দেশে দেশে করোনা আক্রান্ত-মৃত্যু

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৮ | প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৬

আরব্য রজনী কিংবা গ্রীক মিথকেও হার মানাতে চলেছে নোভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা। প্রতিটি রাতেই হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাচ্ছে এর মরণ কামড়ে। অন্তত গত একশ বছরেও পৃথিবীজুড়ে এমন ভয়াবহতার খবর মানুষ শোনেননি। অথচ এরকমই একটি অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন পৃথিবীর ২০৪ দেশের অন্তত সাড়ে সাতশো কোটি মানুষ।

গত তিনমাসের নোভেল কোরোনা (কোভিড-১৯) নামক এই ভাইরাসে সারা পৃথিবীতে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ হাজার ১৬০ জন আর এই সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৪ জন। আর এদেও মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৫ জন। জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ৩৯ হাজার ৩৯১ জন। আর করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮ লাখ ১০ হাজার ৩৫১ জন।

প্রতিদিনই কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উন্নত চিকিৎসাসেবার দেশগুলোও থামাতে পারছে না এর মরণ থাবা। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই গণমাধ্যমের কাছে দেয়া নিজের স্বাক্ষাৎকারে বলেন, এটা একটা নিরব যুদ্ধ, এই যুদ্ধে জেতার জন্য পৃথিবীর সব মানুষকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে। আর মানব জাতির ঐকান্তিক চেষ্টায় কেবল করোনা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

সর্বাধিক প্রাণহানি

মৃত্যু আর করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশই ভারি কওে তুলেছে ইতালির বাতাস। যেন নীরবে কেঁদে চলেছে ইউরোপের এই দেশটি। চীনে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইতালিতে। এখন পর্যন্ত সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪ হাজার ৬৮১ জন।দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোন আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৭ জন। এই ভয়াবহ প্রাণহানি ইতালিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধসহ পুরো দেশটি লকডাউন করা হয়েছে বেশ আগেই।

ইতালির পর করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রাণহানি হয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৯৮ জন মানুষের, আর মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ জন। স্পেনে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬ হাজার ৪১৬ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

করোনা আক্রান্তের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন মুল্লুকে। এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৭ হাজার ৩৯২ জন মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর মার্কিন মুল্লুকেই সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৬১ জন। ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৭৮৭ জনের অবস্থা বেশি শোচনীয়।

করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যু কোনোভাবেই কমছে না ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে। মৃত্যুও ভয়বহতা মার্কিনিদেরও পরেই রয়েছে দেশটি। ফ্রান্সে করোনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৫০৭ জন। দেশটির মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪ হজার ৩৩৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৩ হাজার ৮২৩ জন। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৬৬২ জনের অবস্থা আশঙ্কজনক। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধসহ পুরো দেশটি লক ডাউন করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল খোদ চীনকেও ছাড়িয়ে যাওয়া চতুর্থ রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৬০৫ জন। আর কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে শুধু শেষ চব্বিশ ঘন্টায় মারা গেছে ৬৮৪ জন। সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৬৩ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

মৃত্যুও ভয়াবহতার হিসেবে যুক্তরাজ্যের পরেই চীনের স্থান হলেও করোনায় মৃত্যুকে ঠেকিয়ে দিয়েছে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল দেশটি। চীনে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৬২০ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩২২ জনের। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৭৬ হাজার ৫৭১ জন। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ৭২৭ জন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক ৩৭৯ জন।

চীনের পর করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে আমেরিকার উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞার খড়গে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে। ইরানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৯৪ জন। মোট আক্রান্ত রোগীর সংখা ৫৩ হাজার ১৮৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩১ হাজার ৯৫৪ জন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন ৪ হাজার ৩৫ জন ।

আক্রন্ত আর মৃত্যুর তালিকা ক্রমশই দীর্ঘ হচ্ছে নেদারর‌্যান্ডসের। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ১ হাজার ৪৮৭ জন, আর মোট আক্রান্ত ১৫ হাজার ৭২৩ জন। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২২ জন আক্রান্ত হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায়।

মৃত্যুও বয়বহতার দিক থেকে ৯ ও ১০ আছে জার্মানী ও বেলজিয়াম। এই দুটি দেশেই হাজার ছাড়িয়েছে করোনায় মৃত্যু। জার্মানীতে মারা গেছে ১ হাজার ২৩০ জন আর বেলজিয়ামে ১ হাজার ১৪৩ জন। আর দেশ দুটিতে আক্রান্ত যথাক্রমে, জার্মানী ৯০ হাজার ৯৬৪ জন ও বেলজিয়ামে ১৬ হাজার ৭৭০ জন।

করোনরা প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও, গতকাল দুপুরে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানানো হয়। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ২৬ জন।

এছাড়া বিকেলে চট্টগ্রামে নগরীর ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত একজন রোগীর সন্ধান মিলেছে। এটিসহ বাংলাদেশে মোট ৬২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে।

সর্বাধিক আক্রান্ত দেশসমূহ

করোনায় সর্বাধিক আক্রান্ত দেশসমূহ ক্রমান্বয়ে- ১. যুক্তরাষ্ট্র (২,৭৭,১৬১)। ২. ইতালি (১,১৯,৮২৭)। ৩. স্পেন (১,১৯,১৯৯)। ৪. জার্মানী (৯১,১৫৯)। ৫. চীন (৮১,৬৩৯)। ৬. ফ্রান্স (৬৪,৩৩৮)। ৭. ইরান (৫৩,১৮৩)। ৮. যুক্তরাজ্য (৩৮,১৬৮)। ৯. তুরষ্ক (২০,৯২১)। ১০. সুইজারল্যান্ড (১৯,৬০৬) জন। ১১. বেলজিয়াম (১৬,৭৭০)। ১২. নেদারল্যান্ডস (১৫,৭২৩)। ১৩. কানাডা (১২,৩৭৫)। ১৪. অস্ট্রিয়া (১১,৫০৬) ও ১৫. দক্ষিণ কোরিয়া (১০,০৬২) জন।

ঢাকাটাইমস/৪ এপ্রিল/এসআর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :