করোনায় ব্যাংক খাত বিশাল চ্যালেঞ্জে: এনসিসি ব্যাংক এমডি

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৫৬ | প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৫৮

করোনাভাইরাসে থমকে গেছে সারা বিশ্ব। দেশের আমদানি-রপ্তানি দূরের কথা, অধিকাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এর বাইরে নয়। ফলে নেতিবাচক অবস্থায় দেশের অর্থনীতি। তাই চলতি বছর ব্যাংক খাতের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ।

করোনা ঠেকাতে বর্তমানে পুরো দেশ ‘লকডাউন’। সীমিত আকারে ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকলেও অন্য সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ। দেশের অন্যতম রপ্তানি আয়ের খাত পোশাক কারখানাও বন্ধ। তাদের রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে একের পর এক। দেশের আরেকটি বড় আয়ের খাত প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ধস শুরু হয়েছে। এ সবই ব্যাংক খাতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন এনসিসি ব্যাংকের এমডি।

মঙ্গলবার ঢাকাটাইমসের সাথে আলাপকালে মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক খাতের সিংহভাগ আয় হয় পোশাক, লেদার, সিরামিক ও ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে। এ ছাড়া আসে রেমিট্যান্স থেকে। সেগুলো এখন থমকে গেছে। কত দিন এ অবস্থা চলবে সেটা বলা যাচ্ছে না। কত দিন পর স্বাভাবিক রেমিট্যান্স আসা শুরু হবে তা বলা মুশকিল। এক অনির্দিষ্ট সংকট বেড়ে যাচ্ছে।

চীন ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। সেখান থেকে কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। এনসিসি ব্যাংক এমডি বলেন, ‘তবে আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা বা কর্মরত শ্রমিকরা তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এমনকি যে দেশে রপ্তানি করা হয় সে দেশের অবস্থাও করোনায় বিপর্যস্ত। এ সংকটকালে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা ছাড় দিচ্ছে ব্যাংক।’

সরকার দেশের শ্রমিকদের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে, এটি দিয়ে তিন মাস চলবে বলে মনে করেন এনসিসি ব্যাংক এমডি। বলেন, ‘চলমান অবস্থা কত মাস চলবে বলা যাচ্ছে না। দেশে সব খাতে প্রায় ৬ কোটি মানুষ কর্মরত। তাদের সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কত দিন ভর্তুকি দিয়ে বেতন দেবে। আয় না বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো চলা সম্ভব হবে না।’

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এ ব্যাংকার বলেন, ‘সবচেয়ে সংকটে পড়বে আমাদের দেশের ব্যাংক খাত। কারণ ব্যাংকের যে টাকা আছে, সেটি গ্রাহকের আমানত। উদ্যোক্তাদের কত মাসই-বা আমরা ছাড় দেব। ব্যবসায়ীরা যদি ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারে তবে ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়বে। গ্রাহক তার গচ্ছিত টাকা ফেরত চাইলে ব্যাংক দিতে পারবে না। ব্যাংকের মূলধন যদি ব্যাংক ভেঙে কর্মকর্তাদের বেতন ও আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করে, তাহলে ব্যাংক খাতে যে নগদ অর্থ সংকটে পড়বে তার প্রভাব দেশের সমগ্র অর্থনীতিতে পড়বে। অনেক আমানতকারী আছেন যারা ব্যাংকে রাখা আমানতের বিপরীতে পাওয়া সুদ থেকে সংসার চালায়। সেটা বাধাগ্রস্ত হবে।’

সব মিলিয়ে ব্যাংক খাত এ বছর সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়বে আশঙ্কা করে মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চতুর্মুখী সংকটে পড়বে ব্যাংক। এ থেকে উত্তরণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সবার দোয়া করা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

এই ক্রান্তিকালে ব্যাংক সীমিত আকারে চালু আছে। ব্যাংকাররা অফিস করছেন। তাদের ঝুঁকি রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এনসিসি ব্যাংক এমডি বলেন, ‘আমরা স্টাফদের গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। জীবাণু প্রতিরোধমূলক ড্রেসের ব্যবস্থা করেছি। খাবার নিজেরা সরবরাহ করছি। আরও কীভাবে সুরক্ষা দেয়া যায় ভাবছি আমরা।’

ব্যাংক বন্ধ থাকলে গ্রাহক তার গচ্ছিত টাকা এই আপৎকালে তুলতে পারবে না। এ জন্য ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে রোটেশন ভিত্তিতে। একটি শাখায় যদি ৪০ জন কর্মকর্তা থাকেন, তবে এক দিনে ১০ জন কাজ করছে। অর্থাৎ একজন কর্মকর্তা চার দিন পরপর অফিস করছেন। তার পরও ঝুঁকি রয়েছে। এটি মোকাবেলার চেষ্টা করছে ব্যাংক। জানান এনসিসি ব্যাংক এমডি।

(ঢাকাটাইমস/০১এপ্রিল/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :