করোনা পরিস্থিতি বনাম পাট খাতে অবহেলা

ইশরাত জাহান চৌধুরী
| আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৩৪ | প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৩

আমরা যখন পাট দিয়ে তৈরি একটি ব্যাগ ৫০ টাকাতেও বিক্রি করি, তা থেকে ভাগ পেয়ে যান সেই চাষি ভাই , যিনি পাটের বীজটি বপন করেছেন, যিনি সুতা বুনেছেন, যিনি সেই পাটের সুতা থেকে ফেব্রিক তৈরি করেছেন।

পাট দিয়ে তৈরি প্রতিটা পণ্য আমাদের একদম নিজস্ব, আমাদেরই পণ্য। ৩০ লাখ কৃষকসহ সর্বমোট ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাটশিল্পের সঙ্গে জড়িত।

করনাভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব স্থবির, আমাদের মতো ছোট এই দেশ দিশেহারা। কীভাবে আমরা ঘুরে দাঁড়াব? দেশের এত এত লোক যখন বেকার হয়ে যাবে, কীভাবে তারা তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করবে!

আমাদের সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে। সব টকশো, সবার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু গার্মেন্ট সেক্টর। আমরা কখনো তুলা আমদানি করে, কখনো কাপড় আমদানি করে পোশাক বানিয়ে রপ্তানি করছি।

কিন্তু যেটা আমাদের আছে, আমাদের একদমই নিজস্ব, কিছু আমদানি করার প্রয়োজন আমাদের পড়ে না। আমাদের আছে উর্বর জমি, দক্ষ শ্রমিক, কঠিন মনোবল সম্পন্ন জনবল। আমরা কি এই পরিস্থিতিতে ভেবেছি আমাদের এই ঐতিহ্যটা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়? শুধু বাঁচিয়ে রাখা না, আমরা যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করি শুধু পাট দিয়ে আমরা সারাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করে ফেলতে পারি।

করোনা আমাদের শিখিয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবী আস্তে আস্তে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করছে। আমরা যদি আমাদের এই দেশীয় পাটের প্রতি ভালোবাসা আন্তরিকতা ঢেলে দেই, পাটশিল্পকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করি, এই দুর্দিনে এটাই হতে পারে আমাদের শক্তি, আমাদের সফলতা। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই এর সুফল ভোগ করবে।

অনেকের হয়তো জানা নেই, পাটগাছ প্রতি হেক্টরে ১৪.৬৬ টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, আর ১০.৬৬ টন অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুমণ্ডলে।পাট উৎপাদনে চার মাস সময় প্রয়োজন হয়, তারপর সেই জমিতে অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা যায় এমনকি পাটের পাতা পচে মাটিকে আরো উর্বর করে দেয়।

আমার আহ্বান, চলুন দেশকে ভালোবাসি, দেশের পণ্যকে ভালোবাসি। যে কৃষকরা পাট চাষের সাথে জড়িত, তাদের বাঁচিয়ে রাখি। যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পাটের সাথে জড়িত, তারা যেন হারিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা করি। দেশীয় পণ্য ব্যবহার করি। পাট নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা শুরু করি বৃহৎ আকারে। গার্মেন্টস শিল্পকে যেন ছাড়িয়ে যায় পাটশিল্প এই দেশে সেটা বাস্তবায়নে কাজ করি।

লেখক: বহুমুখী পাটপণ্য প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তুলিকার স্বত্বাধিকারী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :