করোনা প্রতিরোধী ডায়েট

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২০, ০৯:৩৮

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সারা পৃথিবী। এই অবস্থায় মানুষ কী করবেন, তা নিয়ে নাজেহাল। এই সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে গেলে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। যেহেতু এই ভাইরাসের এখনও কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, তা প্রতিরোধে এখন আপনার আমার একটু সচেতনতাই আমাদের রক্ষা করতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু ভিটামন, মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ট্রেস এলিমেন্ট উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন ডি। কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন। এর জন্য সবার বিশেষ ডায়েট চার্ট ফলো করা প্রয়োজন। দেখে নিন, ডায়েটে কী কী রাখলে বেড়ে উঠবে আপনার রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, ভিটামিন সি-র অত্যন্ত ভাল উৎস আমলকি। সম্ভব হলে প্রত্যেক দিন এক টুকরো আমলকি খান। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ, পটল, কুমড়ো, বিনস, গাজর, উচ্ছে, বাঁধাকপি, নটে শাক, কলমি শাক, ক্যাপসিকাম, বরবটি, কড়াইশুঁটি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পুষ্টি। লকডাউনে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে বলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার। নইলে বাড়তি ক্যালোরি ওজন বাড়িয়ে দেবে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, মুড়ি, চিড়া, সুজি, ওটস পরিমাণে কম খাওয়া উচিত। সালাদ, ফল, স্যুপ, ছোলা, মুগ, বাদাম খাওয়া যেতে পারে।

সকালে উঠে অল্প গরম পানি আর এক টুকরো কাঁচা হলুদ খেলে গলার সমস্যা দূর হয়। একই সঙ্গে সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা সমেত নানান সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। কাঁচা হলুদ না থাকলে রান্নায় ব্যবহৃত খাঁটি গুঁড়া হলুদ গরম জলে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এর পর চা বা কফির সঙ্গে দুটো বিস্কুট।

ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার পরিমাণ হবে উল্টানো পিরামিডের মতো। অর্থাৎ সকালের খাবার পরিমাণে অনেকটা বেশি। মধ্যাহ্নভোজ তার থেকে কম পরিমাণ আর রাতের খাবার অল্প।

সকালের নাস্তা বাঙালির ভালবাসার খাবার রুটি-তরকারি খেতে পারেন। অনেকে লুচি-ভাজি খেতে পছন্দ করেন। একদিন পর পর এটি খেতে পারেন। সঙ্গে ডিমসেদ্ধ, ডাল আর সালাদ। গাজর, বিনস সমেত অন্যান্য সব্জি দিয়ে ডাল ও ওটস খাওয়া যায়। সাবুর খিচুড়ি, গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনস, বরবটি,সয়াবিনের বড়ি বা ডিম দিয়ে বাড়িতে বানানো চাওমিন বাচ্চা থেকে বড়, সকলেরই পছন্দ হবে। সুজি ও সব্জি দিয়ে উপমাও সকলের পছন্দের হবে। এ ছাড়া মুখ বদলাতে বাড়িতে বানানো ডালও যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর। আবার মুখ বদলাতে স্যুপ, সালাদ, ওমলেট খাওয়া যায়। বানাতে পারেন গাজর বিনস দিয়ে চিঁড়ের পোলাও। সকালের খাবারের ২-৩ ঘন্টা পর একটা লেবু, আপেল, পেঁপে, শসা বা যে কোনও একটা ফল অথবা ফ্রুট সালাদ দিলে বাচ্চা থেকে বড় সকলেই খুশি হবে।

দুপুরের খাবার সাধারণ বাঙালি খাবার— ভাত, ডাল, সব্জি, মাছের ঝোল, চাটনি, শাকভাজা, লাউ, পেঁপে বা পটলের তরকারি খাওয়া যায়। তবে লকডাউনে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন সব্জি দিয়ে ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল, সালাদ আর দই।

বিকালের নাস্তা

ভেজানো ছোলা, বাদাম দিয়ে ঝালমুড়ি বা চানা কিংবা চাট মুখরোচক আর পুষ্টিকর। চিনি ছাড়া লিকার চা আর বিস্কুট তো থাকবেই। এই প্রসঙ্গে জেনে রাখুন, বাড়িতে আছেন বলে একাধিক বার চা ও কফি পান মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। দিনে চার–পাঁচ বারের বেশি চা-কফি পান করা ঠিক নয়।

রাতের খাবার রাতের খাবার ৯টার মধ্যে খেয়ে নিতে পারলে ভাল হয়। খাবার অন্তত ২ ঘণ্টা পরে ঘুমানো উচিত। রুটি, ডাল, চানা, রাজমা, চিকেন সুবিধেমতো খাবেন। যারা ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত পরিমাণমত খেতে পারেন। যে কোন সবজি থাকলে ভাল। খাবার পর সহ্য হলে এক কাপ উষ্ণ দুধ পান করলে ঘুম ভাল হয়।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এবং সর্বোপরি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতি দিন ডাল, তিন–চার ধরনের শাকসব্জি ও কমপক্ষে ২টা ফল খেতে হবে। শরীর ভাল রাখার আর এক উপায় দিনে ২–৩ লিটার পানি খাওয়া। প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা উচিত। বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলের জন্যই একই রুটিন। তবে যা-ই করুন বাড়ির বাইরে যাবেন না। পুষ্টিকর খাবার খেয়ে করোনাভাইরাস মুক্ত থাকুন।

যে খাবার বাদ দিতে হবে সব ধরনের কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের ইত্যাদি। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার- এ খাবারগুলো ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে। তাই এ খাবারগুলো বাদ দিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৮ মার্চ/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত