নানা বিতর্কে মোড়া মহেশ ভাটের জীবন

বিনোদন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৪:০৯
ডানের ছবিতে বড় মেয়ে পূজা ভাটের ঠোঁটে চুমুতে মেতে রয়েছেন মহেশ ভাট। ডানের ছবিটিও তাদের।

মহেশ ভাট। বলিউডের প্রথম সারির একজন পরিচালক তিনি। খ্যাতি রয়েছে প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও। প্রচুর হিট ফিল্ম রয়েছে তার ঝুলিতে। সিনে জীবনে তিনি যতটা নন্দিত, ততটাই নিন্দিত ব্যক্তিগত জীবনে। নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন বার বার। কখনও স্ত্রীকে নিয়ে বিতর্ক, কখনও মেয়ের বয়সী নায়িকার সঙ্গে প্রেম, আবার কখনো নিজের মেয়ের ঠোঁটে চুমু খেয়ে।

ছোট থেকে মায়ের কাছেই মানুষ হয়েছেন মহেশ ভাট। বাবা শব্দটার সঙ্গে পরিচয় হলেও বাবার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা জানতেন না তিনি। কারণ এক অবিবাহিত মুসলিম মায়ের গর্ভে জন্মেছিলেন মহেশ। তার মায়ের নাম শিরিন মোহাম্মদ আলি। তাহলে মহেশ ভাট নাম কীভাবে পেলেন নামী এই পরিচালক?

এ ব্যাপারে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার মা নাকি বলেছিলেন, মহেশের বাবা ছেলের এই নাম রাখতে বলেছিলেন। মহেশ ছোটবেলায় অপেক্ষা করতেন বাবার জন্য। কবে বাবা আসবেন, তার নাম কেন মহেশ রাখলেন তা বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু না! সে অপেক্ষায় কোনো লাভ হয়নি। কারণ কোনো দিনই নাকি মহেশের বাবা ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।

তবে বাবার পরিচয় মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন মহেশ। তার বাবার নাম ছিল নানাভাই ভাট। কিন্তু মহেশের জন্মের পর তার ও তার মায়ের কোনো দায়িত্বই নাকি নেননি নানাভাই।

মাতুঙ্গার ডন বসকো স্কুলে পড়াশোনা করেছেন মহেশ ভাট। স্কুলে পড়াকালীন উপার্জন করা শুরু করেছিলেন। গরমের ছুটিতে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ করতেন অর্থ উপার্জনের জন্য। পাশাপাশি আবার ওই সময় থেকেই বিজ্ঞাপন তৈরির কাজও টুকটাক করতেন।

মহেশ ভাটের প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল কিরণ। তিনি ছিলেন তার স্কুল জীবনের বন্ধু। কিরণের প্রকৃত নাম লরেন ব্রাইট। পরে তিনি নাম বদলে ফেলেন। কিরণ আর মহেশের দুই সন্তান মেয়ে পূজা ভাট এবং ছেলে রাহুল ভাট। কিন্তু কিরণের সঙ্গে মহেশের বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না বলেই বলিউডে গুঞ্জন।

সে সময় বলিউডের সুপার হিট নায়িকা পারভিন ববির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মহেশ ভাট। পারভিন ববি পরে মানসিকভাবে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। বলিউডে গুঞ্জন, ‘আশিকী’ এবং ‘ওহ লম্‌হে’ ছবি দুইটা নাকি স্ত্রী কিরণ এবং পারভিন ববির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তৈরি করেছেন মহেশ ভাট।

পারভিন ববি যখন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন মহেশের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবসানও ঘচে। মহেশ ভাট তখন সোনি রাজদান নামে এক অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েন। সেই সোনি রাজদানের মেয়েই বর্তমান সময়ের সুপারহিট নায়িকা আলিয়া ভাট।

১৯৮৬ সালে সোনি রাজদানকে বিয়ে করেন মহেশ ভাট। কিন্তু তখনও প্রথম স্ত্রী কিরণের সঙ্গে তার আইনত ডিভোর্স হয়নি। তাড়াতাড়ি বিয়েটা করার জন্য তিনি মায়ের মুসলিম ধর্মের সাহায্য নিয়েছিলেন।

গত বছর ৭০ বছর বয়সী মহেশের সঙ্গে ২৬ বছর বয়সী অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর সম্পর্ক নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়। অভিনেত্রী রিয়া দুজনের একটা অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন আমার বুড়ো, মহেশ স্যার। তুমি ভালোবেসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছো, তুমি আমার চিরকালের মতো গুটিয়ে রাখা ডানা খুলে দিয়েছো, আমাকে উড়তে শিখিয়েছো। আর কোনো শব্দ আসছে না, তোমাকে ভালোবাসি।’

এই পোস্টের জেরে রিয়াকে যথেষ্ট সমালোচিত হতে হয়েছিল। পরে অবশ্য তিনি বলেন, মহেশ ভাট তার শিক্ষক। তার বাবার মতো। কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি নিন্দার স্রোত।

তবে মহেশের জীবনের সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয়েছিল বড় মেয়ে অভিনেত্রী পূজা ভাটকে ঘিরে। একটি ম্যাগাজিনের কভার ফটোশুটে মেয়ে পূজার সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ হয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি। মেয়েকে কোলে বসিয়ে ঠোঁটে চুমু খাচ্ছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে মহেশ লিখেছিলেন, ‘পূজা যদি আমার মেয়ে না হত, তাহলে আমি তাকে বিয়ে করতাম।’

সেই ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সারা ভারতজুড়ে তুমুল সমালোচনার শিকার হন তারা দুজনেই। কিন্তু এত বিতর্কের পরও মহেশ ভাট বা পূজা ভাট কেউই এই ছবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তাতে আরও বেশি অবাক হয়েছিলেন ভারতবাসী। ফলে এখনও তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রয়েই গেছে।

ঢাকাটাইমস/০৭এপ্রিল/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :