সৈয়দপুরে কলেজশিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ১৪:৫২ | প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০২০, ১৪:৪৭

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের হুগলীপাড়ায় বাদলের লিচু বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বিধান চন্দ্র (২৫) বোতলাগাড়ীর বালাপাড়া শান্তিপাড়ার প্রফুল্ল চন্দ্র ঘটুর ছেলে এবং সৈয়দপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

লাশের গলায় দড়ি লাগানো অবস্থায় গাছে ঝুলানো ছিল এবং পা দুটি দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। এছাড়া সুরতহাল রিপোর্টের সময় শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মুখে এটি হত্যাকাণ্ড এবং প্রভাবশালী পরিবারের অপকর্ম বলে আলোচনা চলছে।

প্রেমের ঘটনায় প্রেমিকার পরিবারের লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ বিধানের অভিভাবকদের। তারা জানান, একই এলাকার হুগলীপাড়ার উত্তম কুমারের মেয়ে পলির (২২) সঙ্গে বিধানের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু মেয়ের পরিবার তাদের প্রেমকে মেনে নেয়নি। তারপরও বিধানের প্রতি পলির প্রেমের কমতি ছিল না। ফলে তাদের মেলামেশা প্রতিরোধ করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় পলির বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার সাবেক মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় প্রায় ছয় মাস আগে বিধানকে আটকে বেধড়ক মারপিট করে এবং স্থানীয়ভাবে শালিস বসিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। সেইসঙ্গে পলিকে জোরপূর্বক নীলফামারী সদরের চড়াইখোলা গ্রামে বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পরও পলি বিধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলাসহ লুকিয়ে দেখাও করে। এটা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার রাতে বিধানকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ লিচু বাগানের গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি লাশের পা দড়ি দিয়ে বাঁধাও ছিল।

বিধানের মামা অনিমেষ চন্দ্র বলেন, এটা যদি আত্মহত্যা হয় তাহলে লাশের পা দড়ি দিয়ে বাধা ছিল কেন। আত্মহত্যা নয়, বরং পলির বাবা উত্তম কুমার ও তার সহযোগিরা বিধানকে হত্যা করেছে। যার চিহ্ন বিধানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান। বিশেষ করে পুরুষাঙ্গে আগাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে পাঠানো হবে এবং তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৭মার্চ/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত