শিখর ধাওয়ানকে পাওয়া যায়নি ব্যাট হাতে। ২৮৭ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে (৪৭.৩ ওভারে ২৮৯-৩) জেতাল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট।

স্টিভ স্মিথের ১৩১ রানের ইনিংসের জবাব দিলেন রোহিত শর্মা, অনবদ্য ১১৯ রানের ইনিংসে। তিন নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন স্মিথ। রবিবার বেঙ্গালুরুতে পাল্টা সেঞ্চুরি করলেন ওপেনার রোহিত। তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৯তম শতরান এল ১১০ বলে, আটটি চার ও পাঁচটা ছয়ের সুবাদে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ফরম্যাটে এটা তাঁর অষ্টম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ‘হিটম্যান’ ১২৮ বলে ১১৯ রানে থামেন। লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে মারতে গিয়ে তুলেন ক্যাচ। যা ধরেন মিচেল স্টার্ক।

তার আগে এদিন একদিনের ক্রিকেটে ৯০০০ রান পূর্ণ করে ফেলেছিলেন রোহিত। তিনি তৃতীয় দ্রুততম। চলতি সিরিজের প্রথম দুই একদিনের ম্যাচে রান পাননি। এদিন বড় রানের জন্য বদ্ধপরিকর দেখাল আগাগোড়া। পঞ্চাশে পৌঁছেছিলেন ৫৬ বলে। সেই ছন্দেই ব্যাট করে গেলেন। এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। এদিন এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আর একটা মনে রাখার মত ইনিংস উপহার দিলেন।

বিরাট কোহলিও খেললেন নিজস্ব মেজাজে। ৬১ বলে পৌঁছেছিলেন পঞ্চাশে। যাতে ছিল চারটি চার। দ্বিতীয় উইকেটে রোহিতের সঙ্গে যোগ করেন ১৩৭ রান। এই ফরম্যাটে রান তাড়ায় সাত হাজারের বেশি রান করে ফেললেন তিনি। ৯১ বলে ৮৯ রানে যখন জোশ হ্যাজলেউডের বলে বোল্ড হলেন, তখন জয়ের থেকে মাত্র ১৩ রানের দূরত্বে ভারত। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার। একসময় মনে হচ্ছিল, কোহলির সেঞ্চুরিও হতে চলেছে। কিন্তু রাজকোটের পর আরও একবার সেঞ্চুরি হারালেন তিনি।

তবে তার আগে রোহিত ফেরার পর শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেছিলেন কোহলি। শ্রেয়াস এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে রান পাননি। এদিন চার নম্বরে নেমে দুর্দান্ত পরিণত মানসিকতার পরিচয় রাখলেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ৩৫ বলে ৪৪ রানে। মণীশ পাণ্ডে অপরাজিত থাকলেন চার বলে ৮ রানে।

নির্ণায়ক একদিনের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেটে ২৮৬ তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে, সিরিজ ২-১ করতে বিরাট কোহালির দলকে করতে হত ২৮৭ রান। তবে রান তাড়া করতে নামার আগেই ছিল দুঃসংবাদ। ফিল্ডিং করার সময় চোট পেয়েছিলেন শিখর ধাওয়ন। এক্সরে করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। তিনি ব্যাট করতে নামলেন না ওপেনিংয়ে।

তাই শুরুতে রোহিত শর্মার সঙ্গী হয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। রাজকোটে আগের ম্যাচেই যিনি পাঁচ নম্বরে নেমে ঝড় তুলেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে এদিন অবশ্য বেশি ক্ষণ টিকলেন না। ২৭ বলে ১৯ করে অ্যাশটন অ্যাগারের বলে হলেন এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাতেই এল উইকেট।

একসময় মনে হচ্ছিল সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথ ও মার্নাস লাবুশানের জুটি তিনশোর ওপারে পৌঁছনোর ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি ভারতীয় বোলারদের জন্য। মোহাম্মদ শামি ৬৩ রান দিয়ে নিলেন চার উইকেট। ডেথ ওভারে নিয়মিত দিলেন ইয়র্কার। কোনও উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে জ্যাসপ্রীত বুমরাহ দিলেন মাত্র ৩৮।

রাজকোটে ফিরেছিলেন সেঞ্চুরির দোরগোড়া থেকে। মাত্র দুই রানের জন্য পৌঁছতে পারেননি তিন অঙ্কে। সেই আক্ষেপ বেঙ্গালুরুতে মিটিয়ে নিলেন স্টিভ স্মিথ। যা এল ১১৭ বলে, ১১টি চারের সাহায্যে। শেষ পর্যন্ত ১৩১ রানে থামেন তিনি। মোহাম্মদ শামির বলে ডিপ মিডউইকেটে স্মিথের ক্যাচ দুরন্তভাবে ধরেন শ্রেয়াস আইয়ার। তাঁর ১৩২ বলের ইনিংসে রয়েছে ১৪টি চার ও একটি ছয়। 

(ঢাকাটাইমস/১৯ জানুয়ারি/এসইউএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :