রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি হিলি স্থলবন্দরের

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৭ | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০৭

শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানির শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা শুল্কযুক্ত পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। তাই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রথম ছয় মাসে বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় ১১৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৮৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে তার বেশির ভাগই শুল্কমুক্ত। তাই চলতি অর্থবছরে ছয় মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৪ কোটি ৩৭ লক্ষ্য টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণ হচ্ছে, রাজস্বশীল পণ্যের আমদানি নেই বললেই চলে। বর্তমানে পাথর খৈ, জিরা, বাদামসহ কিছু পণ্য আমদানির কারণে সরকার কিছুটা রাজস্ব পাচ্ছে। এসব পণ্য আমদানি না হলে আরো রাজস্ব কমে যেত। রাজস্ব কর্মকর্তারা আশা করছেন বছরের শেষ ছয় মাসে ভালো রাজস্ব যোগান দিতে পারবেন। বর্তমান রাজস্ব আদায়ের যে ঘাটতি রয়েছে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লে তা পূরণ হয়ে যাবে।

পানামা হিলি বন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রতাপ মল্লিক জানান, বন্দর দিয়ে রাজস্বশীল পণ্যের আমদানি কম হওয়ার কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বন্দরের শ্রমিকরা। তারা দিন দিন কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি আমদানি  হচ্ছে পাথর। এ পাথর আমদানির ওপর বন্দর ও কাস্টমসের আয় নির্ভর হয়ে পড়েছে।

এদিকে বন্দরের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ফল মূল, সাইকেলের যন্ত্রাংশ, ফ্রেব্রিক্স, শুটকি মাছসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি হতো। বর্তমানে সেসব পণ্য আমদানি বন্ধ। এর মূল কারণ কাস্টমসের হয়রানি। পণ্য আমদানি হলে পরীক্ষা ও শুল্কায়নের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়, যার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর পরিহার করে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হয় না। যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে যে ঘাটতি হয়েছে সেটা সাময়িক বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন,  বর্তমান রাজস্ব আদায়ের যে ঘাটতি রয়েছে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লে তা পূরণ হয়ে যাবে। ফলে বছরের শেষ ছয় মাসে ভালো রাজস্ব যোগান দিতে পারবেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/কেএম/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :