অতিথিদের দেখতে অতিথিরা

জাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৩

আকাশ আর আকলিমা মা- বাবার সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে পাখি দেখতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্য দেখে আনন্দ যেন ধরে না ষষ্ঠ ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া দুই ভাই- বোনের।

আকলিমার ইচ্ছা করে পাখিদের মতো করে উড়তে। আর পাখির পাল যখন দল বেঁধে আকাশে উড়ে তখন নিষ্পলক দৃষ্টিতে পাখিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে আকাশ। তাদের মতে, পাখির খুনসুটি ও জলকেলির যে সৌন্দর্য, তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।

‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ সেøাগানকে ধারণ করে শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পাখি মেলা- ২০২০।’ প্রতিবছরের মতো এবারো পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহির রায়হান অডিটরিয়ামের সামনে টানা ২০তম বারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

মেলার সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, আইইউসিএন এবং বাংলাদেশ বনবিভাগ। মেলা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী, বয়োবৃদ্ধসহ হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করে ক্যাম্পাসে।

সকাল সাড়ে ১১টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়ানোর মধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই সবচেয়ে প্রিয় প্রাণির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাখি। পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা বেশিভাবে। এই পাখিদের ধরে রাখতে হবে। পাখির প্রতি মমত্ববোধ এবং সংযোগ বাড়াতেই এই মেলার আয়োজন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, পাখি মেলার মূল উদ্দেশ্য পাখি সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়ানো। এই সচেতনতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে; যাতে পাখির কোনো প্রজাতি বিলুপ্তির দিকে না যায়।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীর উৎপাত কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেড়েছে। প্রথম দিকে কোলাহল কম থাকায় প্রশাসনিক ভবনের পাশের লেকে এবার সবচেয়ে বেশি পাখি এসেছিল। পরে কোলাহলের কারণে পাখিরা আবার অন্য লেকগুলোতে সরে যায়। সুতরাং কোলাহলমুক্ত থাকলে পাখি বেশি দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পাখির বিচরণক্ষেত্র দূষণমুক্ত রাখা ও পাখির ভীতির সঞ্চার করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. মঞ্জুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, আইইউসিএনের বাংলাদেশ প্রতনিধি রকিবুল আমিন, বিশিষ্ট পাখিবিশারদ ড. ইনাম আল হক।

মেলার দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা (পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাখিবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদক উপস্থাপন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও-ভিজুয়াল এর মাধ্যমে) এবং উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। সবশেষে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

‘পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ পাখিমেলার আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার।

(ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/এলএ)অতিথিদের দেখতে অতিথিরা

জাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

আকাশ আর আকলিমা মা- বাবার সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে পাখি দেখতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্য দেখে আনন্দ যেন ধরে না ষষ্ঠ ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া দুই ভাই- বোনের।

আকলিমার ইচ্ছা করে পাখিদের মতো করে উড়তে। আর পাখির পাল যখন দল বেঁধে আকাশে উড়ে তখন নিষ্পলক দৃষ্টিতে পাখিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে আকাশ। তাদের মতে, পাখির খুনসুটি ও জলকেলির যে সৌন্দর্য, তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।

‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ সেøাগানকে ধারণ করে শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পাখি মেলা- ২০২০।’ প্রতিবছরের মতো এবারো পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহির রায়হান অডিটরিয়ামের সামনে টানা ২০তম বারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

মেলার সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, আইইউসিএন এবং বাংলাদেশ বনবিভাগ। মেলা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী, বয়োবৃদ্ধসহ হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করে ক্যাম্পাসে।

সকাল সাড়ে ১১টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়ানোর মধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই সবচেয়ে প্রিয় প্রাণির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাখি। পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা বেশিভাবে। এই পাখিদের ধরে রাখতে হবে। পাখির প্রতি মমত্ববোধ এবং সংযোগ বাড়াতেই এই মেলার আয়োজন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, পাখি মেলার মূল উদ্দেশ্য পাখি সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়ানো। এই সচেতনতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে; যাতে পাখির কোনো প্রজাতি বিলুপ্তির দিকে না যায়।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীর উৎপাত কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেড়েছে। প্রথম দিকে কোলাহল কম থাকায় প্রশাসনিক ভবনের পাশের লেকে এবার সবচেয়ে বেশি পাখি এসেছিল। পরে কোলাহলের কারণে পাখিরা আবার অন্য লেকগুলোতে সরে যায়। সুতরাং কোলাহলমুক্ত থাকলে পাখি বেশি দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পাখির বিচরণক্ষেত্র দূষণমুক্ত রাখা ও পাখির ভীতির সঞ্চার করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. মঞ্জুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, আইইউসিএনের বাংলাদেশ প্রতনিধি রকিবুল আমিন, বিশিষ্ট পাখিবিশারদ ড. ইনাম আল হক।

মেলার দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা (পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাখিবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদক উপস্থাপন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও-ভিজুয়াল এর মাধ্যমে) এবং উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। সবশেষে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

‘পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ পাখিমেলার আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার।

(ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :