করোনা সন্দেহে চিকিৎসা পাচ্ছে না যুবক, বাবার কান্না

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৮:২৪ | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৮:১৭

নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকা থেকে আসা আল আমিন (২২) নামে এক যুবককে কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে আল আমিনকে তার বাড়িতেও ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী। গুরুতর অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা না করাতে পেরে তার পরিবারের দিশেহারা অবস্থা। কান্নার রোল পড়েছে পরিবারে।

অসুস্থ আল আমিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের অলঙ্কারদীঘি গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে।

মকলেছুর রহমান জানান, তার ছেলে আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে আল আমিন গায়ে বেশ জ্বর আর কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে নওগাঁতে এসে পৌঁছান। এরপর শনিবার সকালে বাড়িতে আসার সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামের কতিপয় লোকজন তাকে গ্রামে উঠতে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে সকালেই এলাকার ভেটিস্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কোনো চিকিৎসা না করেই ফিরে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর আবারও ছেলেকে নিয়ে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় মুমূর্ষু অবস্থায় রাখা হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল জানতে পেরে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় ছেলেকে চিকিৎসার জন্য রাণীনগর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানেও ডাক্তাররা দেখেই হাতে কাগজ ধরিয়ে নওগাঁ হাসপাতালে পাঠায়। নওগাঁ হাসপাতালে পৌঁছার পর সেখানেও কোনো চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী নিয়ে যান বলে হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়।

অ্যাম্বুলেন্সে থাকা যুবকের বাবা মকলেছুর রহমান কান্না জড়িত কন্ঠে মোবাইল ফোনে ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমার ছেলেকে কেউ চিকিৎসা দিচ্ছে না। কেউ কাছেও আসছে না। বর্তমানে অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। দেখা যাক রাজশাহী হাসপাতালে কি হয়!

স্থানীয় মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু ও অলঙ্কারদীঘি গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন, ছেলেটা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমনটি খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছি মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে গ্রামে আসেন। যদি করোনাভাইরাস না থাকে তাহলে সমস্যা নেই। আর যদি ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে চিকিৎসা করান। গ্রামে আসা যাবে না। গ্রামের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাধা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে চৌকিদার পাঠিয়ে চিকিৎসার জন্য রাণীনগর হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

রাণীনগর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, আল আমিনের প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি রয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছি। সেখানে ভাইরাস শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, রাণীনগর হাসপাতাল থেকে নওগাঁ সদরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সত্যিই সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে তা পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত না হয়ে ছেলেটাকে গ্রামে উঠতে না দেয়া এটা অমানবিক কাজ করেছে।

ঢাকাটাইমস/২৮মার্চ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত