থানায় কাজ কিছুটা কমেছে পুলিশের

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০২০, ০৯:৫৬
রাজধানীর একটি থানা (ফাইল ছবি)

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সদা সতর্ক থাকতে হয় পুলিশ সদস্যদের। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় থানা পুলিশের কাজও অনেকাংশে কমে এসেছে। করোনা ভীতির মধ্যে রাজধানীতে অপরাধ কমে আসায় পুলিশের কাজও কিছুটা কমে এসেছে। তবে তাদের যে নিয়ম মাফিক দায়িত্ব আর পেট্রোল ডিউটি তা আগের মতোই পালন করতে হচ্ছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিপুল জনসমষ্টির বাসাগার রাজধানীতে প্রতিদিনই নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। সম্প্রতি বিশে^র অন্য সব দেশের মতো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে গতকাল পর্যন্ত ২৪ জন আক্রান্ত আর দুজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে আইইডিসিআর।

এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া করোনাভাইরাস ঠেকাতে চলাচল সীমিত করার কথা বলছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এই অবস্থায় বিশে^র অনেক দেশই তাদের জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বাংলাদেশেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে নিরুৎসাহিত করছে সরকার।

রাজধানীতে জনসমাগম কমে যাওয়ায় অপরাধও কমে এসেছে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে মামলা বা জিডি কমেছে। তবে আমরা সতর্ক আছি। আবার অনেকেই অহেতুক ফোন করে বিরক্ত করে। কেউ ফোন করে করোনা রোগী কিংবা বিদেশ ফেরত মানুষ রয়েছে বলে জানান। পুলিশ পাঠিয়ে দেখা যায় ঘটনা মিথ্যা। তারপরেও আমাদের এসব করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জনসচেতনতামূলক কাজ করছি। থানায় ব্যানার টাঙিয়েছি। আগের মতোই পেট্রোল ডিউটি আছে। আমাদের পুলিশ সদস্যদের মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলেছি। থানায় কেউ এলে তাদেরকে হাত ধোয়ার কথা বলছি।’

এই কদিনে তার থানায় ভুক্তভোগী লোকজনের আগমন কমেছে বলেই জানিয়েছেন সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের থানায় লোকজন খুব কম আসছে। অপরাধ তুলনামূক কম। তবে আমাদের পেট্রোল ডিউটি আগের মতো রয়েছে। থানায় কেউ এলে হাত ধোয়ার কথা বলছি, আগতদের তিন মিটার ডিসটেন্স রেখে কথা বলছি। সেটা যেন বাসায় গিয়েও তারা করেন তাও বলছি।’

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কাজ আগের চেয়ে কমেছে। জিডি মামলাও কম হচ্ছে। ভিজিটরও কমেছে। এরপরও আমরা সদা সতর্ক। পেট্রোল ডিউটি আগের মতো অব্যাহত রয়েছে।’

তবে অপরাধ কম না বেশি তাতো বলা যাবে না উল্লেখ করে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তবে আগের মতো পেট্রোল ডিউটিও আছে।

অন্যদিকে আগের মতো অপরাধ অতো হচ্ছে না উল্লেখ করে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল মুত্তাকীন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ফলে আগের মতো কাজও নেই। তবে টহল ডিউটি আগের মতোই দেওয়া আছে। আমরা সতর্ক থেকেই কাজ করছি।’

তবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজ কিছুটা কমে এলেও করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক ব্যস্ততা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার মো. শামীম হোসেন।

তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ব্যস্ততা আছে। থানায় আগতদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি। জনসচেতনতামূলক কাজও করছি। টহল পুলিশও আগের মতোই কাজ করছে।’

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আগের থেকে অপরাধ কম। মানুষ কম আসছে।’

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বিভিন্ন প্রয়োজনে থানায় মানুষ আসে। জিডি ও মামলাও হচ্ছে। ছিনতাই, মারামরি ধর্ষণ নারী নির্যাতনের অভিযোগেও অনেক মামলা হয়েছে। অপরাধ কমেছে এমননটাও বলা যাবে না।’

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে আমাদের দুই রকমের অনুভূতিই আছে। অপরাধ তুলনামুলক কমেছে। তবে বিভিন্ন ফোন আসছে। বিশেষ করে করোনা রোগীদের নিয়ে কোনো ফোন এলে সেটা আমাদের যাচাই করতে যেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অপরাধ তুলনামূলক কমেছে বলা যায়। থানায় জিডি মামলাও কমেছে। আমরা এক সপ্তাহ আগে থেকে সচেতনতামূলক কাজ শুরু করেছি। থানায় আগতদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করছি। থানায় ঢুকলে তাপমাত্রার ব্যবস্থাও করেছি।

ঢাকাটাইমস/২২মার্চ/এএ/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :