করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসাদের স্যালুট সাকিবের

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০, ১৫:২৫

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে আক্রান্তদের সুস্থ করতে হাসপাতালে কঠোর পরিশ্রম করছেন বাংলাদেশের ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। হাসাপাতালের বাইরে সকলকে সচেতন করতে লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং সরকারী কর্মকর্তারা। দেশের মানুষকে বাঁচাতে যারা করোনাভাইরাসের বিপক্ষে লড়াই করছেন তাদেরকে স্যালুট দিলেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেইজে একটি স্যালুটের ছবি দিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন সাকিব। ওই স্যালুটের ছবিটি হলো, ২০১৬ সালে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পথে প্রতিপক্ষের একটি উইকেট শিকারের পর স্যালুট দিয়ে তা উদযাপন করেছিলেন সাকিব।

ফেসবুকে নিজের পেইজে ওই স্যালুটের ছবি দিয়ে সাকিব লিখেছেন, ‘সকল দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে যারা মারাত্মক এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত তাদেরকে জানাই আমার সালাম। ধন্যবাদ জানাই প্রতিটি ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং সরকারী কর্মকর্তাদের যারা নিঃস্বার্থ ও অক্লান্তভাবে লড়াই করে চলেছেন। আমরা তাদের সাহায্য করতে যা পারি তা হলো- বাসায় অবস্থান করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ মেনে চলে এই কঠিন সময়ে তাদের সহায়তা করা। তবেই আমরা একসাথে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবো। আল্লাহ আমাদের সকলকে সাহায্য করুন।’

বর্তমানে নিজেই স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন সাকিব। গত ২২ মার্চ পরিবারের সাথে অবস্থান করতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যান সাকিব। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই সর্তকতার জন্য এক হোটেল রুমে নিজেকে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে রাখেন সাকিব। তার পরিবারের সাথেও দেখা করছেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেইজে এক ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য জানান সাকিব।

ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে মহামারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আপনারা জানেন যে বাংলাদেশেও বেশ কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের সতর্কতাই পারে আমাদের দেশ এবং আমাদেরকে সুস্থ রাখতে।’

করোনারভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন সাকিব। যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলে নিজেও সেইসব নিয়মকানুন মানছেন তিনি। নিয়ম মানতে গিয়ে নিজের সন্তানের সাথেও দেখা করছেন না সাকিব। এমনটাও জানিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আমি মাত্রই (২২ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছেছি। যদিও বিমানে সব সময়ই একটু হলেও ভয় কাজ করেছে, তবু চেষ্টা করেছি নিজেকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখার। এরপর যখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসে নামলাম, আমি সোজা একটি হোটেলে উঠেছি। ওদের জানিয়ে দিয়েছি, আমি কিছুদিন এখানে থাকব। আর আমি যেহেতু বিমানে চড়ে এসেছি, তাই আমার একটু হলেও ঝুঁকি আছে। এ জন্য আমি নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছি। যে কারণে নিজের বাচ্চার সাথেও দেখা করিনি। এখানে এসেও নিজের বাচ্চার সঙ্গে দেখা করছি না, অবশ্যই আমার জন্য এটা কষ্টদায়ক। তারপরও আমার মনে হয়, এই সামান্য আত্মত্যাগটুকু করতে পারলে আমরা অনেক এগোতে পারব।’

(ঢাকাটাইমস/২৫ মার্চ/এসইউএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :