যেসব মহামারিতে মরেছে কোটি কোটি মানুষ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪:০১

করোনাভাইরাস বিশ্বে যেমন আতঙ্ক সৃষ্টি করে মহামারিতে রূপ নিয়েছে। তারচেয়ে বেশি আতঙ্ক নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল মহামারিগুলো। মৃত্যু হয়েছিল কোটি কোটি মানুষের। বিভিন্ন রোগ নানা সময়ে অতিমারির আকার নিয়েছে। মানবসভ্যতা যত উন্নত হয়েছে, মহামারির প্রাবল্য তত বেড়েছে। কারণ, ধীরে ধীরে শহর, গ্রাম গড়ে উঠেছে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়েছে। এছাড়া বেড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য। ফলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল।

প্রতি শতাব্দীতে পৃথিবীতে কোন না কোন ভাইরাসের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসগুলো প্রথমে কোন এলাকা বা জাতি আক্রান্ত হলেও পরে সারা পৃথিবীব্যাপী মহামারি থেকে অতিমারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সে সময়েও নানা রোগের প্রকোপে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব। ইতিহাসে এর আগে যেসব রোগ অতিমারি রূপ নিয়েছিল সেগুলো নিয়ে এই প্রতিবেদন।

কলেরা

গত ২০০ বছরে বারে বারেই অতিমারির আকার নিয়ে ফিরে এসেছে কলেরা। ১৮১৭ সালে প্রথম এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এ রাজ্যে। তার পর তা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক হাজার ভারতীয় এবং ব্রিটিশের মৃত্যু হয়। এ ভাবে সাত বার অতিমারির আকার নিয়ে এ বিশ্বে ফিরে এসেছে কলেরা। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছিল ষষ্ঠ কলেরা অতিমারি। ১৮৯৯ সালে। শুধুমাত্র ভারতেই সে বার মারা গিয়েছিলেন 8 লক্ষ মানুষ। পশ্চিম ইউরোপ, রাশিয়া, উত্তর আফ্রিকাতেও ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল কলেরা।

হংকং ফ্লু ১৯৬৮ সালের ১৩ জুলাই প্রথম হংকং-য়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। মাত্র দু’মাসের মধ্যেই এই ভাইরাস ভারত, ফিলিপিন্স, উত্তর অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপে পৌঁছে যায়। তার পর জাপান, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা-সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই। এর জেরে ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এশিয়াটিক ফ্লু হংকং ফ্লু ছিল সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরই একটা ধরন। ভাইরাস তাদের জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্রমে আরও ভয়াবহ আকার নিয়ে থাকে। এই এশিয়াটিক ফ্লু বা রাশিয়ান ফ্লু-ও তাই। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এইচ৩এন৮ হিসাবে এটাকে চিহ্নিত করেন গবেষকরা। ১৮৮৯ সালে এই ফ্লু-র প্রকোপে সারা বিশ্বে ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। রাশিয়ার বুখারাতে প্রথম এই রোগ দেখা যায়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা আরও দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যান্টোনিন প্লেগ ১৬৫ থেকে ১৮০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রকোপ ছিল এই রোগের। রোম সাম্রাজ্যে প্রথম এর প্রকোপ পড়ে। তবে বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়েনি। রোমেই সীমাবদ্ধ ছিল। সে সময় এটাকে গুটি বসন্ত বা হাম বলে মনে করা হয়েছিল। প্রাচীন রোমে ৫০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই রোগে।

প্লেগ অব জাস্টিনিয়ান রোমান রাজা প্রথম জাস্টিনিয়ানের রাজত্বকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ৫৪১ থেকে ৫৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এই রোগ। মূলত এক ধরনের কালো ইঁদুর থেকেই তা ছড়িয়েছিল। যার ফলে বিশ্বে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

দ্য ব্ল্যাক ডেথ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক রোগ। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কালো ইঁদুর থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৩৪৬ সালে এশিয়ার দেশগুলোয় প্রথম থাবা বসিয়েছিল এই রোগ। তার পর অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

স্পলপক্স ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীদের মাধ্যমে ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্পলপক্স ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা গেছে বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা।

কুষ্ঠরোগ কুষ্ঠরোগের অস্তিত্ব ছিল আগে থেকেই। কিন্তু মধ্যযুগে ইউরোপে এই রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। কুষ্ঠ ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি রোগ। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত কুষ্ঠ ছিল প্রাণঘাতী রোগ।

এইচআইভি/এইডস ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথম দেখা গিয়েছিল। তবে তখনই তা অতিমারির আকার নেয়নি। অতিমারির আকার নিয়েছিল ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আফ্রিকা। এই রোগের ফলে সারা বিশ্বে এই সময়কালের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

স্প্যানিশ ফ্লু মৃত্যু সংখ্যার নিরিখে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ানক রোগ। সারা বিশ্বে ৫০ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ কোটি মানুষের। এটাও এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু ছিল। ১৯১৮ সালে স্পেন থেকে সারা বিশ্বে এই রোগ ছড়িয়েছিল বলে গবেষকদের অনুমান।

হাম বিশ্বজুড়ে ২০১২ সালে ভাইরাসজনিত রোগ হামে মারা যায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ। সে বছর পুরো বিশ্বে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক রোগ টিউবারকিউলোসিসে মারা যায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ।

(ঢাকাটাইমস/২৮ মার্চ/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত