সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার রায়ের অপেক্ষা

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:০২ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১০:০৭

রাজধানীর পল্টন ময়দানে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করবে আদালত। ইতিমধ্যে মামলার চার আসামিকে আদালতে আনা হয়েছে। রায় ঘোষণা উপলক্ষে আদালতপাড়ায় নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা নাগাদ এই রায় ঘোষণা হতে পারে।

১৯ বছর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি একইদিন এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। যে ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। আর সেই দিনেই রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আদালত।

ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মনে করি সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা এ মামলার অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তাই পলাতক এবং আটক সকল আসামির মৃত্যুদণ্ড হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

তবে এ সম্পর্কে মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ফাপরু আহমেদ বলেন, মামলাটিতে প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার তদন্তে গিয়ে চার্জশিট হয়। মামলার ১৪ জন আসামির মধ্যে একজনের কথিত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। অন্য কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। তাই শুধু ওই একজনের কথিত স্বীকারোক্তি দিয়ে আসামিদের দণ্ড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।  

মামলাটিতে মোট আসামি ১৩ জন। তারা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি মাঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে আবদুল হান্নানের ব্রিটিশ হাই কমিশনার হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তাকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। অপর আসামিদের মধ্যে শওকত ওসমান, সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান সুমন ও মঈন উদ্দিন কারাগারে আছেন। কারাগারে থাকা আসামিরা সবাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি সিপিবির সমাবেশে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন।

নিহতরা হলেন- খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন, খুলনার বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস।

ওই ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটিতে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। যা আদালত কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর তদন্ত থেমে যায়। 

এরপর ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালের আগস্টে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা হয়। পরবর্তীতে ওইসব ঘটনায় মামলায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এ মামলায় জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ আসে। এরপরই ২০০৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পুলিশ মামলটি পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। একই বছর ২৯ ডিসেম্বর আদালত পুনঃতদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন।

পুনঃতদন্তে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর মৃনাল কান্তি সাহা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩০ জনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরের বছর ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় আদালত মামলার ১০৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

একই ঘটনায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি একই আদালতে বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :